প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব, তবে এজন্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে। যদিও ক্যানসার সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও ক্যানসারের বিভিন্ন বাহ্যিক ও পরিবেশগত কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মরণব্যাধি এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে কিছু অভ্যাসের কারণে। চিকিৎসকরা জানান, ক্যানসার নিরাময় বা নির্মূল হবে— এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
ক্যানসার কখন শরীরে বাসা বাঁধবে, তা আগে থেকে বোঝা খুবই কঠিন। ক্লান্তি বাড়লে অনেকেই মনে করেন এটি অতিরিক্ত কাজের চাপের ফল। কিন্তু যিনি ক্রনিক অম্বল, বদহজম, গ্যাস, পেটে যন্ত্রণা বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তিনি কি কখনো ভেবেছেন যে, এসব লক্ষণ অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে?
শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তি ও অসুখকে অবহেলা করা বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ক্যানসারের ভয় দূর করতে হলে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস এখনই পরিবর্তন করা উচিত।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসে পরিবর্তন আনবেন—
১. ধূমপান
ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ধূমপান কমাতে হবে। যদি কেউ দিনে ৬টি সিগারেট খান, তাহলে সেই সংখ্যা কমিয়ে ২টিতে আনতে হবে। তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন থাকে, যেমন— বেনজিন, ফরম্যালডিহাইড ও নাইট্রোসামিন, যা কোষের ডিএনএ গঠনে বাধা দেয় এবং জিনগত পরিবর্তন ঘটায়। ফলে ক্যানসারের কোষ জন্ম নেওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত।
২. অ্যালকোহল
যদি আপনার অ্যালকোহল পান করার অভ্যাস থাকে, তা বন্ধ করা উচিত। কারণ অ্যালকোহল শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে গিয়ে ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামে একটি বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়। এটি ডিএনএ প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। এছাড়া অ্যালকোহল শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অ্যালকোহল পরিহার বা সীমিত করলে লিভার, মুখ ও গলা, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয়, স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।
৩. খাবার খাওয়া
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কিংবা কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা পেট ফাঁকা রাখতে হবে। গবেষকরা রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরের দিন সকাল ৮টা বা ১০টায় প্রাতঃরাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সময়টাতে শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ প্রক্রিয়া চলে, যেখানে শরীর নিজেই কোষে জমে থাকা টক্সিন এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে ধ্বংস করে।
৪. ঘুমের নিয়ম
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার মধ্যে শুয়ে পড়া শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য উপকারী। কারণ রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরের ডিএনএ মেরামতের কাজ চলে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমানোর সময় শোবার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা বাঞ্ছনীয়। নীল আলো সামান্য মাত্রায় থাকলেও মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। এই মেলাটোনিন যে কোনো টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করতে পারে।
৫. প্লাস্টিকের ব্যবহার
প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে গরম খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নন-স্টিক বাসনের পরিবর্তে লোহা বা স্টেনলেস স্টিলের বাসন ব্যবহার করা উচিত। প্লাস্টিকের ব্যাগ বা টিফিন বাক্সের ব্যবহার কমালে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে। প্লাস্টিক এবং নন-স্টিক বাসনে বিসফেনল-এ, থ্যালেট, পিএফএএসের মতো রাসায়নিক থাকে, যা হরমোনের গোলমাল ঘটায় এবং কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সহায়তা করে। এর ফলে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েডের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন