ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধসে পড়ল ৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’


ধসে পড়ল ৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে প্রায় ৫৫০ বছর ধরে অবস্থানরত হাওয়াইয়ের বিখ্যাত প্রাকৃতিক খিলান ‘হোলে সি আর্চ’ অবশেষে ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে গঠিত প্রায় ৯০ ফুট উঁচু এই প্রাকৃতিক স্থাপনা সমুদ্রের ঢেউ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষয়ের কারণে ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বরেও খিলানটি অক্ষত ছিল। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি ধসে পড়েছে।

হাওয়াই দ্বীপের হাওয়াই ভলকানোস ন্যাশনাল পার্কের চেইন অব ক্রেটার্স রোডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করতেন। খিলানটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ছিল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলোর প্রভাবে পার্কের বিভিন্ন এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পার্কের বেশিরভাগ অংশ খুলে দেওয়া হয়। তখনই জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিচিত হোলে সি আর্চ আর নেই। তবে এটি ঠিক কখন ধসে পড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রায় ৫৫০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি পাথরের স্তরে প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খিলানটির সৃষ্টি হয়েছিল। নরম ও শক্ত পাথরের অংশ সমানভাবে ক্ষয় না হওয়ায় সমুদ্রের ঢেউ ধীরে ধীরে পাথর কেটে খিলানের আকৃতি তৈরি করে। ভূতত্ত্বের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিফারেনশিয়াল ইরোশন’। বছরের পর বছর ঢেউ, বাতাস এবং আবহাওয়ার প্রভাবে কাঠামোটি দুর্বল হয়ে পড়ে। অবশেষে অবশিষ্ট অংশটুকুও ভেঙে সমুদ্রে পড়ে যায়।

খিলানটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বহু বছর ধরেই ছিল। ২০১৮ সালে কিলাউয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও সংশ্লিষ্ট ভূমিকম্পের ফলে আশপাশের পাথুরে এলাকায় ফাটল সৃষ্টি হয় এবং উপকূলের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে ফাটল ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুরোনো পর্যবেক্ষণ এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই বছরের মার্চ মাসে খিলান থেকে দূরে একটি নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা তৈরি করা হয়।

২০২০ সালের পর ট্রপিক্যাল স্টর্ম ডার্বির সময় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে খিলানটির নিচের অংশ থেকে বড় একটি পাথরের খণ্ড ভেঙে পড়ে। তখনই কাঠামোটির দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসও সতর্ক করেছিল, প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে একদিন খিলানটি ধসে পড়তে পারে। অবশেষে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

‘হোলে সি আর্চ’ নামটির পেছনে স্থানীয় প্রকৃতির ইতিহাস রয়েছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘হোলে’ স্থানীয় একটি উদ্ভিদের নাম, যার বৈজ্ঞানিক পরিচয় ওক্রোসিয়া। সেই উদ্ভিদের নাম থেকেই খিলানটির নামকরণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সমুদ্রের ঢেউয়ে লাভার পাথর ক্ষয় হয়ে খিলানের মতো আকৃতি তৈরি হওয়ায় এর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘সি আর্চ’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের খিলান দেখতে শক্ত ও স্থায়ী মনে হলেও এগুলো প্রকৃতপক্ষে ক্ষয়শীল ভূপ্রাকৃতিক কাঠামো। সময়ের সঙ্গে খিলান ভেঙে পাথরের স্তূপ বা বিচ্ছিন্ন সমুদ্র-স্তম্ভ তৈরি হতে পারে। একই উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন খিলানও সৃষ্টি হতে পারে।

হোলে সি আর্চ ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জায়গাটির পুরোনো ছবি ও স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে পরিচিত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী ধরে প্রকৃতির নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকা খিলানটির পতন আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়; অবিরাম ক্ষয়ের কাছে একসময় হার মানতে হয় পাথরের তৈরি বিস্ময়কেও।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে কলেজের প্রাঙ্গণে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সদর) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমতাজুর রহমান, বিজিবিএমএস, সিপিএমএস, এনডিইউ, পিএসসি। কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল ড. মো. তাজুল ইসলাম, এমফিল, শ্রীউন্নতি, এইচএসসি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ২০২৬-এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান অতিথি তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। কৃতী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলা মাধ্যমের দুইজন এবং ইংরেজি ভার্সনের দুইজন কৃতী শিক্ষার্থী তাঁদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমতাজুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "ভালো ফলাফল শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।" অর্জিত সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়ম-শৃঙ্খলা, সততা, পরিশ্রম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল ড. মো. তাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "জিপিএ-৫ অর্জন একটি মাইলফলক। তবে জীবনের প্রকৃত সাফল্যের জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ।"

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে কলেজের শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। লালনগীতি ও নৃত্য পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। এসব পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আনন্দিত করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালালে ১৪ কেজি সোনাসহ এক মালয়েশিয়ান ও দুই বিমানকর্মী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪০ পি.এম


শাহজালালে ১৪ কেজি সোনাসহ এক মালয়েশিয়ান ও দুই বিমানকর্মী গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একদিনের মধ্যে দুটি বড় অবৈধ সোনার চালান জব্দ করেছে। পৃথক এই দুই অভিযানে ধরা পড়েছেন মালয়েশিয়ার একজন নাগরিক এবং দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মী; উদ্ধার হয়েছে মোট ১৪ কেজি সোনা।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসে আসা ওই যাত্রীর কাছে পাওয়া গেছে ৪.৫ কেজি সোনা, অন্যদিকে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯.৩৪ কেজি সোনা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত মোট ১৩.৮৪ কেজি সোনার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার বেশি।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিমানবন্দরে এই অভিযান পরিচালনা করেছে, যা এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা ‘এমিরাটস এয়ারলাইনসের ইকে ০৫৮২’ ফ্লাইটের রানওয়েতে দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন প্রায় ৯.৩৪ কেজি, যার বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।

বিমানকর্মীদের জুতার ভেতরে সোনার বার লুকিয়ে চোরাচালানের এই কৌশল সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। তারা তদন্ত করছেন, বিমানকর্মীদের মাধ্যমে সোনা পাচারের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না।

অন্যদিকে, শনিবার দিবাগত রাতে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪.৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টমস হাউস। আটক যাত্রীর নাম মি. ইয়াং ডন সিউ, যিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে তিনি ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তার শরীরে বিশেষ কায়দায় বহন করা সোনার বারের সন্ধান পাওয়া যায়। আনুমানিক রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তার শরীর থেকে ৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য ৮ কোটি টাকা হতে পারে।

সোনার বারগুলো একটি কালো কাপড়ের বেল্টে মোড়ানো অবস্থায় তার শার্টের নিচে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ওই যাত্রী কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি এবং সোনার বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা দলিলও দেখাতে পারেননি। উভয় ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪১ পি.এম


দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু

পরীক্ষার হলে খাতা-কলমের অভাব, প্রশ্নপত্রের স্তূপ নেই। শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সাহায্যে সরাসরি ডিজিটাল প্লাটফর্মে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। পরীক্ষার শেষে ফলাফলও দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কাগজনির্ভর পরীক্ষার পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এ পরীক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেছে। এটি দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ পদ্ধতিতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির এ সিস্টেম তৈরি করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’-এ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্লাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দিতে পারবেন এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল, ভুল উত্তরের সঠিক উত্তর এবং ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন।

উদ্ভাবকদের তথ্য অনুযায়ী, সিস্টেমটিতে একটি সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক রয়েছে, যা শিক্ষকদের জন্য প্রশ্ন তৈরি ও একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা সহজ করে। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের ফলে খাতা দেখার সময় কমে যাবে, ফলাফল দ্রুত প্রকাশিত হবে এবং মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

এছাড়া, প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে কাগজের ব্যবহার, সময়ের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে।

আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শনের বিষয়টি আমার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। এ ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি নকল প্রতিরোধ ও সঠিক মূল্যায়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি জানান, ‘ই-এক্সাম আমাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। ফলে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষার পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী।’

পদ্ধতিটির তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পরীক্ষা পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন ও আধুনিক পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন, ফলাফল প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অধিকতর সহজ ও সুবিধাজনক ব্যবস্থাপনা।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আইসিই বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় চেষ্টা করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর শিক্ষা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার মজুতের ঘটনায় জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪১ পি.এম


সার মজুতের ঘটনায় জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত বাতিল

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত করার ঘটনায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর-২ মো. মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত (সদস্য পদ) বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে তিনি সংগঠনটির নায়েবে আমীর-২ পদে আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, রুকন বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য সংগঠনের সর্বোচ্চ স্তরের সদস্যপদ। একজন কর্মী নির্ধারিত সাংগঠনিক ও নৈতিক শর্ত পূরণ করে রুকন হলে তিনি এই সদস্যপদ লাভ করেন।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, "মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত বাতিল করা হয়েছে। রুকনিয়াত বাতিল হওয়ার ফলে তিনি আর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।"

এর আগে গত ১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে মনিরুল ইসলামের সার গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বিনির্দেশবহির্ভূতভাবে সার গুদামজাত করার অভিযোগে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে গুদামে মজুত করা ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার সরকারের অনুকূলে জব্দ করা হয়।

মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%