বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৭ এম
‘বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬’ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শনিবার ২৪ অক্টোবর দিনব্যাপী এ উৎসবের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিক, লেখক, কবি ও শিশুদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ, যা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অরুণ কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ছড়াকার জুলফিকার শাহাদাত এবং উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব কাদের বাবু সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে ছড়াকার আবু সালেহ উল্লেখ করেন, ‘শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেমন উন্মুক্ত মাঠ প্রয়োজন, তেমনি তাদের সুস্থ মনন গঠনে শৈশব থেকেই সাহিত্যের আস্বাদন অপরিহার্য।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মনসুর মুসা শিশুদের উপযোগী মানসম্মত ভাষা প্রয়োগ এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুসাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি হাসান হাফিজ বলেন, ‘সাহিত্যের আলো ছাড়া মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়; তাই সংবাদপত্র ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে শিশুসাহিত্য চর্চায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার প্রতি গুরুত্ব দেন অরুণ কুমার বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদুর রহমান জুয়েল ও বাচিকশিল্পী শাহারিয়া সিদ্দিকী সূচনার সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিশুদের জন্য ছবি আঁকা এবং গল্প ও ছড়া লেখার সৃজনশীল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যাহ্নবিরতির আগে দেশবরেণ্য ও তরুণ লেখকদের অংশগ্রহণে শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা পাঠের আসর বসে। এছাড়া শিশুদের জন্য খায়রুননেসা রিমির মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শনীও ছিল।
উৎসবের সমাপনী পর্বে সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৪ জন লেখক ও সাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা ২০২৬’।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ২৪ জন লেখক হলেন—জগলুল হায়দার, প্রিন্স আশরাফ, বিশ্বজিৎ দাস, রেজাউল করিম খোকন, রণজিৎ সরকার, খায়রুল বাবুই, আশিক মুস্তাফা, সফুরা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান বাবু, এনামূল হক পলাশ, কাজী তাহমিনা, তরুন ইউসুফ, সৈয়দা আঁখি হক, দীপ্তি সরকার, ফজলুল পলাশ, মুনীরুল ইসলাম, মিনহাজ ফয়সল, মোকাদ্দেস-এ-রাব্বী, রকিবুল ইসলাম, অপু বড়ুয়া, আপন অপু, শাম্মী তুলতুল, সাফওয়ান সামি দৃক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনার প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে, ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দুই জোটই দূরে অবস্থান করছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) জানায়, ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এই চিত্র উঠে এসেছে।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের দুটি প্রধান আরব দল সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। এর ফলে, সরকার গঠনে এই দুটি দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ পাওয়া এই ফলাফল নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে না। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ ও মাস আগে প্রকাশিত প্রায় সব জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে আইজেনকোটের জোটকে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে, সেসব জরিপেও কোনো জোটের এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশটির প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করে। সেসব জরিপে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে দুই থেকে তিনটি আসনে এগিয়ে ছিল আইজেনকোটের জোট। রাতভর ভোট গণনা এবং বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, আইজেনকোটের জোটকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে নেতানিয়াহুর দল ও তার নেতৃত্বাধীন জোট। এতে বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বুধবার রাত ৯টার কিছু পর দেয়া হালনাগাদ তথ্যে সিইসি জানায়, মোট ভোটের ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ গণনা শেষ হয়েছে। এতে প্রায় সব সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলাফল এখনো চূড়ান্ত না হলেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এবারের ইসরাইলের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের ক্ষমতা থেকে সরাতে বিপুল সংখ্যক আরব ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে, ইহুদি দলগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সব দলই আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছে।
সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের দেয়া ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট এখনো গণনা করা হয়নি। ফলে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে আরও এক থেকে দুই দিন লাগতে পারে, সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এরপর, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করবেন, তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, সরকার গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বুধবার জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে এক বৈঠকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তিনি বলেন, ‘এটি ইসরাইলি সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। ইসরাইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি।’
হারজোগ আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে পাওয়ার আশা করছেন। এরপর, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের পর আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, যাতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো যায়। সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’
যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট দুজনই সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইসরাইলের তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে গাদি আইজেনকোটের ‘চেঞ্জ ব্লক’ নেসেটে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। এ ফলের পর আইজেনকোট বলেন, জনগণ ‘পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে’।
তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির নির্বাচনী সদর দফতরে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার জোট জনগণের আস্থা হারিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়কে একটি জায়নবাদী সরকারে রূপ দিতে আমি আমার জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কাজ করব।’
এদিকে জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দফতরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার ডানপন্থি জোট ‘বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘জায়নবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করে ইসরাইলকে বিপদের মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইসরাইল
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির সন্নিকটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন ছাত্রনেতারা। এ সময় ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল তাদের। সেই গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন এএফপির ঢাকা ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির। বর্তমানে তিনি দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, এএফপির ঢাকা ব্যুরোতে তার ডেস্ক থেকে মাত্র এক গজ দূরে বসে শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি। ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন শিশির নিজেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছাড়ার সময় তখনও দুই দিন বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তা বাহিনী পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে কুখ্যাত ওই বাহিনী বিষয়টি জানতে পারলে শিশিরসহ এএফপির পুরো দলকে গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখার আশঙ্কা ছিল।
শফিকুল আলম আরও লেখেন, পুরো সময়জুড়ে শিশির অত্যন্ত শান্ত ও অবিচল থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি গোপনে ওই সময়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করতেও শুরু করেছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাত পোহালেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের পর শূন্য হয়ে যাওয়া এই আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে ১৮৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ভোটাররা ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে থাকা ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোট প্রদান করতে পারবেন।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ২৯ অক্টোবর নির্বাচনের সময় জেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৫ হাজার ৩০০ জন কর্মরত থাকবেন। এর মধ্যে ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ, ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার, ৩ জন ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির সদস্য, ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন। এছাড়া, মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯০টি, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক ২৫ জন, বিদেশি পর্যবেক্ষক ৪ জন এবং দেশি ও স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচনি মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে, উপনির্বাচনের আগের দিন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন এবং বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "সরকারি চাকরিজীবীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার সুযোগ না থাকলেও ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে বিএনপি তিনটি চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে।" এ ছাড়া, পরিবার কার্ড, কৃষি কার্ড, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়া এবং ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, "ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।"
অন্যদিকে, বুধবার রাত ৯টার দিকে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলটির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, "ধানের শীষের জোয়ার দেখে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নানাভাবে ভোটকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।" তিনি আরও বলেন, "এলাকার মানুষ ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। চারদিকে ধানের শীষের জয়জয়কার। নির্বাচিত হলে এলাকাকে মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ এবং উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মাগুরার শালিখা আমলি আদালতে তাদের হাজির করা হলে বিচারক বর্ণালী রানী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা শালিখা উপজেলার বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমানকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তৎকালীন শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ এবং এসআই ইসমাইল হোসেন।
পরবর্তীতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডকে সে সময় ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখিয়ে শালিখা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল।
নিহত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ এবং এসআই ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে শালিখা থানাকে নির্দেশ দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
স্থানীয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের জামাতা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ