বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৫ পি.এম
হাঁটু শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, বসা অথবা দাঁড়ানো, এই সব দৈনন্দিন কার্যকলাপে হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনের কিছু অভ্যাস রয়েছে, যা আমরা নিয়মিতভাবে করি, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথা সৃষ্টি না করলেও ধীরে ধীরে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
হাঁটুর সমস্যা শুধুমাত্র বয়স বৃদ্ধির ফল নয় অথবা কোনো আঘাতের কারণে নয়। দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ভুলভাবে ব্যায়াম করা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা কিংবা উপযুক্ত জুতা না পরার মতো অভ্যাসগুলোও হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাহলে জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের কোন অভ্যাসগুলো আপনার হাঁটুর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা
দিনের অধিকাংশ সময় বসে থাকলে হাঁটুকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় উরু ও নিতম্বের পেশি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে হাঁটার সময় হাঁটু পর্যাপ্ত সহায়তা পায় না। দীর্ঘ সময় হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকলে উঠে দাঁড়ানোর সময় শক্তভাব বা আড়ষ্টতা অনুভব হতে পারে।
অতএব, একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে হাঁটাহাঁটি করা অথবা পা হালকাভাবে নড়াচড়া করা উপকারী হতে পারে।
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সিঁড়ি ভাঙা
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা একটি ভালো শারীরিক কার্যকলাপ হতে পারে। তবে শারীরিক সক্ষমতা না থাকলে বারবার অনেক সিঁড়ি ভাঙলে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে যদি আগে থেকেই হাঁটুতে ব্যথা বা পেশি দুর্বল থাকে, তাহলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
সিঁড়ি ব্যবহারের সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে চলা এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।
ওয়ার্ম-আপ ছাড়াই ব্যায়াম শুরু করা
দৌড়ানো, লাফানো বা স্কোয়াটের মতো ব্যায়াম হঠাৎ শুরু করলে পেশি ও জয়েন্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। কয়েক মিনিটের হালকা নড়াচড়া শরীরকে ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।
কঠোর ব্যায়াম শুরুর পূর্বে ওয়ার্ম-আপ করা উচিত। একইসাথে, ব্যায়ামের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো।
ব্যায়ামের সময় হাঁটুর ব্যথা উপেক্ষা করা
ব্যায়ামের পর সামান্য পেশির ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু হাঁটুর ব্যথা যদি বারবার হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা ক্রমেই বাড়তে থাকে, তাহলে সেটি অবহেলা করা উচিত নয়।
ব্যথা উপেক্ষা করে একই ধরনের ব্যায়াম চালিয়ে গেলে বিদ্যমান সমস্যা আরও বাড়তে পারে। প্রয়োজনে ব্যায়ামের ধরন বা তীব্রতা কমিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সঠিক সাপোর্ট নেই এমন জুতা পরা
জুতা শুধু পায়ের আরামের বিষয় নয়, এটি হাঁটুর সময় পা ও হাঁটুর ওপর চাপ কিভাবে পড়বে, তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভুল মাপের বা পর্যাপ্ত সাপোর্ট না দেওয়া জুতা হাঁটুর স্বাভাবিক ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় হাঁটা বা ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে আরামদায়ক, সঠিক মাপের এবং কাজের উপযোগী জুতা বেছে নেওয়া উচিত।
একেবারেই শারীরিক পরিশ্রম না করা
হাঁটুর জন্য শুধুমাত্র অতিরিক্ত ব্যায়ামই সমস্যা নয়, একবারেই শরীরচর্চা না করাও ভালো নয়। কোমর ও উরুর পেশি শক্তিশালী থাকলে তা হাঁটুকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।
নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো কম চাপযুক্ত শারীরিক কার্যকলাপ শরীর সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন
শরীরের ওজন বেশি হলে দৈনন্দিন চলাফেরার সময় হাঁটুর ওপর চাপও বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হাঁটুর অস্বস্তি এবং অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
স্কোয়াট বা ভারোত্তোলনের ভুল কৌশল
স্কোয়াট, লাঞ্জ বা ভারত্তোলনের সময় সঠিক কৌশল না মানলে হাঁটুর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারী ওজন নিয়ে বারবার একই ব্যায়াম করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাহলে ওজন বা ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানোর আগে সঠিক কৌশল শেখা অত্যন্ত জরুরি। নতুন করে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম শুরু করলে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে সঠিক পদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব, তবে এজন্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে। যদিও ক্যানসার সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও ক্যানসারের বিভিন্ন বাহ্যিক ও পরিবেশগত কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মরণব্যাধি এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে কিছু অভ্যাসের কারণে। চিকিৎসকরা জানান, ক্যানসার নিরাময় বা নির্মূল হবে— এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
ক্যানসার কখন শরীরে বাসা বাঁধবে, তা আগে থেকে বোঝা খুবই কঠিন। ক্লান্তি বাড়লে অনেকেই মনে করেন এটি অতিরিক্ত কাজের চাপের ফল। কিন্তু যিনি ক্রনিক অম্বল, বদহজম, গ্যাস, পেটে যন্ত্রণা বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তিনি কি কখনো ভেবেছেন যে, এসব লক্ষণ অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে?
শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তি ও অসুখকে অবহেলা করা বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ক্যানসারের ভয় দূর করতে হলে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস এখনই পরিবর্তন করা উচিত।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসে পরিবর্তন আনবেন—
১. ধূমপান
ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ধূমপান কমাতে হবে। যদি কেউ দিনে ৬টি সিগারেট খান, তাহলে সেই সংখ্যা কমিয়ে ২টিতে আনতে হবে। তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন থাকে, যেমন— বেনজিন, ফরম্যালডিহাইড ও নাইট্রোসামিন, যা কোষের ডিএনএ গঠনে বাধা দেয় এবং জিনগত পরিবর্তন ঘটায়। ফলে ক্যানসারের কোষ জন্ম নেওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত।
২. অ্যালকোহল
যদি আপনার অ্যালকোহল পান করার অভ্যাস থাকে, তা বন্ধ করা উচিত। কারণ অ্যালকোহল শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে গিয়ে ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামে একটি বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়। এটি ডিএনএ প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। এছাড়া অ্যালকোহল শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অ্যালকোহল পরিহার বা সীমিত করলে লিভার, মুখ ও গলা, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয়, স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।
৩. খাবার খাওয়া
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কিংবা কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা পেট ফাঁকা রাখতে হবে। গবেষকরা রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরের দিন সকাল ৮টা বা ১০টায় প্রাতঃরাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সময়টাতে শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ প্রক্রিয়া চলে, যেখানে শরীর নিজেই কোষে জমে থাকা টক্সিন এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে ধ্বংস করে।
৪. ঘুমের নিয়ম
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার মধ্যে শুয়ে পড়া শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য উপকারী। কারণ রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরের ডিএনএ মেরামতের কাজ চলে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমানোর সময় শোবার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা বাঞ্ছনীয়। নীল আলো সামান্য মাত্রায় থাকলেও মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। এই মেলাটোনিন যে কোনো টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করতে পারে।
৫. প্লাস্টিকের ব্যবহার
প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে গরম খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নন-স্টিক বাসনের পরিবর্তে লোহা বা স্টেনলেস স্টিলের বাসন ব্যবহার করা উচিত। প্লাস্টিকের ব্যাগ বা টিফিন বাক্সের ব্যবহার কমালে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে। প্লাস্টিক এবং নন-স্টিক বাসনে বিসফেনল-এ, থ্যালেট, পিএফএএসের মতো রাসায়নিক থাকে, যা হরমোনের গোলমাল ঘটায় এবং কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সহায়তা করে। এর ফলে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েডের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ করতে প্রস্তুত। নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি এই তথ্য দেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠক করেন। বৈঠকে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শীত আসার আগে এই অর্থহীন রুশ যুদ্ধের অবসান চান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন উভয়ই। তিনি জানান, সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা কূটনীতির পথ খুলে দিতে পারে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, "আমরা জ্বালানি যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত।" তিনি উল্লেখ করেন, "যদি তারা আমাদের ডিজেল, শোধনাগারসহ অন্যান্য স্থাপনায় হামলা না করতে চায়, তবে আমরাও প্রস্তুত।" তবে, তিনি সতর্ক করেন যে, তাদেরও বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহের মতো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হবে।
নতুন হামলার সতর্কতা
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতার ওপর ইউক্রেনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, এসব হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দামের ওপর পড়ছে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা নিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্রাম্প বলেন, "এটি রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের আঘাত।" তিনি আরও জানান, ডিজেলের দামের ওপরও এটি বড় প্রভাব ফেলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমাধান নিয়েও আলোচনা হবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই দেশ একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে, এর পরপরই আবার হামলা শুরু হয়।
জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে’ বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে, যা শীত মৌসুমে ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থার আরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার তেলশিল্পের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
শীতকালে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহব্যবস্থায় ফের বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে, ট্রাম্পের সঙ্গে শীতকালীন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন, যা ইউক্রেনের হাতে থাকা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম একমাত্র অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকে এ শীতে প্যাট্রিয়ট পাওয়া গেলে জার্মানির সঙ্গে ইউক্রেনের চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র থেকে তা সমন্বয় করা হবে। জার্মানি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ইউক্রেনকে ৬০০টি প্যাট্রিয়ট দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান না করায় এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো এতে সম্মতি দেননি বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ইউক্রেনে লাইসেন্সের আওতায় প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে চাপ দিতে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের অবকাঠামোর জন্য আরও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকায় সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এক নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনায় ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গা এবং ৮ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া নৌঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও এক নারীকে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা পুলিশ জানিয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চাকরি ও জীবনযাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশের কিছু স্থানীয় এবং ক্যাম্পের দালাল স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার জন্য টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় জড়ো করেন। এরপর রাতের অন্ধকারে তাদের সাগরে নোঙর করা বড় জাহাজে তোলার জন্য ছোট নৌকায় করে মালয়েশিয়াগামী বোটে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যান।
এ সময় বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া এলাকায় বঙ্গোপসাগরের তীরে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে, যার উদ্দেশ্য ঢাকার আশপাশের শহরতলি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ। এই ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা ও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে। এসব সমিতি ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও নগর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
এডিবির ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপের সাবস্টেশন, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বলেন, ‘বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রকল্প ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে। এর ফলে ব্যবসা ও জনগণ নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবে।’
প্রকল্পের আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে মোট ১ হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার নতুন ট্রান্সফরমার সক্ষমতা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ বা আধুনিকায়ন করা হবে। নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিচালনা আধুনিকায়নে নদী পারাপারের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ফল্ট লোকেটর সেটও স্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে সার্বজনীন বিদ্যুতায়ন অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়তি চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রকল্পে এডিবির স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিবিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অভিযোজন প্রযুক্তি ব্যবহারে এ অর্থ ব্যয় হবে। উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। এ জন্য ডিজিটাল সিস্টেম সমন্বয়, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথও তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এডিবির ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের ১০৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবির ১৪১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন থাকবে। এ ছাড়া কোরিয়া সরকারের ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে এডিবির মাধ্যমে ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। এ অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতার পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ