ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফরিদপুরে কিশোরীকে যৌন হয়রানির দায়ে ইসমাইল মোল্যার ৫ বছরের কারাদণ্ড


ফরিদপুরে কিশোরীকে যৌন হয়রানির দায়ে ইসমাইল মোল্যার ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী ইসমাইল মোল্যাকে আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সাথে, তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এবং জরিমানার অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইসমাইল মোল্যা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে, তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নগরকান্দা উপজেলার ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন প্রতিবেশী ইসমাইল মোল্যা। কিশোরী রাজি না হওয়ায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর, বাড়ির পাশের পুকুর থেকে পানি আনতে গেলে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিজের দোকানের পেছনে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন ইসমাইল। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং ইসমাইল পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: ইনানী সৈকতে পর্যটকের মৃত্যু, ভেসে যাওয়ার সময় ১৫ জন উদ্ধার

এই ঘটনায় পরদিন কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় প্রদান করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ‘কিশোরীকে যৌন হয়রানির মামলায় আসামি ইসমাইল মোল্যাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে আশা করি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে বিএনপি নেতাকে চাপা দেয়ার ঘটনায় ট্রাকচালক ও হেলপার গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


গাজীপুরে বিএনপি নেতাকে চাপা দেয়ার ঘটনায় ট্রাকচালক ও হেলপার গ্রেফতার

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ও স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ট্রাকচালক ও তার সহকারীকে (হেলপার) গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুর্ঘটনার সময় ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোররাতে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানার চারখালী এলাকা থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ট্রাকচালক মো. মাজহারুল ইসলামকে (২৫) গ্রেফতার করে।

এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা এলাকার কনফিডেন্স সিমেন্ট কারখানা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয় এবং হেলপার রাজু শেখকে (২০) গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত মাজহারুল ইসলাম বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মো. সৈয়দ গাজীর ছেলে। অপরদিকে, হেলপার রাজু শেখ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামের মো. লুৎফর শেখের ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এসআরবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশনস ও মিডিয়া অফিসার) শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা রাত্রীকালীন টহল শেষে সন্দেহভাজন তিন আসামিকে নিয়ে থানায় ফিরছিলেন। পথে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫) পুলিশের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গী থেকে ঘোড়াশালগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ সদস্য ও বিএনপি নেতাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্লা নিহত হন। এ সময় ট্রাকটি আটকাতে গিয়ে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও গুরুতর আহত হন। পরে কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার ভোররাত দেড়টার দিকে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থেকে চালক মাজহারুলকে গ্রেফতার করে এবং কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, এর আগে বুধবার থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর পলাশ থেকে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত কনফিডেন্স সিমেন্টের ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ম-১২-০৫৮২) জব্দ করা হয় এবং হেলপার রাজু শেখকে গ্রেফতার করা হয়। চালক মাজহারুলকে পিরোজপুর থেকে কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম শেখ ও রিয়াদুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে পাচারকালে ২৫০ বস্তা সারসহ ডিলার আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


ফরিদপুরে পাচারকালে ২৫০ বস্তা সারসহ ডিলার আটক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় পাচারের সময় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ২৫০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে। এ সময় সার ডিলার এ কে এম ইলিয়াস হাওলাদার এবং ট্রাকের হেলপারকে আটক করা হয়েছে, পাশাপাশি সারবোঝাই ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের নিচ থেকে এই সারগুলো জব্দ করা হয়।

আটককৃত ইলিয়াস হাওলাদার চান্দ্রা ইউনিয়নের সমেদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি মেসার্স হাওলাদার ট্রেডার্সের মালিক এবং ওই ইউনিয়নের বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) অনুমোদিত সার ডিলার।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাতে মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের নিচে একটি সারবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করে। এরপর তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৫০ বস্তা সারসহ ট্রাকটি জব্দ করেন এবং ডিলার ইলিয়াস হাওলাদার ও ট্রাকের হেলপারকে থানায় নিয়ে যান।

ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৫০ বস্তা সারবোঝাই ট্রাক জব্দসহ ডিলার ইলিয়াস হাওলাদার ও হেলপারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আটককৃত দুজন এবং জব্দ করা সারবোঝাই ট্রাক বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, পাচারের সময় সরকারি সারগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিএস পদে বিচারকের নিয়োগ বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিএস পদে বিচারকের নিয়োগ বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি মো. তৌফিক এনামের নেতৃত্বে হাইকোর্টের বেঞ্চ এই রুল জারি করে।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর, আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন।

এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তফসিলে থাকা পদগুলোকে সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিন বিচারককে নির্বাহী বিভাগের যে পদ দেওয়া হয়েছে, তা ওই বিধিমালার তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয়।

যাদের পদায়ন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কামরুল হাসানকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ৯ মার্চ যুগ্ম জেলা জজ জি এম ফারহান ইসতিয়াককে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পিএস এবং ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রিট আবেদনে এসব প্রজ্ঞাপনকে আইনগত ‘কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করার পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদের বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই তিন বিচারককে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পুনরায় নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ট্রোকের প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


স্ট্রোকের প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে পারে

স্ট্রোক একটি অত্যন্ত জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাস্তবে, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়ার পর অনেক সময় রোগী বা পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন না কী করা উচিত। কেউ লক্ষণ কমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন, আবার কেউ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করেন। অথচ স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এমন বিলম্ব বিপজ্জনক হতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বহুল প্রচলিত উক্তি হলো— ‘Time is Brain’। অর্থাৎ, প্রতিটি মুহূর্তের বিলম্বে মস্তিষ্কের আরও কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে রোগীকে উপযুক্ত জরুরি চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

স্ট্রোক প্রধানত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। ইস্কেমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালি রক্তের জমাট বা অন্য কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোকে রক্তনালি ফেটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটে। মস্তিষ্কের কোষ স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্তের ওপর নির্ভরশীল। রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দুই ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসাপদ্ধতি আলাদা। তাই জরুরি ভিত্তিতে ব্রেন সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা এবং দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি।

থ্রম্বোলাইসিস: সময়মতো চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে উপযুক্ত রোগীকে শিরার মাধ্যমে ওষুধ দিয়ে রক্তের জমাট গলিয়ে দেয়ার চিকিৎসাকে ইন্ট্রাভেনাস থ্রম্বোলাইসিস (Intravenous Thrombolysis) বলা হয়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের (AHA/ASA) ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণ শুরুর প্রথম ৪.৫ ঘণ্টার মধ্যে alteplase অথবা tenecteplase দিয়ে চিকিৎসার সুপারিশ করা হয়েছে। চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু করা যায়, ততই ভালো। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইমেজিং পরীক্ষার জন্য অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ৪.৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সব চিকিৎসার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। উন্নত ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্কের এমন অংশ শনাক্ত করা গেলে, যেখানে রক্তপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করলে উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণ শুরুর ৪.৫ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে থ্রম্বোলাইসিস বিবেচনা করা যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়া কিছু রোগীর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ইমেজিং ও চিকিৎসাগত মানদণ্ড পূরণ হলে এই চিকিৎসার সুযোগ থাকতে পারে। তবে রোগীর উপযোগিতা ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

থ্রম্বেকটমি ও অন্যান্য চিকিৎসা

মস্তিষ্কের বড় রক্তনালিতে রক্তের জমাট আটকে গেলে নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি (Mechanical Thrombectomy) পদ্ধতিতে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সেই জমাট অপসারণ করা যায়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে সাধারণত লক্ষণ শুরুর প্রথম ৬ ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা দেয়া হয়। নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত ও ইমেজিং মানদণ্ড পূরণ করলে নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও থ্রম্বেকটমি করা সম্ভব।

হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হলেও চিকিৎসার সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তক্ষরণ বাড়াতে পারে এমন ওষুধের প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন

হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে অসুবিধা, হঠাৎ দৃষ্টিতে সমস্যা কিংবা ভারসাম্য হারানো স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণ প্রথম কখন শুরু হয়েছে অথবা রোগীকে শেষ কখন স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে—সময়টি মনে রাখুন। চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

লক্ষণ সাময়িকভাবে সেরে গেলেও অবহেলা করবেন না। এটি সাময়িক ইস্কেমিক অ্যাটাক (Transient Ischemic Attack বা TIA) হতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্ট্রোকের ঝুঁকির একটি সতর্কসংকেত।

স্ট্রোকের সন্দেহ হলে কী করবেন?

* অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন এবং রোগীকে উপযুক্ত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

* রোগীকে খাবার, পানি বা মুখে খাওয়ার ওষুধ দেবেন না, কারণ তার গিলতে অসুবিধা থাকতে পারে।

* চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রক্তচাপ কমানোর ওষুধ বা অ্যাসপিরিন দেবেন না। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে অ্যাসপিরিন পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

* রোগীর লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, তা লিখে রাখুন। ঘুম থেকে ওঠার পর লক্ষণ দেখা গেলে শেষ কখন স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন, সেটিও জানান।

* রোগী অচেতন হয়ে গেলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, খাবারে অতিরিক্ত লবণ কমানো, শাকসবজি ও ফলমূলসহ সুষম খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রোকের পর সুস্থ হতে পুনর্বাসন জরুরি

স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর হাত-পা দুর্বল হয়ে যায়, কথা বলতে অসুবিধা হয় কিংবা হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় শুধু ওষুধই যথেষ্ট নয়; রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফিজিওথেরাপি, কথা বলার অনুশীলন, গিলতে অসুবিধার চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোগীর স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপনের ক্ষমতা উন্নত করার চেষ্টা করা হয়। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত পুনর্বাসন শুরু করা উচিত।

মনে রাখবেন

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা নয়—অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা মস্তিষ্কের ক্ষতি কমাতে, জীবন বাঁচাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার ঝুঁকি হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক: চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%