ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে সাধুসঙ্গে নিজেদের ও অজানাকে জানছেন ভক্তরা


লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে সাধুসঙ্গে নিজেদের ও অজানাকে জানছেন ভক্তরা

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এই আধ্যাত্মিক বাণীকে সামনে রেখে লালন ফকিরের ভবের হাটে একতারা, দোতারা এবং ঢোল বাশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে।

জাতপাতের ভেদাভেদ ভুলে লালন ভক্তরা নিজেদের এবং অজানাকে জানার চেষ্টা করছেন। মহাগুরু ফকির লালনের রীতি অনুসরণ করে সাধু সঙ্গে দীক্ষা গ্রহণ করেছেন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে লালন ফকিরের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে পুণ্য সেবার মাধ্যমে সাধুসঙ্গ সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল (১৯ অক্টোবর) এই লালন স্মরণোৎসব শেষ হবে।

আধ্যাত্মিক জগতের অন্যতম প্রভাবশালী সাধক ফকির লালন তার জীবদ্দশায় দৌল পূর্ণিমার তিথিতে ভক্তদের সঙ্গে সাধু সঙ্গ করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার দেহত্যাগের পর অনুসারীরা তার রীতি মেনে সাধু সঙ্গ শুরু করেন। পরবর্তীতে লালন একাডেমি এই উৎসবকে অব্যাহত রেখেছে। ১৩৬ বছর ধরে চলা এই সাধুসঙ্গের উৎসব এখন বিশাল লালন স্মরণোৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারের উৎসবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দেশ-বিদেশি ভক্তরা ভবের হাটে সমবেত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাধু সঙ্গে বাল্য, রাখাল ও পুণ্য সেবার মাধ্যমে মনের হিংসা ও রাগ দূর করতে মহাগুরু লালনের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। এভাবে তারা নিজেদেরকে খাটি করে তুলছেন। ভক্তরা বলছেন, লালন ফকিরই সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে একত্রিত করার প্রেরণা দিয়েছেন।

প্রতিনিয়ত আখড়াবাড়ির ভেতরে খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার চলছে। রাতে আখড়াবাড়ির বাইরে মূল মঞ্চে লালন দর্শনের আলোচনা ও গান গানের মাধ্যমে বাণী প্রচার করা হচ্ছে। লালন অ্যাকাডেমির মাঠে বাউল মেলা চলছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সবাই এক মহা সম্মিলনে মেতে উঠেছেন।

লালন বিশ্লেষক হৃদয় শাহা ফকির মন্তব্য করেন, "নিজেকে জানতে ও যখনই প্রয়োজন হয়, মানুষ এভাবে ভবের হাটে জড়ো হয়।"

ভক্তরা বলছেন, লালনের বাণী ছড়িয়ে দিতে পারলেই এই উৎসব সার্থক হবে।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদে সই করার কারণ জানতে চাইলেন রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


জুলাই সনদে সই করার কারণ জানতে চাইলেন রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল বিএনপিসহ কয়েকটি দলের ভিন্নমতের সঙ্গে একমত হয়ে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোন কারণে ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ জামায়াত সনদে স্বাক্ষর করেছে।

রাশেদ খাঁন লেখেন, জামায়াতে ইসলামী জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল বেশ কয়েকটি দলের ভিন্নমতের সাথে একমত হয়ে। জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আয়োজনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগের দিন জামায়াতে ইসলামী বলেছিলো, পিআর ছাড়া তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। কিন্তু পরদিন তারা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সবার আগে গিয়ে বসেছিল স্বাক্ষরের জন্য।

তিনি পোস্টে লেখেন, "জানি না, কোন কারণে বুকে পাথর চাপা দিয়ে জামায়াতে ইসলামী জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল!" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাদের কষ্টের পরও তারা স্বাক্ষর করার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদে থাকা ভিন্নমত বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, "তবে এনসিপি সনদে স্বাক্ষর না করে তারা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছিল। কিন্তু পরে তারাও স্বাক্ষর করে ভিন্নমত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের স্বীকৃতি প্রদান করে। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম দফাতেই উল্লেখ আছে, জনগণের ম্যানডেট পেলে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।"

তিনি লেখেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন থেকেই স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। কিন্তু সকল দলের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভিন্নমত বিতর্কের যে অবসান ঘটেছে, সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এনে সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা উঠল ‘বেগম খালেদা জিয়া’ আইএইচএফ নেশনস ট্রফির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা উঠল ‘বেগম খালেদা জিয়া’ আইএইচএফ নেশনস ট্রফির

রাজধানীতে চার জাতি আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি’র পর্দা উঠেছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবমুখর আবহে।

আজ সকালে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের (আইএইচএফ) সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় করা হয়।

উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে। প্রথম খেলায় স্বাগতিক বাংলাদেশ ও নেপাল দুপুর ২টায় মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপ ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

তিনি উদ্বোধন ঘোষণার পর রঙিন বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আসরের সূচনা করেন। এরপর মাঠের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১৫ মিনিটের একটি মনোমুগ্ধকর দলীয় নৃত্য ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী পরিবেশন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, "আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর আয়োজন বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরবের।" তিনি উল্লেখ করেন, স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ ও নেপালের নারী সিনিয়র দলগুলোকে এক মঞ্চে নিয়ে আসার এই প্রয়াস আঞ্চলিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।

তিনি খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে বলেন, ‘অংশগ্রহণকারী নারী খেলোয়াড়রা শক্তি, অধ্যবসায় এবং ক্রীড়াপ্রেমের প্রতীক। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেশের তরুণ সমাজকে ক্ষমতায়িত করতে এবং সর্বস্তরে খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারী হ্যান্ডবলে চমৎকার অগ্রগতি হচ্ছে এবং এ ধরনের আন্তর্জাতিক আসর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অ্যাথলেটদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।’ তিনি সকল দলকে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বজায় রেখে সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ বলেন, "বাংলাদেশ আজ আবারও আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে আবির্ভূত হয়েছে।"

তিনি টুর্নামেন্টের নামকরণের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা গর্বের সঙ্গে এই টুর্নামেন্টটি উৎসর্গ করেছি বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে। যিনি নারীর ক্ষমতায়ন, সমান অধিকার, মর্যাদা এবং সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী—যা আমাদের জন্য চিরন্তন প্রেরণা।’

তিনি আরও যোগ করেন, আইএইচএফ নেশনস ট্রফি কেবল ট্রফি বা পদকের প্রতিযোগিতা নয়; এটি নারীর সাহস, শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সংগ্রাম ও নেতৃত্বের এক মহিমান্বিত উদযাপন। এই আয়োজন বাংলাদেশ এবং এশিয়া জোন–২-এ নারী হ্যান্ডবলের বিকাশে নতুন গতি ও নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সিঙ্গেল রাউন্ড-রবিন লিগ পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ অংশগ্রহণ করছে। ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে লিগ পর্বের ম্যাচগুলো। এরপর ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ২২ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই আন্তর্জাতিক আসরের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান

বিয়ের পর পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা এবং সংসারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা সমাজে দেখা যায়। অনেক পরিবারে ছেলের বিয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে মা-বাবার সেবা করানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে ইসলামের বিধান কী? পুত্রবধূর জন্য কি শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা বাধ্যতামূলক?

ইসলামিক আইন ও ফিকহের মৌলিক নীতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জন্মদাতা মা-বাবার দেখাশোনা ও প্রয়োজনীয় খেদমত করার দায়িত্ব একমাত্র সন্তানের, পুত্রবধূর নয় (আল-বাহরুর রায়েক : ৪/১৯৩; কিফায়াতুল মুফতি : ৫/২৩০)।

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা পুত্রবধূর সদিচ্ছা ও মানবিকতার বিষয়। যদি তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের সেবা করেন, তবে তা প্রশংসনীয়। তবে সেবা না করলেই তাকে ধর্মীয়ভাবে অপরাধী বলা যায় না।

মা-বাবার সেবার দায়িত্ব কার?

ইসলামে মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ও তাদের দেখাশোনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সন্তানের মা-বাবার সেবার দায়িত্ব মূলত তাদের নিজের সন্তানের। ছেলের মা-বাবার প্রয়োজন হলে, সেই দায়িত্ব পালন করা ছেলের কর্তব্য। স্ত্রীর ওপর জোর করে সেই দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

যদি পুত্রবধূ ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করেন, তবে এটি পরিবারের সম্পর্ককে সুন্দর করে। এমন আচরণ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা বাড়ায়।

স্ত্রীর আলাদা থাকার অধিকার আছে কি?

বিয়ের পর স্ত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপদে বসবাসের অধিকার রয়েছে। হানাফি ফিকহের বহু আলেমের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বামীর সামর্থ্য ও স্ত্রীর প্রয়োজন বিবেচনায় তার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগত আবাসনের ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব। এর মানে সব পরিস্থিতিতে আলাদা বাড়ি দিতে হবে—এমন নয়; তবে স্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

আর্থিক সামর্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং প্রচলিত রীতির ভিত্তিতে আবাসনের ধরন ভিন্ন হতে পারে। একই বাড়িতে থাকলেও স্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিসর যেন অক্ষুণ্ন থাকে এবং তার ন্যায্য অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে স্বামীকে সচেতন থাকতে হবে।

শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে এক বাড়িতে থাকা নিজে থেকে অন্যায় নয়। বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস সুন্দর হতে পারে। তবে কারও ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা পারিবারিক অশান্তির কারণ হতে পারে।

পুত্রবধূর প্রতি শ্বশুর-শাশুড়ির আচরণ কেমন হওয়া উচিত? ইসলাম শুধু দায়িত্ব ও অধিকারের কথাই বলে না; পারস্পরিক সদাচরণ, দয়া ও সম্মানের শিক্ষাও দেয়। তাই শ্বশুর-শাশুড়ির উচিত পুত্রবধূকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সম্মান করা, তার ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করার চেষ্টা করা।

একইভাবে পুত্রবধূরও উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ভদ্রতা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করা। তবে সম্মান দেখানো এবং সব ধরনের সেবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া এক বিষয় নয়। পরিবারের সবার উচিত দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং একে অন্যের সীমাবদ্ধতা বোঝা।

ইতিহাসে সাহাবিদের জীবনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার বহু নিদর্শন পাওয়া যায়। সুনানে আবু দাউদের ৭৫ নম্বর হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, কাবশা বিনতে কাব বিন মালেক (রা.) ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু কাতাদা (রা.)-এর পুত্রবধূ। আবু কাতাদা (রা.) ঘরে প্রবেশ করে ওজুর পানি খুঁজলে কাবশা (রা.) স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে নিজ হাতে পানি ঢেলে দিয়েছিলেন।

এ বর্ণনায় কাবশা (রা.)-এর সহযোগিতার একটি ঘটনা পাওয়া যায়; তবে এটি পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা বাধ্যতামূলক হওয়ার প্রমাণ নয়।

একটি সুন্দর পরিবার গড়ে ওঠে শুধু নিয়ম বা দায়িত্বের ওপর নয়, বরং ভালোবাসা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। বৃদ্ধ মা-বাবার যত্ন নেওয়া যেমন সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তেমনি পুত্রবধূর অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করাও জরুরি।

সুতরাং, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাকে পুত্রবধূর ওপর জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। পুত্রবধূ স্বেচ্ছায় সেবা করলে সেটিকে মূল্যায়ন করতে হবে, আর তিনি তা করতে না পারলে তার অধিকার ও মর্যাদার প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাই পারে পরিবারে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশজুড়ে ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নির্বিঘ্ন রাখতে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নজরদারি জোরদার করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে টহল, জেলেদের সচেতন করা এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ইলিশ সংরক্ষণে কাজ করছে সংস্থাটি।

গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে কার্যকর হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ সময়ে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের চারটি জোনের আওতাধীন বিভিন্ন স্টেশন ও আউটপোস্ট থেকে নদ-নদী, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রসীমায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারের জন্য প্রতি ২৫ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৭১৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ হাজার ১৬৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৮ হাজার ৭৬২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ হাজার ৪১১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৬ হাজার ১২৬ জন।

কোস্ট গার্ডের সূত্র জানায়, সংস্থাটির আওতাধীন ১৬টি জেলার ৫৪টি উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত ও বিশেষ টহল এবং সন্দেহজনক নৌযান ও মাছ ধরার বোটে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাটের শরণখোলা ও বগী, চট্টগ্রামের বহির্নোঙর এলাকা এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও কমলনগরে তুলনামূলক বেশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযানে জাল, মাছ ও নৌকা জব্দ

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড এ পর্যন্ত ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ মিটার জাল, ১৫৫ কেজি ইলিশ মাছ ও ১৪টি নৌকা জব্দ করেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ২৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের সূত্র জানায়, মৎস্য প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জব্দ করা জাল বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ এবং নৌকাগুলো সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের মাছ ধরার ট্রলার যাতে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ আহরণ করতে না পারে, সেজন্য টহলরত জাহাজগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রেখে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

দুর্গম এলাকায় অবৈধ মাছ শিকার ঠেকানো কোস্ট গার্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দুর্গম নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় রাতের আঁধারে গোপনে মাছ ধরা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

জেলেদের সচেতন করার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জেলেদের বোঝানো হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাও বেশি পরিমাণে ইলিশ আহরণের সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা এবং প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা এ মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অবৈধ মাছ শিকারের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন।

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন বা এ-সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে চলমান এ অভিযানের সফলতা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হবে।

এ বিষয়ে ভোলার চরফ্যাশনের জেলে বুরহান উদ্দিন বলেন, "ইলিশের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন হবে। এতে জেলেরাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এ সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রায় যেন কষ্ট না হয়, সেজন্য সরকার খাদ্যসহায়তাও প্রদান করছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী বলেন, "মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ উদ্যোগ। তবে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা আরও কার্যকর করতে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২২ দিন থেকে বাড়িয়ে এক মাস করা প্রয়োজন। কারণ, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ডিমওয়ালা ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়তে দেখা যায়।"

তিনি বলেন, "মা ইলিশ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা প্রশংসনীয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে একশ্রেণির অসাধু জেলে আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারে নামেন। এ সময়ে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল ও অভিযান অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ বন্ধ এবং মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।"

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, "মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ আহরণ বন্ধে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে।"

তিনি বলেন, "ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই মিলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি এবং মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করি।" সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%