ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন রূপে সাজছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’


নতুন রূপে সাজছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’

পলিয়ার ওয়াহিদ

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : হেমন্তের মায়াবী দুপুরে চারদিকে সোনালি রোদ ঝিলমিল করছে। আকাশে কিছু ছন্নছাড়া মেঘ ভাসছে। বর্ধমান হাউসের ঘন গাছের ওপর রোদ পড়ছে। দূরে দাঁড়িয়ে পুরোনো কিন্তু আভিজাত্যময় বর্ধমান হাউসের বলাকা রঙের সৌন্দর্য দেখছিলাম। যদিও এটি জীর্ণ ও মলিন, তবুও এর রাজকীয় আভা ঠিকই ঝলমল করছে।

প্রায় একশ বছর আগে, ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় এসে জাতীয় কবি এই ভবনে কিছুদিন ছিলেন, যা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কবির বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের বাসভবন ছিল। নজরুল এখানে পুকুরে গোসল ও সাঁতার কাটতেন এবং বিকাল ও সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন।

আরও পড়ুন: কবি মোহাম্মদ রফিকের জন্মদিন আজ, যিনি এরশাদের শাসনে কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন

কবির অবস্থানের স্মৃতি নিয়ে ভবনটি আজও দাঁড়িয়ে আছে। স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২৯ আগস্ট ১৯৭৮ সালে দোতলার পশ্চিমপাশে কবির থাকার ঘরটিকে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন। আজ আমি সেই স্মৃতিকক্ষ দর্শনে এসেছি এবং সরেজমিনে এর প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করছি।

বর্ধমান হাউসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই বাইরে রঙচটা বিশাল দেয়ালে একটি ক্ষুদ্র কাচের সাইনবোর্ড দেখা যায়। সেখানে ছোটহরফে লেখা রয়েছে দ্বিতীয় তলায় ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ।’ এটি আলাদা করে চোখে পড়ার মতো নয়। সিঁড়ি ভেঙে নিচতলায় পা রাখতেই বাঁপাশে ‘জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর’ দেখা যায়। জাদুঘরের অনুমতি নিয়ে ছবি তোলার পর দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করি।

পুরোনো মেহগনি কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে চোখে পড়ে ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতির ছাপ। সিঁড়ির পাশে সূক্ষ্ম কারুকাজ করা লোহার রেলিং রয়েছে। কাঠ ও লোহার এই যুগলবন্দিতে যেন আজও বেঁচে আছে বর্ধমান হাউসের আভিজাত্য ও ইতিহাস।

দোতলায় ওঠার পর ডানপাশে ‘ভাষা আন্দোলন জাদুঘর’ এবং বামদিকে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ রয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

সেখানে নজরুল ও বিষাদসিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের আবক্ষ ভাস্কর্য রয়েছে। বাইরে বিশাল তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে পড়ি। জানতে পারি, কক্ষটি সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

অগত্যা পরের দিন আবার আসি। সেদিনও তালা ঝুলতে দেখি। বাংলাদেশ শিল্পীকল্যাণ ট্রাস্টের অফিসে একজনকে পেয়ে জানালেন, ‘ও রুমের লোক পাশের বিল্ডিংয়ে গেছেন।’ এরপর তৃতীয় তলায় উঠে যাই। সেখানে ‘মহাফেজখানা’ ও ‘লোকঐতিহ্য জাদুঘর’ ঘুরে নিচে নেমে আসি। কিছুক্ষণ পর গিয়ে দেখি এবার দরজা আবছা ভেড়ানো।

মনটা খুশিতে ভরে গেল। ভেতরে প্রবেশের জন্য জুতা খুলতে হলো। মনে হলো, শ্রদ্ধামাখা কোনো ঘরে ঢুকছি। যদিও কল্পনার মতো নয়, তবে এটি ছিমছাম ও সাদামাটা ছোট কামরা। নজরুলবর্ষ উপলক্ষে সংস্কারের কাজ চলছে। ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ বলতে কয়েকটি ছোট-বড় ছবি ও কিছু বইপত্র রয়েছে। তিনটি বইয়ের আলমারিতে সাজানো বই ও পত্রপত্রিকা রয়েছে। সামান্য আয়োজন হলেও শ্রদ্ধা ও যত্নের অভাব নেই। এটি বেশ পরিষ্কার ও পরিপাটি।

কক্ষের চারদিক নজরুলের বিভিন্ন ধরনের ছবি দিয়ে সাজানো। বাঁদিকের প্রথম ছবিতে দুই নারীকে নজরুলের গান শেখানোর দৃশ্য দেখা যায়। তার নিচে নজরুলের তিন ছেলে সাব্যসাচী, অনিরুদ্ধ ও বুলবুলের ছবি রয়েছে। এরপর নজরুলের প্রৌঢ় ও যৌবনের দুটি ছবি টাঙ্গানো। নতুন কালেকশানগুলো এখনো অপ্রস্তুতভাবে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ ছবির পাশে ক্যাপশন নেই, ফলে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হয়। বড় একটি টেবিলের ওপর প্রমীলার ছবি, কবির গানের খাতা ও পাণ্ডুলিপি রয়েছে। পুরোনো কিছু ছবি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আরেকটি টেবিলে কাঁঠালি রঙের ফুলদানিতে বেগুনি ও কুসুম রঙের ফুলের পাশে নজরুলের ছোট আবক্ষ মূর্তিটি আকর্ষণীয়। তার পাশেই নজরুলকে ঘিরে তৎকালীন ঢাকার লেখক সমাজের সাদাকালো ছবি রয়েছে।

আরও পড়ুন: লালন সাঁইকে স্মরণে দেশজুড়ে আয়োজন, ঢাকায় বিশেষ অনুষ্ঠান ১৭ অক্টোবর

'নজরুল স্মৃতিকক্ষ' সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ও আধিপত্যবাদবিরোধী কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, "বহুদিন যাবত শুনেছি কক্ষটি সংস্কার করা হবে। কিন্তু করা হচ্ছে না কেন জানি না।"

নজরুল কক্ষ নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, "সবচেয়ে ভালো হবে বাংলা একাডেমির পুকুরটিকে ‘নজরুল স্মৃতিবিজড়িত পুকুর' লিখে ঘাটে একটা বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করলে। নজরুল বর্ষে এটি অভিনব ঘটনা হবে।"

বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের দোতলায় অবস্থিত নজরুল স্মৃতিকক্ষ শুধুমাত্র কবির স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের স্থান নয়, এটি নজরুলের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাংলা একাডেমির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এখানে কবির রচনাবলি ও তাঁর জীবন-সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন উপকরণ সংরক্ষিত রয়েছে।

নজরুল গবেষণায় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক আনোয়ারুল হক বলেন, "নজরুল স্মৃতিকক্ষে নজরুলের ওপর গবেষণাধর্মী সব বইয়ের কালেকশন ও ঢাকায় নজরুল আর কী কী করেছেন তার একটি দিনপঞ্জিও থাকতে পারে। এ ছাড়া বাংলা একাডেমিতে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ আছে, এটা অনেকেই জানে না। এর প্রচার-প্রচারণা দরকার।"

আরও পড়ুন: কবি নূরুল হক পেলেন ‘সার্ক-ফোসওয়াল’ আজীবন সম্মাননা

জাদুঘর থেকে বেরুতেই কবি ও প্রতিভাবান গীতিকার মহসিন আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "নজরুল স্মৃতিকক্ষসহ বাংলা একাডেমিতে এতগুলো জাদুঘর আছে, তা বেশিরভাগ দর্শক তো দূরের কথা লেখকরাই জানেন না। একাডেমির প্রধান গেটে জাদুঘরগুলোর একটা ম্যাপ থাকলে ভালো হয়।"

নজরুল বর্ষ ও নজরুল গবেষকদের এসব দাবির প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, "আমাদের নজরুল একাডেমি বা ইনস্টিটিউটের মতো ডেডিকেটেড তেমন কিছু করার সুযোগ কম। তবুও আমরা কক্ষটি সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছি। সংস্কার ও নতুনরূপ দেওয়ার জন্য বিখ্যাত আলোকচিত্রী ও লেখক নাসির আলী মামুনের সঙ্গে চুক্তিও করেছি। তিনি কবির ছবির বিরল কিছু সংগ্রহ দিয়েছেন। কিছু ছবির সেটাপের কাজ চলছে। কক্ষ ছোট হওয়ায় সব ছবি ধরবে না। যতটা নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা সম্ভব, সেটা করব। এ ছাড়া কাজী নজরুলের ওপর গবেষণাধর্মী বইয়ের সংগ্রহ তো আছে।

আরও বাড়ানো হবে। আর পুকুরের বিষয়টি যেহেতু আলোচনায় এসেছে, আমরা পদ্ধতিমাফিক আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।"

বর্ধমান হাউসের মূল ফটক পেরিয়ে যখন রাস্তায় নামি, তখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। ভাবছিলাম, নজরুল স্মৃতিকক্ষের সংস্কারের পাশাপাশি কক্ষটির পরিচিতি বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি। এতে কক্ষটি নতুন প্রজন্মের নজরুলচর্চা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। সংশ্লিষ্টদেরও প্রত্যাশা এমনই।

আরও পড়ুন: নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে ক্যুরি পরিবারের অসাধারণ কীর্তি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনআইডি সংশোধনে ইসির ৬৪ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি, ১ লাখ অপেক্ষমাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


এনআইডি সংশোধনে ইসির ৬৪ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি, ১ লাখ অপেক্ষমাণ

॥ হাবিবুর রহমান ॥

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে জমা দেওয়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তবে, বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরেও এখনও ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।

এছাড়া, বিভিন্ন কারণে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা যুক্ত হচ্ছে।

‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন রয়েছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন রয়েছে। ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।

এছাড়া, সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা, কমানো হয়েছে প্রশাসনিক ধাপ

এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি।

এছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাসসকে জানান, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এমনভাবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।

তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই

এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।

তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।

জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ

এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।

ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা—অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৩৩ জন গ্রেফতার, বিপুল মাদক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৩৩ জন গ্রেফতার, বিপুল মাদক উদ্ধার

রাজশাহী, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযান চলাকালে ১৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ১৩৩ জনকে গ্রেফতার করে এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

শনিবার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জের বিভিন্ন থানায় খুন, খুনসহ ডাকাতি বা যৌতুকের জন্য হত্যার মতো বড় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। তবে এই সময়ে ১টি দস্যুতা, ১টি চুরি এবং ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাসহ অন্যান্য খাতে ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর ফলে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭টিতে।

এছাড়া একই সময়ে মোট ১৫টি অপমৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে পুলিশ ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৪৫টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে পরোয়ানভূক্ত ৫৮ জন, সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন, তদন্তাধীন মামলার ৫১ জন এবং প্রতিরোধমূলক অন্যান্য ১৩ জনসহ মোট ১৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানে ১টি চায়নিজ কুড়াল, ২টি বার্মিজ চাকু, ২১০ পিস ইয়াবা, ৪৩৩ পিস ট্যাপেন্টাডল এবং ২শ’ লিটার ওয়াশ উদ্ধার করা হয়েছে।

জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অংশ হিসেবে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৭৯১ জন নাগরিক পুলিশি সেবা গ্রহণ করেছেন এবং চলতি মাসে মোট সেবাগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৬৯ জনে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৬

মুন্সীগঞ্জ, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার ফলে বাসের সুপারভাইজার মো. রুকনুুজ্জামান রঞ্জু (৫০), হেলপার চঞ্চল বিশ্বাস (২৪) এবং যাত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ সাকিব (৩২) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার ভোর ৩টায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদরের আজিবর রহমানের পুত্র রুকুনুজ্জামান রঞ্জু, একই জেলার ধামুড়হুদা উপজেলার শ্রী মিলন কুমার বিশ্বাসের পুত্র চঞ্চল বিশ্বাস এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ধামুড়হুদা উপজেলার মিজানুর রহমানের পুত্র সালাহউদ্দিন আহম্মেদ সাকিব।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসস’কে জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস একটি কাভার্ডভ্যানকে ওভারটেক করার সময় রেলিং ভেঙে পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩ জনের মরদেহ এবং আহত ১৬ জনকে উদ্ধার করে। আহত ১১ জনকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় এবং ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- হ্নদয় (৩০), নুর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবার্ড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীফুন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিসা (২৪) এবং বোরহানউদ্দিন (৫৫)।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহের রানা বাসস’কে জানান, নিহতদের মরদেহ হাসাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলি সেনা নিহতের পর পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


ইসরাইলি সেনা নিহতের পর পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর শুক্রবার সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসরাইলের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ইস্যু অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ইসরাইলিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এবং তার ডানপন্থী মিত্ররা পশ্চিম তীরে সশস্ত্র তৎপরতা দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নেতানিয়াহু জানান, অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ে হেবরনের বাসিন্দাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া, বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো এবং ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করা হবে।

১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলে নেওয়ার পর এত বড় পরিসরে অভিযান চালানোর ঘটনা ঘটেনি— এমন মাত্রার সামরিক অভিযানের হুমকিও দেন তিনি।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস হামলার দায় স্বীকার না করলেও ঘটনাটিকে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

একই সঙ্গে সংগঠনটি সমর্থকদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

হেবরনে দায়িত্ব পালনরত এএফপির এক আলোকচিত্রী অন্য একটি কাজে যাওয়ার পথে ফারশ আল-হাওয়া চেকপোস্টে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হতে দেখেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, পিস্তল ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেলে সজ্জিত দুই ফিলিস্তিনি ব্যক্তির সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই হামলাকারী নিহত হন।

পরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, জুডিয়া জংশন এলাকায় তাদের দুই সেনা ‘যুদ্ধে নিহত’ হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সেনাদের প্রতিরোধের প্রশংসা করেন। তার দাবি, সেনারা ‘সম্ভাব্য বড় ধরনের একটি হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছেন’। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিম তীরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি বা কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দেন।

পরে দিনের বেলায় হেবরন সফরকালে নেতানিয়াহু বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ও তিনি পশ্চিম তীরে বড় পরিসরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়নি। আইডিএফ অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুত। কখন তা শুরু হবে, সেই সময় আমরা নির্ধারণ করব। তবে অভিযান আসছে।’

নেতানিয়াহু জানান, প্রথম ধাপে ইসরাইলি বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় প্রবেশ করবে, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেবে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করবে।

এ ক্ষেত্রে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে আগে পরিচালিত অভিযানের আদলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সেই অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল।

ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন বিৎসেলেম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ইসরাইলের এই ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ দেওয়ার পরিকল্পনা ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে— এমন কর্মকাণ্ড ঠেকানো যায়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এক মুখপাত্রও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অবরোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করে তিনি সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হেবরন এলাকায় ‘সন্ত্রাসবিরোধী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করেছে। এ সময় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, পরে জানান যে বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েও দায়িত্ব পালন করছেন।

এলাকাটি থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে স্মোটরিচ বলেন, ‘আমরা আমাদের শত্রুদের কাছে দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিচ্ছি— ইহুদিদের ওপর হামলা করলে এর জন্য অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হবে।’

এর আগে শুক্রবার তিনি গাজার মতোই পশ্চিম তীরে বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

স্মোটরিচ বলেন, ‘পরবর্তী সরকারে এটি হবে আমাদের দাবির ভিত্তিতে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি, যা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গাভির পশ্চিম তীরে সীমিত স্বায়ত্তশাসন পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার দাবি জানান।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর রামাল্লায়।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুডিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকতে পারে না, যারা হত্যায় উসকানি দেয়, হত্যার আহ্বান জানায় ও হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করে।’

উল্লেখ্য, শুক্রবারের হামলার সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে— এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বেন-গাভির ও স্মোটরিচ উভয়েই পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের জোরালো সমর্থক। নেতানিয়াহুর সরকারের আমলে এসব বসতির বিস্তার ঘটেছে।

তবে আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। ওই হামলার পরই গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়।

শুক্রবারের হামলাকে হামাস ‘আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ ও নৃশংস হামলার স্বাভাবিক এবং বৈধ প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%