বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ করতে প্রস্তুত। নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি এই তথ্য দেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠক করেন। বৈঠকে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শীত আসার আগে এই অর্থহীন রুশ যুদ্ধের অবসান চান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন উভয়ই। তিনি জানান, সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা কূটনীতির পথ খুলে দিতে পারে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, "আমরা জ্বালানি যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত।" তিনি উল্লেখ করেন, "যদি তারা আমাদের ডিজেল, শোধনাগারসহ অন্যান্য স্থাপনায় হামলা না করতে চায়, তবে আমরাও প্রস্তুত।" তবে, তিনি সতর্ক করেন যে, তাদেরও বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহের মতো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হবে।
নতুন হামলার সতর্কতা
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতার ওপর ইউক্রেনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, এসব হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দামের ওপর পড়ছে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা নিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্রাম্প বলেন, "এটি রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের আঘাত।" তিনি আরও জানান, ডিজেলের দামের ওপরও এটি বড় প্রভাব ফেলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমাধান নিয়েও আলোচনা হবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই দেশ একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে, এর পরপরই আবার হামলা শুরু হয়।
জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে’ বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে, যা শীত মৌসুমে ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থার আরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার তেলশিল্পের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
শীতকালে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহব্যবস্থায় ফের বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে, ট্রাম্পের সঙ্গে শীতকালীন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন, যা ইউক্রেনের হাতে থাকা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম একমাত্র অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকে এ শীতে প্যাট্রিয়ট পাওয়া গেলে জার্মানির সঙ্গে ইউক্রেনের চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র থেকে তা সমন্বয় করা হবে। জার্মানি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ইউক্রেনকে ৬০০টি প্যাট্রিয়ট দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান না করায় এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো এতে সম্মতি দেননি বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ইউক্রেনে লাইসেন্সের আওতায় প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে চাপ দিতে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের অবকাঠামোর জন্য আরও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকায় সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এক নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনায় ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গা এবং ৮ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া নৌঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও এক নারীকে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা পুলিশ জানিয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চাকরি ও জীবনযাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশের কিছু স্থানীয় এবং ক্যাম্পের দালাল স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার জন্য টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় জড়ো করেন। এরপর রাতের অন্ধকারে তাদের সাগরে নোঙর করা বড় জাহাজে তোলার জন্য ছোট নৌকায় করে মালয়েশিয়াগামী বোটে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যান।
এ সময় বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া এলাকায় বঙ্গোপসাগরের তীরে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে, যার উদ্দেশ্য ঢাকার আশপাশের শহরতলি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ। এই ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা ও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে। এসব সমিতি ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও নগর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
এডিবির ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপের সাবস্টেশন, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বলেন, ‘বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রকল্প ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে। এর ফলে ব্যবসা ও জনগণ নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবে।’
প্রকল্পের আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে মোট ১ হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার নতুন ট্রান্সফরমার সক্ষমতা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ বা আধুনিকায়ন করা হবে। নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিচালনা আধুনিকায়নে নদী পারাপারের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ফল্ট লোকেটর সেটও স্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে সার্বজনীন বিদ্যুতায়ন অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়তি চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রকল্পে এডিবির স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিবিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অভিযোজন প্রযুক্তি ব্যবহারে এ অর্থ ব্যয় হবে। উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। এ জন্য ডিজিটাল সিস্টেম সমন্বয়, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথও তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এডিবির ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের ১০৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবির ১৪১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন থাকবে। এ ছাড়া কোরিয়া সরকারের ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে এডিবির মাধ্যমে ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। এ অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতার পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল উন্মোচন করেছেন, যা ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা নিরসনে সহায়ক হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সংযোগ করিডোরটি সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমাধান হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি 'ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর' বা 'আইএমইইসি' প্রকল্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং সামুদ্রিক পথে তাদের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।" তিনি আরও জানান, তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে আইএমইইসি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ট্রাম্পের প্রশাসন এই বৃহৎ বহুমাত্রিক উদ্যোগে পূর্ণ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, যাতে পাইপলাইন বা বিকল্প যে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের সূচনা হয়। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত করা হয়েছে; পূর্ব রুটটি ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং উত্তর রুটটি উপসাগরকে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
এই করিডোরে অন্তর্ভুক্ত থাকবে সমন্বিত রেললাইন, নতুন শিপিং নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্যাবল লাইন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহণের পাইপলাইন। এর ফলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যবর্তী বাণিজ্য সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে এবং চীন ঘোষিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-এর একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে উঠবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে একটি চরম সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি দাবি করেন, "ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।" ট্রাম্প সতর্ক করে দেন যে, ইরান যদি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে এক সময় তাদের টিকে থাকার কোনো সুযোগই থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইতোমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন, "কত ছেলে আছে যারা পরীক্ষা দিয়ে রিটেনে পাশ করছে কিন্তু ভাইভায় এলাউ হতে পারে নাই, চাকরি পায়নি।" তিনি বলেন, "রিটেনে পাশ করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড আমার কাছে নিয়ে যাইবা। আমি যেখানে ফোন করার, সেখানে ফোন করে দেব, যাতে ছেলেটা চাকরি পায়।"
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ-জনতাগঞ্জ বাজারে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
চাকরির তদবিরের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন না করার জন্য আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান জানান, "তার কাছে চাকরির জন্য তদবির করতে গিয়ে কেউ টাকা চাইলে বা তাকে টাকা দিলে বিষয়টি জানতে পারলে তিনি তা মেনে নেবেন না।" তিনি সতর্ক করে বলেন, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কাউকে টাকা না দেওয়ার জন্য।
জনসভায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, "কোনো দরিদ্র পরিবারের সন্তান, স্ত্রী বা অন্য কোনো সদস্য অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারলে জানাতে হবে।" প্রয়োজনে ঢাকা বা কিশোরগঞ্জে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং কম খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "কোনো পরিবারের সন্তান যেন না খেয়ে ঘুমাতে না যায়, জনপ্রতিনিধিদের সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে।" তিনি জানান, কেউ সহযোগিতা করতে না পারলে তিনি নিজে সহযোগিতা করবেন।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান মনির উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ