০৮:৩৩ পি.এম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, "৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল।"
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উল্লেখ করেন, "৭ নভেম্বর ঘটার অনেক কারণ ছিল। ১৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পরে দেশ একটি দোদুল্যমান অবস্থায় ছিল। পরে খন্দকার মোশতাককে কিছু জুনিয়র অফিসার দেশ পরিচালনা করতে দেয়। এ নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব ছিল।"
আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, সে সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রাজনীতি চলছিল। আওয়ামীপন্থী, বামপন্থী ও একটি ছোট ইসলামপন্থী গ্রুপ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন অন্যতম চৌকস। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে "উই রিভোল্ট" বলে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির সমালোচনা করে টুকু বলেন, সে সময় দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল এবং আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছিল। তার ভাষ্য, বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া অন্য সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, "তখনই কিন্তু বিস্ফোরণ ঘটে। যেমনটা ঘটেছিল শেখ হাসিনার আমলে, যার ফলে বিস্ফোরণটা হয়েছিল।"
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান প্রায় সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় ছিলেন এবং এ সময়ে তিনি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করতেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান শুধু আর্থিক সুবিধা বা ভাতার মাধ্যমে হয় না; তাদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হয়।
৭ নভেম্বর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দিনটিকে সিপাহি হত্যা দিবস হিসেবে অভিহিত করলেও তার মতে, সেদিন সিপাহিরা বিদ্রোহ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত না করলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
জিয়াউর রহমান মানুষের কাছে একজন আদর্শ ছিলেন উল্লেখ করে টুকু বলেন, তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ছোট একটি সেনাদল নিয়ে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসার মধ্য দিয়ে তাঁর সাহসিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: মীর হেলাল: ৭ নভেম্বরের চেতনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল প্রেরণা
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম শাহীন, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহীদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলালসহ অন্যরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন