বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ পি.এম
একই বিসিএস ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেলেও, শিক্ষা ক্যাডারে বহু কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে প্রভাষক পদে আটকে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা। দীর্ঘ সময়ের পদোন্নতি জট এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত ২৫ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দ্রুত পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি, বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং পদস্বল্পতা নিরসনে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির মতো বিভিন্ন দাবি জানান। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, অন্য ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে এবং ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা এখনও নবম গ্রেডের প্রভাষক পদে কর্মরত রয়েছেন। ফলে একই বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে পদমর্যাদা, আর্থিক সুবিধা ও পেশাগত অগ্রগতিতে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের মনে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সংকট দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালে এক দফায় ১ হাজার ৮৭০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে যোগ্য অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৭তম বিসিএসের পদোন্নতি নিয়ে গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সভার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরেও পদোন্নতির সরকারি আদেশ বা জিও জারি হয়নি বলে তাদের দাবি।
ডিপিসির সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শিক্ষা ক্যাডারে অনুমোদিত পদের তুলনায় উচ্চতর পদের সংখ্যা কম থাকায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জট সৃষ্টি হচ্ছে। মাউশির তথ্য অনুযায়ী, প্রভাষক পদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৮২টি, কিন্তু সহকারী অধ্যাপক পদ রয়েছে ৪ হাজার ৪৫১টি।
এই সংকটের সমাধানে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি বা অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চার দফা দাবি
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ডিপিসির সুপারিশের আলোকে ৩৭তম বিসিএসসহ যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতির আদেশ জারি, বকেয়া আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা, সুপারনিউমারারি (অতিরিক্ত) পদ সৃষ্টি ও বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ।
কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পদোন্নতি জট দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষা ক্যাডারে পেশাগত হতাশা ও বৈষম্য আরও বাড়বে। তাদের মতে, পদস্বল্পতা নিরসন এবং নিয়মিত পদোন্নতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা প্রতিরোধের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য প্রকাশ করে।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরুর গুরুত্বের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগে ‘খুবই উৎসাহী’ ছিলেন বলে জানা গেছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রে জানা যায়, চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো শান্তি প্রস্তাবের পরিবর্তে সম্ভাব্য আলোচনার একটি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে ভ্যান্স ঠিক কবে এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন, তা জানা যায়নি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাসের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের উদ্যোগ। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে আলোচনার মধ্যে এই উদ্যোগের খবর এসেছে।
মোহসেন রেজায়ি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। তিনি এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ছিলেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রেজায়ির আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, রেজায়ি ইরানের প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থি নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রেজায়ি পূর্বে বলেছেন, ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নয় তেহরান।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দফতরের একজন মুখপাত্র রেজায়ির কাছে চিঠির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, রেজায়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ভ্যান্সকে নির্দেশ দেয়ার দাবি সরাসরি নাকচ করেননি ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিষয়টি হলো তেহরানের চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য কিছু জিনিসের প্রয়োজন। ভ্যান্স আমার মতামত জানতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম, যদি তুমি তা করতে চাও, তবে ঠিক আছে। মূলত, অসুস্থ মানুষদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার বিষয়টিই এখানে মুখ্য।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট, আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক সিএনজিচালকের গতিরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের সময় উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চড়ানল এলাকায় কুমিল্লা–বাগড়া সড়কে এই ঘটনাটি ঘটে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের মীরপুর উত্তরপাড়ার মৃত রহুল আমিনের ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন রিয়াজ (২৩), রাজাপুর ইউনিয়নের মসজিদপাড়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম হোসেন ওরফে সাইম (১৯) এবং একই এলাকার মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. এনামুল হাসান (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিএনজিচালক মো. আবু কাউছার (৪০) চালের বস্তা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তিনজন তার অটোরিকশার গতিরোধ করেন। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বস্তার ভেতরে অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে দাবি করেন। আবু কাউছার তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পরিচয়পত্র দেখতে চান। এতে তারা তাকে গালমন্দ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং চড়-থাপ্পড় মারেন। পাশাপাশি প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট তার সিএনজি অটোরিকশাটি আটকে রাখেন।
পরে আবু কাউছার বুড়িচং থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা এর আগেও ডিবি পরিচয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ৯ মামলায় রায় জালিয়াতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিষয়ে আদেশের তারিখ আপিল বিভাগ আগামী ২ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল।
এর আগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ৯ মামলায় জালিয়াতির অভিযোগে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করে আপিল বিভাগ। আদালত জানিয়েছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় প্রদান করে। ওই রায়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’-এর ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী ৬০ শতাংশ নারী কোটা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন চূড়ান্ত ফল বাতিল করে ছয় মাসের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা প্রণয়ন এবং রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মূল ৫৮ জন আবেদনকারীর বাইরে আরও ৬৪ জনকে নতুন সহ-আবেদনকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে এফিডেভিট করা হয়। তবে নিয়মিত সেকশন-প্রক্রিয়া, নাম তালিকাভুক্তকরণ কিংবা বিবাদী পক্ষ—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদফতরকে নোটিশ দেয়া ছাড়াই নথি সরাসরি বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র এক দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়া মূল শুনানির মাত্র চার দিনের মাথায় হাইকোর্ট রায় প্রদান করে। অভিযোগ রয়েছে, ওই রায়ে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া নতুন সহ-আবেদনকারীদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মোট ৯টি মামলায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। শুনানির সময় মামলার নথিতে প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এলে আপিল বিভাগ অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, "মূল আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয়েছিল, আবার কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়েছিল। আমি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলাম, তবে সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল।"
তিনি জানান, আদেশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ অক্টোবর, যা সাত দফা দাবিতে পরিচালিত হবে। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। কর্মসূচিটি বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরে পাঁচটি পথসভা এবং কুষ্টিয়ায় একটি জনসভার মাধ্যমে শেষ হবে।
খুলনা প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজকরা সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের রুট, পথসভা ও সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মাওলানা মাহফুজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, লংমার্চের গাড়িবহর ঢাকা থেকে যাত্রা করে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ পার হয়ে বাগেরহাটের কাটাখালীতে প্রথম পথসভায় অংশ নেবে। এরপর খুলনার শিববাড়ী মোড়, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড এবং যশোরের মুরলী মোড়ে পর্যায়ক্রমে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। গাড়িবহর সেখান থেকে ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে, যেখানে কর্মসূচি শেষ হবে জনসভার মাধ্যমে।
জামায়াত ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কারের আইনি পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হবে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা এবং একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কার, বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংকট নিরসন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, ঢাকা থেকে আসা লংমার্চের গাড়িবহরে এক হাজারের বেশি যানবাহন যুক্ত হবে বলে আশা করছেন তারা। খুলনার শিববাড়ী মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভা সফল করতে ১৭টি উপকমিটি কাজ করছে। মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচার, মাইকিং ও গণসংযোগ চলছে। প্রচারের অংশ হিসেবে ২০টি তোরণও নির্মাণ করা হয়েছে।
যানবাহন রাখার জন্য জোড়াগেট, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও ময়ূরী আবাসিক এলাকায় পার্কিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পথসভাস্থলে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনের কাছ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান আয়োজকরা।
কর্মসূচির কারণে নগরবাসী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ হতে পারে বলে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন জোটের নেতারা। লংমার্চ ও পথসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন, জাগপার সভাপতি খান মো. রাশেদ, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, এনসিপির ফয়জুল্লাহ ইকবাল শাকিল, ডা. মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী, আব্দুল খালেক শিকদার, খালিদ সাইফুল্লাহ, মো. মনির হোসেন, গাজী শরিফুল ইসলাম (ওহিদ), নূরুল আলম নূর, মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজী (আরিয়ান), মোছাম্মদ জাকিয়া আক্তার প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ