প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় নানা ধরনের দর্শনীয় স্থান বিদ্যমান। কিছু স্থানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা যায়, আবার অন্যদিকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঢাকার নিকটবর্তী অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মানিকগঞ্জও এমন একটি জেলা। ঐতিহাসিক স্থাপনা, জমিদারবাড়ি এবং বিনোদন কেন্দ্রের কারণে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জেলাটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
মানিকগঞ্জে ভ্রমণের সময় যে স্থানগুলো দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি স্থান হলো—
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে কারুকার্য খচিত সাতটি দালান।
কালের পরিবর্তনে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর নির্মাণশৈলী এখনও দর্শকদের আকর্ষণ করে।
ঢাকার গুলিস্তান থেকে পাটুরিয়া-মানিকগঞ্জগামী বাসে প্রায় দুই ঘণ্টায় কালামপুর পৌঁছানো সম্ভব। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা সাটুরিয়ার বাসে করে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে পৌঁছানো যায়।
এছাড়া গাবতলী-আমিনবাজার থেকে সরাসরি সাটুরিয়ার বাস পাওয়া যায়। সাটুরিয়া থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে মাত্র পাঁচ মিনিটেই বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব। বঙ্গবাজার থেকেও সাটুরিয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়।
তেওতা জমিদার বাড়ি
শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তীরে সবুজে ঘেরা তেওতা গ্রামে অবস্থিত তেওতা জমিদার বাড়ি দেশের পুরাকীর্তির অন্যতম। এই স্থাপনাটি এখনও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জমিদার বাড়ির আঙিনায় রয়েছে নবরত্ন মঠ, যা জমিদার শ্যামশংকর রায় নির্মাণ করেছিলেন। এক সময় অনেক দূর থেকে এই মঠটি দেখা যেত।
ঢাকা থেকে বাসে আরিচা ঘাটে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তেওতা গ্রামে যাওয়া সম্ভব। চাইলে নদীপথেও সেখানে পৌঁছানো যায়।
বেতিলা জমিদার বাড়ি
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে অবস্থিত বেতিলা জমিদার বাড়ির নির্মাণকাল ও নির্মাণের পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।
একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, সত্য বাবু নামে এক বণিক যাতায়াতের সুবিধার জন্য এখানে বাড়িটি নির্মাণ করেন। পরে তার বসতবাড়িই লোকমুখে বেতিলা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিতি পায়। স্থানীয়দের আরেকটি দাবি হলো, কলকাতার বণিক জ্যোতি বাবু ছিলেন এই জমিদার বাড়ির পূর্বপুরুষ।
মত্ত মঠ
মানিকগঞ্জ জেলা সদরে নিটোল দিঘির পাড়ে প্রায় আড়াইশ বছর আগে নির্মিত হয়েছে মত্ত মঠ। প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই মঠের উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট।
মঠটি নির্মাণের জন্য ইরাক থেকে কারিগর আনা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের পটল গ্রামের হেমসেন নামে এক অত্যাচারী জমিদার তার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর এখানে মঠটি নির্মাণ করেন।
নাহার গার্ডেন
গ্রামীণ ও নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য সাটুরিয়া উপজেলার কামতা গ্রামের নাহার গার্ডেনে যাওয়া যেতে পারে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
নাহার গার্ডেনে ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় তিন হাজার পাখি রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে নয়টি উট, একটি উটপাখি এবং আটটি ময়ূর। শিশুদের জন্য এখানে একটি বড় শিশু পার্কও রয়েছে।
এছাড়া এখানে রয়েছে ছোট-বড় চারটি পুকুর এবং টাইটানিকের আদলে তৈরি একটি জাহাজ।
নাহার গার্ডেনে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। এখানে সাতটি বনভোজনের স্থানও রয়েছে। লোকসংখ্যা ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে এসব স্থান ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন