ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এডিবি বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে


এডিবি বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে, যার উদ্দেশ্য ঢাকার আশপাশের শহরতলি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ। এই ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা ও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে। এসব সমিতি ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও নগর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

এডিবির ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপের সাবস্টেশন, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বলেন, ‘বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রকল্প ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে। এর ফলে ব্যবসা ও জনগণ নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবে।’

প্রকল্পের আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে মোট ১ হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার নতুন ট্রান্সফরমার সক্ষমতা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে।

এ ছাড়া ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ বা আধুনিকায়ন করা হবে। নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিচালনা আধুনিকায়নে নদী পারাপারের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ফল্ট লোকেটর সেটও স্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ ২০২২ সালে সার্বজনীন বিদ্যুতায়ন অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়তি চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রকল্পে এডিবির স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিবিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অভিযোজন প্রযুক্তি ব্যবহারে এ অর্থ ব্যয় হবে। উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। এ জন্য ডিজিটাল সিস্টেম সমন্বয়, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথও তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এডিবির ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের ১০৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবির ১৪১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন থাকবে। এ ছাড়া কোরিয়া সরকারের ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে এডিবির মাধ্যমে ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। এ অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতার পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান সংকট সমাধানের জন্য পরিকল্পনার কথা জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


ইরান সংকট সমাধানের জন্য পরিকল্পনার কথা জানালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল উন্মোচন করেছেন, যা ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা নিরসনে সহায়ক হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সংযোগ করিডোরটি সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমাধান হতে পারে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি 'ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর' বা 'আইএমইইসি' প্রকল্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং সামুদ্রিক পথে তাদের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।" তিনি আরও জানান, তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে আইএমইইসি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ট্রাম্পের প্রশাসন এই বৃহৎ বহুমাত্রিক উদ্যোগে পূর্ণ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, যাতে পাইপলাইন বা বিকল্প যে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের সূচনা হয়। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত করা হয়েছে; পূর্ব রুটটি ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং উত্তর রুটটি উপসাগরকে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

এই করিডোরে অন্তর্ভুক্ত থাকবে সমন্বিত রেললাইন, নতুন শিপিং নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্যাবল লাইন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহণের পাইপলাইন। এর ফলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যবর্তী বাণিজ্য সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে এবং চীন ঘোষিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-এর একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে উঠবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে একটি চরম সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি দাবি করেন, "ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।" ট্রাম্প সতর্ক করে দেন যে, ইরান যদি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে এক সময় তাদের টিকে থাকার কোনো সুযোগই থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইতোমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘লিখিত পাশের পর অ্যাডমিট নিয়ে আসবা, যেখানে ফোন করা লাগে করব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


‘লিখিত পাশের পর অ্যাডমিট নিয়ে আসবা, যেখানে ফোন করা লাগে করব’

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন, "কত ছেলে আছে যারা পরীক্ষা দিয়ে রিটেনে পাশ করছে কিন্তু ভাইভায় এলাউ হতে পারে নাই, চাকরি পায়নি।" তিনি বলেন, "রিটেনে পাশ করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড আমার কাছে নিয়ে যাইবা। আমি যেখানে ফোন করার, সেখানে ফোন করে দেব, যাতে ছেলেটা চাকরি পায়।"

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ-জনতাগঞ্জ বাজারে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

চাকরির তদবিরের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন না করার জন্য আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান জানান, "তার কাছে চাকরির জন্য তদবির করতে গিয়ে কেউ টাকা চাইলে বা তাকে টাকা দিলে বিষয়টি জানতে পারলে তিনি তা মেনে নেবেন না।" তিনি সতর্ক করে বলেন, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কাউকে টাকা না দেওয়ার জন্য।

জনসভায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, "কোনো দরিদ্র পরিবারের সন্তান, স্ত্রী বা অন্য কোনো সদস্য অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারলে জানাতে হবে।" প্রয়োজনে ঢাকা বা কিশোরগঞ্জে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং কম খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "কোনো পরিবারের সন্তান যেন না খেয়ে ঘুমাতে না যায়, জনপ্রতিনিধিদের সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে।" তিনি জানান, কেউ সহযোগিতা করতে না পারলে তিনি নিজে সহযোগিতা করবেন।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান মনির উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে আজ বুধবার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। এদিন কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। সংশোধিত বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পূর্বে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে ছুটির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার। তবে এই ছুটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পূর্বের ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে।

রোববার বিকালে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন আংশিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহমের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম কী: ‘ইয়াজদহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার মানে ১১। ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম হলো ১১তম দিনের ফাতিহা বা ফাতেহা শরিফ। প্রতি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ এই দিবসটি পালন করা হয়।

বড়পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানির (রহ.) ওফাত দিবস হিসেবে এটি পালন করা হয়। তিনি হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার বিশাল অবদান রয়েছে। একে অনেক সময় ‘গেয়ারভি শরিফ’ নামেও অভিহিত করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, ৬ কোটি ঘনফুট বালু তুলতে চায় প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, ৬ কোটি ঘনফুট বালু তুলতে চায় প্রতিষ্ঠান

‘আইকনিক সোর্সিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা নদী থেকে বালু তোলার জন্য আবেদন করেছে। আবেদনের প্যাডে উল্লেখিত ঠিকানা হলো: ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। তবে সরেজমিনে খোঁজ করেও ওই ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি, এই নাম সম্পর্কেও কারো কাছে কোনো তথ্য নেই। প্যাডে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। অথচ, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পদ্মা সেতুর নিকটবর্তী এলাকা থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে জোরেশোরে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যেখানে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেখানেই নদীভাঙন রোধে ৫২৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকা থেকে বালু তোলা হলে পদ্মা সেতুর নদীশাসন ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এছাড়া, জানা যায়, এই বালু সরকারি কোনো প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে কি না, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। মূলত, বালুটি বিক্রির জন্য তোলা হবে। এই সুযোগ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তড়িঘড়ি করে অনাপত্তি দিয়েছে। এমনকি, ওই অনাপত্তির নথি অনুমোদন করতে রাতে সই করেছেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, ভূমি মন্ত্রণালয় প্রথমে অনাপত্তি বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছিল। পরে, সেই মন্ত্রণালয়ই প্রতিষ্ঠানটিকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার সম্মতি জানিয়ে আরেকটি চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠিতে কাটার সাকশান ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তোলার শর্ত দেওয়া হলেও, প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের ড্রেজার কোম্পানি হিসেবে বিআইডব্লিউটিএতে নিবন্ধিত নয়।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছেন। যদিও, বালু তোলার ফলে অপরিকল্পিত খননের কারণে নদীভাঙন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব এবং মাছের প্রজনন সমস্যাসহ নানা আশঙ্কার কথা স্থানীয় পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রকাশ করেছেন। মুন্সীগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তারা এসব আশঙ্কা জানিয়েছেন। কারিগরি কমিটির প্রধান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, "কিছু বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। আমাদের ফাইন্ডিংস দিয়েছি। কী ধরনের সুপারিশ দিয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি তিনি।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, "আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বালুমহাল ঘোষণা করে টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারাদার নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এ কার্যক্রম স্থানীয় জেলা প্রশাসন করে। বেসরকারি কাউকে এভাবে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সরকারি কোনো প্রকল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কখনো কখনো অনুমতি দেওয়া হয়।"

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী যুগান্তরকে জানান, "প্রতিষ্ঠানটি বালু তোলার আবেদন করেছে। আমরা আইনিভাবে দেখছি অনুমোদন দেওয়া সম্ভব কি না। তবে এখনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পদ্মা সেতু একটি কেপিআই (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা), নদীভাঙনপ্রবণতাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত পাইনি। তাই এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।"

বালু তোলা হলে পদ্মা সেতুর আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন ও জন-অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত দুজন প্রকৌশলী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা যুগান্তরকে বলেন, "নদীর বালু তুলে যারা ব্যবসা করে, তারা দেশীয় প্রযুক্তির ড্রেজার ব্যবহার করে। এতে একই স্থান থেকে বালু তোলায় গভীর খাদ তৈরি হয় এবং আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এখানেও তা-ই ঘটবে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে।"

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল ৯ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন, "পদ্মা সেতুর ভাটিতে লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় নদীভাঙন রোধে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা চরটি এরই মধ্যে মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ইমেজেও নদীভাঙন সুস্পষ্ট। চিঠিতে পদ্মা সেতুর ভাটিতে ১৬ কিলোমিটার ভাঙনপ্রবণ হলেও ৯ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ওই প্রকল্প চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৬.৯ কিলোমিটার এলাকার নদীতীর সংরক্ষণে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (চাহিদাপত্র) দিয়েছেন।

পাওয়া যায়নি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব: ৪ মে আইকনিক সোর্সিংয়ের প্রোপ্রাইটার সৈয়দ সাদাব মাহবুব বিআইডব্লিউটিএতে বালু তোলার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা সেতুর মূল ঠিকাদারের ক্রেন চলাচল ও পলি অপসারণের জন্য দেশীয় ড্রেজার দিয়ে চ্যানেল তৈরির অনুমোদন দিলে নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি করবেন। এছাড়া ডিসি (জেলা প্রশাসক) অফিসের মাধ্যমে বালি/মাটির নির্ধারিত ফি সরকারকে দেবেন। তবে উত্তোলিত বালু কোথায় ব্যবহার হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির সাদামাটা প্যাডে অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। প্যাডে প্রতিষ্ঠানের সিল, ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা কী ধরনের কাজ করে, তার কোনো উল্লেখ নেই। ফর্মে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ। সরেজমিন বছিলা রোডে গিয়ে ১১৫/১ নামের কোনো হোল্ডিং পাওয়া যায়নি। তবে ১১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে টিন দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছোট মুদি, লাইব্রেরি, মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও চায়ের দোকান রয়েছে। সেখানকার হাফসা টেলিকমের মালিক মিয়া হোসেন জানান, "১১৫/১ নামে কোনো হোল্ডিং নেই। ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের নামও শোনেননি তিনি।" এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরকারি দপ্তরে অনুমোদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দ সাদাব মাহবুবের ভাই পরিচয় দেওয়া কাজী মো. লিয়াকত। তিন দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাদাব মাহবুবের মোবাইল নম্বর বা প্রতিষ্ঠানের সঠিক ঠিকানা দিতে রাজি হননি। ভুয়া ঠিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যেই মাধ্যমে আপনি তথ্য পাচ্ছেন, তারাই ভালো বলতে পারবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%