বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৪ এম
আগুন নেভানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৪২ ঘণ্টা পেরিয়েও জ্বলতে থাকছে।
আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়া এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাইকিং করে উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে জমে থাকা গ্যাসের মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ভূগর্ভের ওপরের স্তরে জমা থাকা পকেট গ্যাস নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকবে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ কারণে গ্যাসের চাপ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলাকালীন প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে আগুন জ্বলতে থাকে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আবদুল আওয়াল নামে এক শিক্ষকের বসতবাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামে সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল আওয়ালের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় প্রায় ২০ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- রায়হান, সোহরাব, বাচ্চু, শরীফ, ইসমাইল, নিরব, লিটন হোসেন সর্দার, নুর আলম, আবুল খায়ের আরিফ, মেহেরাজ, জয়দেব ও তুহিনসহ মোট ২০ জন।
স্থানীয়রা তাদের চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে ওই এলাকার নারী-পুরুষ হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় প্রায় ২০ জন আহত হন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে বাড়ির তিনদিক থেকে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ঘরে প্রবেশ করে। এতে ওই বাড়ির ৩টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরে থাকা ১০০ বস্তা সয়াবিন, ১২০ বস্তা ধান, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তাদের দাবি, এতে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে কেউ তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর আক্তার হোসেন বাচ্ছু এবং প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দীন।
রামগতি ফায়ার সার্ভিস ফায়ার ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. খোকন মঞ্জু বলেন, ওই এলাকা দুর্গম চরাঞ্চল ছিল এবং উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছি যে, স্থানীয়রা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে।
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ