ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ


রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কুড়িল বিশ্বরোডের একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কুড়িল বিশ্বরোডের ৯৫/ক নম্বর ভবনে, পূবালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘হোটেল পূর্বাচল’-এ আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটির ব্যবস্থাপক রবিউলের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এতে হোটেলটিতে অবস্থানকারী সাধারণ অতিথি ও আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় অস্বাস্থ্যকর বাতাস, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু, প্রবীণ ও হৃদরোগী

এ বিষয়ে তথ্য জানতে হোটেল পূর্বাচলের ব্যবস্থাপক রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা থানায় মাসোয়ারা দিই। যা কিছু জানার থানার ওসির কাছে জানেন।”

তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং হোটেলটিতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মাদকবিরোধী অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।উল্লেখ্য বিষয় একাধিকবার ও সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ সত্ত্বেও কোন প্রকারে বন্ধ হয়নি এই দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা। আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ম্যানেজার রবিউল।

আরও পড়ুন: ঢাকা শহরে লাইসেন্সবিহীন রিকশা চলতে পারবে না, নতুন নীতিমালা প্রকাশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে পেট্রোবাংলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে পেট্রোবাংলা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসটিকে থার্মোজেনিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গ্যাসের উৎস এবং মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময় গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে তা বন্ধ করার জন্য রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে আপাতত পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা আগুন নেভানো কিংবা গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, জোর করে আগুন নেভানো বা গ্যাসের পথ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভে গ্যাস জমে উচ্চচাপ তৈরি হতে পারে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের সম্ভাবনা তৈরি করে।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, "প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে কিছুটা তেলের মিশ্রণ বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতিও রয়েছে।" গ্যাসের উৎস ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই সময়ে আগুনের শিখার উচ্চতা এবং গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মো. শোয়েব আরও বলেন, "যদি পর্যবেক্ষণের পর আগুনের শিখা একই রকম থাকে বা উচ্চতা বাড়ে, তাহলে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।" এই প্রক্রিয়ায় সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। মূল কূপের পাশ দিয়ে বিকল্প কূপ খনন করে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে। তবে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, "কোনোভাবেই জোর করে আগুন নেভানো যাবে না। গ্যাস বের হওয়ার পথও বন্ধ করা যাবে না। এতে ভূগর্ভে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"

আশপাশের স্তর থেকেও বের হচ্ছে গ্যাস

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে বলে জানান পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা। ভূগঠনের পরিবর্তনের কারণে এসব স্তর দিয়ে গ্যাস বের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাপেক্স ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূগর্ভে গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক মজুত পাওয়া গেলে সেখানে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, "এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।"

২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা, তবু মানুষের ভিড়

গত ২৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর পর গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গ্যাসে আগুন ধরে যায়। শুক্রবার পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে আগুন জ্বলছিল।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি জানতে বাপেক্সের কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

আদেশে ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া ও লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রতিদিন ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। বিশেষ করে বিকেলের দিকে মানুষের সমাগম বাড়ছে। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "বাপেক্সের পক্ষ থেকে আগে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল। তাঁদের আশা ছিল, এর মধ্যে আগুনের তীব্রতা কমবে। কিন্তু আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।"

আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, "আগুনের কারণে সড়কে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। যানবাহন নিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে।"

স্থানীয় শহিদুল আলম বলেন, "প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেকে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ঘটনাস্থলের কাছে যাচ্ছেন। এভাবে মানুষের ভিড় চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

গ্যাসের আগুনের কারণে একদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি, অন্যদিকে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মিঠু নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মিঠু নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার

অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মো. সাইফুল ইসলাম মিঠুকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা সদরের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আইলপাড়া এলাকার নিজ ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া সাইফুল ইসলাম মিঠু ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মিরপুর থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাইফুল ইসলাম মিঠু প্রায় এক মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জের আইলপাড়া এলাকায় আত্মগোপন করেন এবং সেখানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর ও শেরেবাংলা নগর থানায় ২৪ জুলাই আন্দোলনে হামলার মামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। মিঠুর বিরুদ্ধে মোট কতগুলো মামলা রয়েছে, কোনো মামলায় ওয়ারেন্ট বা সাজাপ্রাপ্ত কি না, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বর্তমানে তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামীকাল তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানিয়েছেন, গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বাস্থ্য ডিজির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বাস্থ্য ডিজির

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনের সময়, স্বাস্থ্য ডিজি হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ। এ রোগের বিস্তার রোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।

অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগ সফল করতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক এবং সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীর বাড়ি-দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


সুনামগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীর বাড়ি-দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ওই সাক্ষীর বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতের দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দৌলতপুরে হামলার ঘটনাটি ঘটে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের আলামত সংগ্রহ করেছে। আমরা ভুক্তভোগীদের মামলা করার কথা বলেছি। তবে তারা আহতদের নিয়ে হাসপাতালে থাকায় আসতে বিলম্ব হচ্ছে।’

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুলাল মিয়ার বাড়ি ও দোকানে মধ্যরাতে কিছু লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। উল্লেখ্য, দুলাল মিয়ার বাবা মামুদ আলী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হন। এই পরিবারের মোট সাত স্বজন-আত্মীয় শহীদ হন।

২০১৬ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে দুলাল মিয়া দায়িত্ব পালন করেন। তদন্ত সংস্থার কাছে মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ১৫০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

যুদ্ধাপরাধের মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দৌলতপুর গ্রামের তোতা টেইলার্স, জলিল মিয়াসহ পাঁচজনকে মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন জেল খেটে তারা জামিনে মুক্তি পান।

তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩৪ জনকে হত্যা, পাঁচ নারীকে ধর্ষণ, ৩১ জনকে অপহরণ, ১৪ জনকে নির্যাতন এবং ৩০ বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুলাল মিয়ার মেয়ে উজ্জ্বলা আক্তার শুক্রবার বলেন, ‘আমার বাবা একাত্তরের মানবতাবিরোধী মামলার সাক্ষী। আতঙ্কের মধ্যেই তিনি মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর এই আতঙ্ক আরো বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, তার স্বামী হেলাল মিয়া ও বাবা দুলাল মিয়া মিলে গ্রামে দোকানদারি করেন। এই দোকানে উৎপাতও বেড়েছে। মামলার অন্যান্য সাক্ষী যারা ছিলেন, তারা ৫ আগস্টের পর গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। শুধু তার পরিবার রয়ে গেছে।

উজ্জ্বলা জানান, ‘২৩ অক্টোবর আমাদের দোকানে চুরি হয়। তখন শাল্লা থানাকে চুরির বিষয়টি অবগত করা হয়। ২৯ অক্টোবর পুলিশ গ্রামে আসে তদন্তে। তখন হামলাকারীরা পুলিশ কেন গ্রামে আসল, সেই জবাব আমাদের কাছে চায়। তারা পুলিশের সঙ্গেও তর্কে জড়ায়।’

তার অভিযোগ, ‘পুলিশ গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার পর মধ্যরাতে যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি তোতা টেইলার্সের ভাতিজা জালাল মিয়ার নেতৃত্বে তোফাজ্জল মিয়া, যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি জলিল মিয়ার নাতি শাহিন মিয়া, হেকিম মড়ল, সুলতান, রাজ্জাক, তারেক, শামিম, নূর ইসলামসহ ১৫-২০ জন বাড়িতে ও দোকানে হামলা চালায়।’

উজ্জ্বলা অভিযোগ করেন, হামলার পর দোকান ও বসতঘরের মালামাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা চারটি ফ্রিজ, ছয়টি গরু, দুই ভরি স্বর্ণ, নগদ চার লাখ টাকা নিয়ে যায়। বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা আমাদের পরিবারের ফাতেমা বেগম, ফরিদা বেগম ও রোকেয়া বেগমকে মারধর করে ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। পরে তাদেরকে দিরাই ও শাল্লা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

‘হামলাকারীরা আমাকে ও আমার ১২ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করেছে। আমরা যুদ্ধাপরাধের মামলার সাক্ষী এবং বীরাঙ্গনা পরিবারের সদস্য। এ কারণে তারা আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চায়।’

দুলাল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার রাতে হামলা করে সব লুট করে নিয়ে গেছে। এখন আমার স্বামীকে খুঁজে পাচ্ছি না। ৫ আগস্টের পর মামলার অন্য আসামিরা গ্রাম ছেড়ে ভয়ে চলে গেছেন।’

দুলাল মিয়ার মেয়ের জামাই ও উজ্জ্বলা আক্তারের স্বামী হেলাল মিয়া বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমি সুনামগঞ্জ থেকে দৌলতপুরে গিয়ে দেখি, আমার সব শেষ। দোকান ও বাড়ির সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ ছিলেন না। হামলাকারীরা অস্ত্রশন্ত্র নিয়ে হামলা ও লুটপাট করে।’

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোকতাদির আহমদ জানান, ‘দৌলতপুর গ্রামের তিন নারী ও এক শিশু আহত অবস্থায় এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি জালাল মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় পুলিশ ওই গ্রামে তদন্তে গেলেও হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের উচ্চবাচ্য হয়। রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%