বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৭ পি.এম
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানী ঢাকায় যাত্রী পরিবহনের শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলের জন্য নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নতুন নীতিমালার অধীনে লাইসেন্স ছাড়া ঢাকা শহরে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষের কাছে তফসিল-২ এ উল্লেখিত ফিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে তফসিল-১ এ বর্ণিত ফরম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
যদি নিবন্ধনের জন্য প্রাপ্ত আবেদন ও দাখিলকৃত কাগজপত্র বুয়েট কর্তৃক নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের আলোকে যাচাই-বাছাই করে সন্তোষজনক মনে হয়, তাহলে আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে ই-রিকশার নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কর্তৃপক্ষ একটি কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নিবন্ধন নম্বর ও তফসিল-৩ অনুযায়ী নম্বর প্লেট প্রদান করবে। কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বরটি ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রদত্ত নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তা প্রদানের তারিখ থেকে ৫ (পাঁচ) বছর। যদি কর্তৃপক্ষ উপ-বিধি (২) এর অধীনে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে আবেদনটি মঞ্জুর করা হবে না এবং আবেদনকারীকে ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।
উপ-বিধি (৬) অনুযায়ী, কোনো আবেদন না-মঞ্জুর হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদেশ প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। এই আপিলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একজন ব্যক্তি এক বা একাধিক সিটি কর্পোরেশন থেকে সর্বাধিক ৫ (পাঁচ) টি ই-রিকশার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। তবে, এক সিটি কর্পোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য কোনো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।
বুয়েট কর্তৃক নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী তফসিল ৪ অনুযায়ী ফিটনেস সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নবায়নও করা যাবে না।
ফিটনেস প্রদানকারী ও স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের রেকর্ড সংরক্ষণ করবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকাশিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, এস. আর. ও. নম্বর ৩৮৪-আইন/২০২৬। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন) এর ধারা ১২০ এর অধীনে সরকার এই বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।
এই বিধিমালা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ নামে পরিচিত হবে। এটি দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে বুয়েট কর্তৃক নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আবশ্যকীয় ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাঠামোগত সংশোধন করে অনুমোদন প্রদান করা যাবে। উপ-বিধি (১১) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের স্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে।
পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ই-রিকশাকে বুয়েট কর্তৃক নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হতে হবে।
প্রতিটি ই-রিকশার ইকোনোমিক লাইফটাইম হবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ (বারো) বছর এবং ইকোনমিক লাইফটাইম শেষ হওয়ার পর নম্বর প্লেটসহ সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। ত্রুটিযুক্ত ও অবৈধ যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। কোনো যান্ত্রিক বা নিরাপত্তা ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন অবৈধ ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।
ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির সম্মুখভাগে দৃষ্টিগ্রাহ্য অংশে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অযোগ্য সাইনবোর্ড প্রদর্শন করে তা মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক বিভাগ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল বন্ধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
সড়ক ব্যবহার নিয়মাবলি :
(১) ই-রিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোর এবং প্রশাসন কর্তৃক সময় সময় নিষেধাজ্ঞা আরোপিত সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
ই-রিকশা ফুটপাতে চলাচল করতে পারবে না।
ই-রিকশাচালক সর্বদা সড়কের বাম লেন অনুসরণ করে চলাচল করবে।
ই-রিকশাচালক ড্রাইভিং করার সময় মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না।
ই-রিকশাচালক নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং এবং লেন পরিবর্তন করতে পারবেন না।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ই-রিকশায় চালক ব্যতীত আকারভেদে ২ (দুই) অথবা ৪ (চার) জনের অধিক যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ব্যতীত অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না।
ই-রিকশায় ৪০ (চল্লিশ) ডেসিবেলের অধিক তীব্রতাসম্পন্ন হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।
স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় বা জনবহুল স্থানে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ (পনেরো) কিলোমিটার।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও রুট পারমিট
(১) ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট (চলাচলের সড়ক) নির্ধারণ করবে।
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রুট হবে জোনভিত্তিক এবং এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং ট্রাফিক বিভাগ জোনভিত্তিক বিভক্তকরণসহ জোনভিত্তিক ই-রিকশার সংখ্যা, রুট (চলাচলের সড়ক) ও রং (ই-রিকশার জন্য নির্দিষ্ট রং) নির্ধারণ চূড়ান্ত করবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চালকের প্রশিক্ষণ। কর্তৃপক্ষ স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চালকদের জন্য ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ব্যাটারি ও ই-রিকশা রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষাঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারবে।
কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে, প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স প্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজসমূহে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বা বেসরকারি খাতে বা অন্য কোনো উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন বা গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ ও উৎসাহিত করতে হবে এবং অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়ম বহির্ভূত চার্জিং পরিহার করতে হবে।
পর্যায়ক্রমে বৈধভাবে রেজিস্টার্ড চার্জিং স্টেশনে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা যাবে এবং ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রীড সংযোগের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ করলে বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় দণ্ড প্রদান করা হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি অনুমোদিত মানের ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ই-রিকশা চালক ও মালিকগণকে ঋণ সহায়তা প্রদান করতে পারবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের বিধান অনুসরণ :
এই বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ই-রিকশা উৎপাদন, আমদানি, ব্যবহার এবং ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবস্থাপনার সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন), তদধীন প্রণীত বিধিমালা এবং সকল জারীকৃত নির্দেশনা অনুসরণীয় হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরাতন বা অকার্যকর ব্যাটারি বা তার অংশবিশেষ উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় বা সাধারণ বর্জ্যে নিক্ষেপ বা পোড়াতে পারবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারে পাকিস্তানের বিভিন্ন পর্যটন ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান তাদের দেশের বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরছে। এই মেলা, যা আজ শুরু হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে জোরদার করার জন্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি উভয় দেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন।
মেলায় তিনি পাকিস্তান প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন এবং দর্শকদের দেশটির বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণগুলো ঘুরে দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
মেলায় অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটির মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য, স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় খাবার এবং চিকিৎসা পর্যটনসেবার সুযোগ তুলে ধরছে।
এছাড়া, পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ দুই দেশের মধ্যে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট বিনিময় বাড়াতে এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন যে, আইন শিক্ষার প্রসার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষ, সৎ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
আজ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে হবিগঞ্জ ল’ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী হতে পারি, কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। জনগণ যাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং ন্যায়বিচার, জনস্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, মরহুম অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মতিন খান ছিলেন শিক্ষা বিস্তার ও আইন পেশার উন্নয়নে একজন দূরদর্শী, কর্মনিষ্ঠ ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে হবিগঞ্জ অঞ্চলে আইন শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আইন বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। হবিগঞ্জ ল’ কলেজ ভবিষ্যতেও সৎ, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভায় অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ ল’ কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গ্রাম ও শহরের সকল শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বইপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বিকেলে নগরীর কালেক্টরেট মাঠে ৯ দিনব্যাপী রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম।
এছাড়াও সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাজশাহীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বইপড়া, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, এর মাধ্যমেই আগামী দিনের মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, একসময় পরীক্ষার খাতায় না লিখলেও শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার এমন দশার কারণে বর্তমানে তরুণদের হাতে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেও তাদের উপযুক্ত দক্ষতা ও জ্ঞানের চরম অভাব রয়েছে।
শিক্ষার মান ও তরুণদের বেকারত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। আর এই বেকারত্বের সুযোগ ও হতাশা কাজে লাগিয়েই দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানো হয়েছে।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে জাতীয় বাজেটের প্রায় চারভাগের এক ভাগই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনাও সরকার হাতে নিয়েছে।
পরে মেলা প্রাঙ্গণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠে শুরু হওয়া এই বিভাগীয় বইমেলা চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সব বয়সীর দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাতৃত্ব জীবনের একটি নতুন অধ্যায়, কিন্তু মা হওয়ার ফলে কি অভিনয়জীবনে ইতি টানা উচিত? বলিউডের অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে কাজের সুযোগ হারাতে চান না। বরং তিনি সংসার, সন্তান এবং পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আরও ভালো কাজ করতে চান। নতুন ওয়েব সিরিজ ট্রাস্ট নো ওয়ান (Trust No One)-এ অভিনয়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা এবং মাতৃত্বের পর ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
আড়াই ঘণ্টায় পড়ে ফেলেছিলেন পুরো চিত্রনাট্য।
কোনো একটি কাজের প্রতি ভালো লাগা কখনও কখনও প্রথম পরিচয়েই তৈরি হয়ে যায়। পরিণীতির ক্ষেত্রেও ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের চিত্রনাট্য ছিল তেমনই এক অভিজ্ঞতা। চিত্রনাট্যটি হাতে পাওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, বই পড়া তার অন্যতম প্রিয় অভ্যাস। তবে পড়তে বসলে মাঝে মাঝে মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। সে কারণে অনেক সময় অন্য কাউকে দিয়ে পড়ে শোনাতে পছন্দ করেন তিনি।
কিন্তু সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও রেনসিল ডি’সিলভা যখন সিরিজটির চিত্রনাট্য পাঠান, তখন পরিণীতি শহরের বাইরে ছিলেন। তার ধারণা ছিল, পুরো চিত্রনাট্য শেষ করতে দু-তিন দিন সময় লাগবে। বাস্তবে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এক বসায় পুরো চিত্রনাট্য পড়ে শেষ করেন তিনি।
শেষ পাতা পড়ার পরই তার মনে হয়েছিল, এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। গল্পের আকর্ষণই তাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল। পাশাপাশি কাজটির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন অভিনেত্রী।
পরিণীতির কথায়, চিত্রনাট্য এতটাই ভালো ছিল যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো কারণই ছিল না। তার সঙ্গে নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ, প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা এবং পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভা মতো অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি তার কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং, পাশে ছিল পুরো পরিবার।
ট্রাস্ট নো ওয়ান সিরিজের শুটিংয়ের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পরিণীতি। জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবে শুটিংয়ের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা তার অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।
অভিনেত্রী জানান, শুটিংয়ের সময় ইউনিটের সবাই তার শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। কাজের পরিবেশে বাড়তি চাপ ছিল না, বরং সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। ফলে শুটিংয়ের সময়সূচি সামলাতেও বড় কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাকে।
পরিবারের সদস্যরাও এই সময়ে পরিণীতির পাশে ছিলেন। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতা। সুখবরটি শোনার পরই রাঘব শিমলায় ছুটে গিয়েছিলেন। পরিণীতির মা, শাশুড়ি এবং ভাইয়েরাও তাকে দেখতে সেখানে পৌঁছে যান।
পরিবারের সবার এমন উপস্থিতি নিয়ে মজার ছলে পরিণীতি বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, তার পুরো পরিবারই বুঝি শুটিংয়ে চলে এসেছে!
সেই সময়ের স্মৃতি মনে করে অভিনেত্রী আরও জানান, তারা মজা করে বলতেন, এই সিরিজ যেমন তার ছেলে নীরের অভিষেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তেমনই ওয়েব দুনিয়ায় তার নিজেরও অভিষেক। তাই কাজটি তার কাছে বরাবরই বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মা হওয়ার পরও কাজের সুযোগ চান পরিণীতি।
মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা পরিণীতির জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। তবে মা হওয়ার কারণে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। বরং সন্তান জন্মের পর একজন অভিনেত্রীর কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই তাকে বেশি ভাবায়।
পরিণীতির মতে, মা হওয়া জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার কারণে পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়তে হবে, এমনটা হওয়া উচিত নয়।
তিনি মনে করেন, কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না; অভিনেত্রীদের কাজের প্রস্তাবও পেতে হবে। মাতৃত্বের পরও যদি শুধু মা হওয়ার কারণে কোনো শিল্পী কাজের সুযোগ হারান, তবে তা তার কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক হবে।
বলিউডে মাতৃত্বের পরও নিয়মিত কাজ করে চলেছেন এমন অভিনেত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন পরিণীতি। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং তার দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম।
পরিণীতির মতে, তাদের প্রজন্মের অভিনেত্রীরা মাতৃত্বের পরও নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন, যা আনন্দের বিষয়। প্রিয়াঙ্কা যেমন বলিউডের বাইরেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তেমনই অন্য অভিনেত্রীরাও নিজেদের পেশাগত জায়গা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তারা এখন ভালো কাজ করছেন এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো কাজ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
সংসার, সন্তান, নিজের সময়—সবকিছুরই গুরুত্ব রয়েছে।
কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনকেও বরাবর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিণীতি। পরিবার, বন্ধু, ভ্রমণ, ছুটি কাটানো, উৎসব কিংবা একান্তে নিজের জন্য কিছুটা সময়—জীবনের এই ছোট ছোট আনন্দগুলো তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তবে মা হওয়ার পর সময়ের হিসাব অনেকটাই বদলে গেছে। এখন নিজের কাজের পাশাপাশি সন্তানের প্রয়োজন এবং পরিবারের দায়িত্বও সমান গুরুত্ব পায়। তাই জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আগের চেয়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিণীতির কাছে সাফল্য মানে শুধু পেশাগত অর্জন নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনদের সময় দেওয়া এবং নিজের ভালো থাকার দিকে নজর রাখা—এই দুইয়ের সমন্বয়ই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ছেলের দায়িত্ব মা-বাবার দুজনেরই
রাজনীতির ব্যস্ততায় সময় কাটে রাঘব চাড্ডার, অন্যদিকে অভিনয়, শুটিং ও প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন পরিণীতি। ফলে তাদের ছোট্ট ছেলের দেখাশোনা কীভাবে হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে পরিণীতির উত্তর একেবারেই স্পষ্ট— সন্তানের দায়িত্ব তারা দুজন সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, তারা দুজনেই মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সন্তানের দায়িত্বও দুজনেরই। পরিণীতি যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন রাঘব ছেলের সঙ্গে সময় কাটান। আবার রাঘবের কাজ থাকলে সন্তানের দায়িত্ব সামলান পরিণীতি।
অর্থাৎ, সংসার ও সন্তান পালনের দায়িত্বকে তারা একজনের ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং নিজেদের কাজের সময় এবং প্রয়োজন বুঝে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
পরিণীতির কাছে স্বামীর এই সহযোগিতা বিশেষভাবে মূল্যবান। কারণ, অভিনয়ের ব্যস্ততা সব সময় একই রকম থাকে না। কোনো দিন শুটিং বা কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন রাঘবের আশ্বাস তাকে নতুন করে সাহস জোগায়।
পরিণীতি জানান, এমন অনেক দিন যায়, যখন কাজের শেষে তিনি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাঘব তাকে আশ্বস্ত করেন, তিনি নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন, বাকি সব দায়িত্ব তিনি সামলে নেবেন।
স্বামীর এই ভরসা তার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। কারণ, পেশাগত জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে দুজনের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
অভিনয় আর রাজনীতি—দুজনের জগৎ আলাদা
পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডার পেশাগত জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। একজন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, অন্যজন রাজনীতির মানুষ। সংসারে তাদের বোঝাপড়া ভালো হলেও কাজের ক্ষেত্রে একে অপরকে পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস খুব একটা নেই।
রাজনীতির জটিল হিসাব, সংসদীয় বক্তৃতা কিংবা নির্বাচনের বিষয়ে নিজের বিশেষ জ্ঞান নেই বলেই জানান পরিণীতি। তাই এসব বিষয়ে রাঘবকে পরামর্শ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। অন্যদিকে সিনেমার চিত্রনাট্য বা অভিনয়ের জগতেও রাঘবের অভিজ্ঞতা সীমিত।
এই প্রসঙ্গে মজার একটি ঘটনাও শোনান অভিনেত্রী। কোথাও তার নিজের গান বাজছিল, অথচ গানটি যে তারই, তা রাঘবকে আলাদা করে জানাতে হয়েছিল তাকে!
ঘটনাটি বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন পরিণীতি। তার বক্তব্য, কাজের ক্ষেত্রে দুজনের জগৎ আলাদা থাকাই ভালো। একে অপরের পেশাগত পরিসরে অযথা হস্তক্ষেপ না করেও যে ভালো বোঝাপড়া বজায় রাখা যায়, তাদের সম্পর্ক যেন তারই উদাহরণ।
মাতৃত্বের সঙ্গে স্বপ্নের সহাবস্থান
পরিণীতি চোপড়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার গল্পে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় ধরে রাখার দৃঢ় ইচ্ছা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা, পরিবারের সমর্থন এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বাস্তব চিত্র।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর একটাই— মাতৃত্ব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও তা কোনো নারীর পেশাগত স্বপ্নের সমাপ্তি হতে পারে না। একজন নারী একই সঙ্গে মা এবং সফল পেশাজীবী হতে পারেন, যদি তার কাজের সুযোগ থাকে এবং পরিবার ও কর্মক্ষেত্র থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলে।
পরিণীতির কাছে তাই মা হওয়া মানে অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো নয়। বরং জীবনের নতুন দায়িত্বকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা। আর সেই পথচলায় নিজের পরিচয়, ভালোবাসার মানুষদের সময় দেওয়া এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ