০৭:০৪ পি.এম
ঈমান আনার পর একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ, যা প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পুরুষের জন্য আবশ্যক। নামাজ ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। যে কোনো ব্যস্ততা থাকুক, সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।
দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে হয়। এই সময় যানবাহনে নামাজের সময় আসতে পারে। চলন্ত বাস, লঞ্চ, জাহাজ, ট্রেন ও উড়োজাহাজে ফরজ নামাজ আদায় সম্ভব হলে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদাসহ আদায় করতে হবে। যদি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া কষ্টকর হয়, তবে বসে স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করে নামাজ আদায় করা যাবে। এভাবে নামাজ আদায় করা হলে পরবর্তী সময়ে তা পুনরায় পড়তে হবে না।
তবে যদি কেবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদার সঙ্গে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামাজ পড়ে নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে সতর্কতামূলক ওই ফরজ নামাজ পরবর্তী সময়ে আবার পড়া উচিত।
আরও পড়ুন: সুরা ইখলাস: পবিত্র কুরআনের ফজিলতপূর্ণ সুরা
বাসে সাধারণত দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজ পড়া সম্ভব নয়। তাই কাছাকাছি যাতায়াতের ক্ষেত্রে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব না হলে এবং নেমে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বা অসুবিধাজনক না হলে, পথিমধ্যে নেমে ফরজ নামাজ আদায় করা উচিত। আর দূরের যাত্রায়, যেখানে নেমে গেলে ঝুঁকি বা সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে বাস না থামলে সিটে বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করতে হবে এবং সতর্কতামূলক পরবর্তী সময়ে এর কাজা করতে হবে। (ইলাউস সুনান: ৭/২১২; মাআরিফুস সুনান: ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার: ২/১০১)
যানবাহনে নামাজ আদায়ে করণীয়
১. দীর্ঘযাত্রায় বাসচালকদের ফরজ নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে কোনো মসজিদে যাত্রা বিরতি করা উচিত।
২. নামাজে সমস্যা হতে পারে, এমন সময় যানবাহনে ওঠা উচিত নয়। তবে প্রয়োজনে রওয়ানা করতে হলে যেন নামাজ কাজা না হয়; এ ব্যাপারে যত্নবান থাকা চাই।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জের আলেম মাওলানা আসআদুর রহমান কাসেমীর ইন্তেকাল
৩. যানবাহনে নামাজ পড়ার সময় কেবলামুখী হতে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। যদি গাড়ি কেবলা মুখ থেকে অন্যদিকে ঘুরে যায়, তবে নামাজে থাকা অবস্থায় কিবলার দিকে ঘুরতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে যেদিকে মুখ হয়, সেদিকে মুখ রেখেই নামাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কেবলামুখি হয়ে নামাজ আদায় না করলে, এই নামাজ পরে আবার পড়ে নিতে হবে। কেবলামুখি হয়ে নামাজ আদায় করতে পারলে, পরে তা আবার আদায় করার প্রয়োজন নেই।
৪. নৌযানে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার কারণে মাথা চক্কর দিলে সর্বসম্মতিক্রমে বসেই নামাজ পড়া যাবে।
৫. চলন্ত রেলে নামাজ পড়া বাইরে সমতলে নামাজ পড়ার মতোই।
৬. সমতলের মতো উড়োজাহাজেও নামাজ আদায় করা যাবে। কাবা শরিফকেই সামনে রেখে নামাজ পড়তে হবে এ রকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং কাবার বরাবর ওপরের দিকে পুরো বায়ুমণ্ডলই কেবলা। তাই যত উঁচু স্থানেই মানুষ থাকুক, নামাজ আদায় করা যাবে। (জাদিদ ফিকহি মাসায়েল: ১/ ৮৭-৯০)
আরও পড়ুন: নবীজির জীবনের শেষ আমল হিসেবে মিসওয়াকের গুরুত্ব ও সওয়াব
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন