ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থীদের প্রাইমারিতে অংশ নেবেন না এদুয়ার ফিলিপ


ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থীদের প্রাইমারিতে অংশ নেবেন না এদুয়ার ফিলিপ

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ফ্রান্সের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডান ও বামপন্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে মধ্য-ডানপন্থীদের একক প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত প্রাইমারিতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ।

এ খবরটি জানানো হয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর অধীনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মধ্য-ডানপন্থী দল হরাইজনসের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। জনমত জরিপে তিনি মধ্য-ডানপন্থী অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় নিহত ৪০ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক

রোববার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের টিএফ১ টেলিভিশনের সংবাদ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপ মধ্য-ডানপন্থীদের একক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্ধারণের জন্য প্রস্তাবিত প্রাইমারিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমার মনে হয় না এই প্রাইমারি নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে।’ তার মতে, এই ধরনের উদ্যোগ কেবল ‘বিভক্তি ও বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি করবে।

ফিলিপ আরও বলেন, বিভিন্ন প্রার্থীকে নিজেদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।

তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মধ্য-ডানপন্থীদের অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী প্রার্থীদের জয়ের পথ সহজ করতে পারেন।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৭৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ১২ জন আটক

এর আগে গত সপ্তাহে মধ্য-ডানপন্থী আরেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও মাখোঁ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য প্রাইমারি নির্বাচনের প্রস্তাব দেন।

এদিকে, জনমত জরিপে বর্তমানে এগিয়ে রয়েছেন কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‌্যালি দলের নেতা মেরিন ল্য পেন। অন্যদিকে, কট্টর বামপন্থী ফ্রান্স আনবোড দলের প্রবীণ নেতা জঁ-লুক মেলানশোঁও জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট আগামী বছর ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত পর্বের ভোট হবে ২ মে।

আরও পড়ুন: মোবাইলের ভিডিওতেই মিলল সূত্র: ধর্ষণের পর তরুণী হত্যায় রিফাতের ফাঁসি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


ফেনীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

ফেনী, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস উদযাপন উপলক্ষে আজ সকালে ফেনীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুব-উল করিম।

সোমবার সকাল ১০টায় র‌্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালির পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সাদিকুর রহমান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেনী ইউনিটের সেক্রেটারি ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেনী ইউনিটের সদস্য ওসমান গনি রাসেল, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাবেক জেলা সভাপতি জিয়া উদ্দিন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সেজানুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বাসস’কে বলেন, ‘রক্ত এটা আল্লাহর দান। রক্তের প্রয়োজনীয়তা আমরা তখন বুঝি যখন আমাদের কারো প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী যারা আছে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। যদিও আমরা এ বিষয়ে এখন অনেকটা এগিয়ে।

কিন্তু, আমাদের আরো এগিয়ে আসতে হবে। রক্ত দিয়ে আমরা অনেক জীবন বাঁচাতে পারি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবহাওয়া অধিদপ্তর: সারা দেশে প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


আবহাওয়া অধিদপ্তর: সারা দেশে প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে। এছাড়া, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি ঘণীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

আজ সকাল ৬টায় এটি পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিলো এবং আজ রাত নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে, গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কুতুবদিয়ায় ৩৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ২০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ উত্তর বা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভোর ৬টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ।

আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৩ মিলিমিটার।

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ১৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৬ মিনিটে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


২০২৭ সালে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে দক্ষিণ কোরিয়া

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৭ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বরাদ্দকে দ্বিগুণ করে রেকর্ড ১৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সোমবার পার্লামেন্টে আগামী বছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিশ্বের শীর্ষ তিনটি মেমোরি চিপ উৎপাদনকারীর মধ্যে অন্যতম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে এসব চিপের চাহিদা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

লি বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর, ফিজিক্যাল এআই এবং এআই ডেটা সেন্টার—এই তিনটি বৃহৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে আমরা ২১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন (১৬ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দেব। এই বরাদ্দ চলতি বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াতে আমরা এআই এবং ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলোতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করব। অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি হলো প্রবৃদ্ধির এই সক্ষমতা।’

লি জানান, সরকার নিজস্ব এআই মডেলকে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক এআই উন্নয়ন প্রকল্পে ৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ করবে। তিনি এআই মডেলকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৭ সালের সরকারি ব্যয় পরিকল্পনা তুলে ধরতে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ৮২১ ট্রিলিয়ন ওন। এটি চলতি বছরের বাজেটের তুলনায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব।

তবে, বাজেট কার্যকর করার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন আবশ্যক। প্রেসিডেন্টের দলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী বছর এ খাতে বরাদ্দ ৮ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৭৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, সরকার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ও কেএফ-২১ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট ও ড্রোননির্ভর মানুষচালিত এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সমন্বয়ে সামরিক বাহিনীকে দ্রুত আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আলোকিত করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আলোকিত করবে

তিনা খানম

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : সরকারের মাস্টার প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ দেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে পানি সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর করার পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, নদী ভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে পানি ও মাটি থেকে অতিরিক্ত লবণাক্ততা কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।

এ কারণে এটি বাংলাদেশের পানি, কৃষি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য অপরিহার্য একটি প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করেছে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের ফলে বছরে মাছের উৎপাদন প্রায় আড়াই লাখ টন বৃদ্ধি পাবে এবং মোট ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

এক সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো ছিল প্রাণবন্ত। তবে ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী।

নদীগুলোর পলি মাটির স্তর পড়ার ফলে লবণাক্ততা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে পানি বাড়লে সেই পানি ধারণের অবস্থাও থাকে না, ফলে এসব অঞ্চলের জনপদ বন্যার কবলে পড়ে।

পরিবেশের এই বিরূপ আচরণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশ অর্থনীতি, সেচ, কৃষি, মাছ উৎপাদন এবং নৌ চলাচলে ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এর ফলে পুরো জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে উপকূলের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে খাওয়ার পানি পর্যন্ত পাচ্ছেন না। কৃষকরা সেচের পানি না পেয়ে মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে দিচ্ছেন, ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং আর্সেনিকের পরিমাণ বাড়ছে।

এছাড়া মৃতপ্রায় নদীতে শুষ্ক মৌসুমে মাছের উৎপাদন কমছে, ফলে অনেক জেলে বেকার হয়ে পড়ছেন। পানি না থাকায় নদীভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার (পদ্মা) পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বাসসকে বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পানি ভবনে পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট একটি অফিস আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেছি। গত ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি। ব্যারাজের কাজের অগ্রগতি আরও গতিশীল হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের সুবিধার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, পানিতে লবণাক্ততার কারণে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর ওই অঞ্চলে মানুষ বসবাস করতে পারবে না। সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং মাছসহ অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ স্বর্ণযুগে প্রবেশ করবে এবং কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমিটির সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

তবে দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় আরও বাড়বে। ব্যারাজটি চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। মূলত বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহের জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭৮টি পানিনিষ্কাশন কপাট (স্পিলওয়ে), ১৮টি তলদেশ নির্গমন পথ (আন্ডারস্লুইস), দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ।

ব্যারাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেইসঙ্গে থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বাসসকে বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি লবণাক্ততার কারণে খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই পানির সংকটের পাশাপাশি সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা আরও বাড়বে। এছাড়া বাড়বে পলি জমার কারণে জলাবদ্ধতা। এ জন্য ওই অঞ্চলগুলোতে ফ্রেশ পানির সর্বচ্চ সরবরাহ ও প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পদ্মা ব্যারাজ বড় ভূমিকা রাখবে।

মাশফিকুস সালেহীন বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং পানি ও মাটিতে থাকা লবণাক্ততা হ্রাস পাবে। নিঃসন্দেহে প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে, তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন, উজানে নদী ক্ষয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরকার নিশ্চয় সেগুলো বিবেচনা করেই এগোচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ্মা ব্যারেজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বাসসকে বলেন, পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের এক তৃতীয়াংশ ভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষি, অর্থনীতি এবং প্রাণীজ সম্পদসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথমে নেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের দিকে পুনরায় উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেটি তখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি আমরা সামনে এনেছি এবং পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নে আন্দোলন করেছি।

সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে পদ্মা ব্যারাজ দৃশ্যমান হবে এবং জাতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সার্বিকভাবে উপকৃত হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।

চলমান গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে।

খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় প্রকল্পটি প্রথমে বাস্তবায়িত হবে।

হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো।

এছাড়া সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূ-গর্ভস্থ জল পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানোও এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%