শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪০ পি.এম
নত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ’কে হত্যার মামলায় এসআরবি-১৪ কর্তৃক আরো একজন সন্দিগ্ধ আসামি, কিশোর গ্যাং নেতা আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআরবি ১৪ বুধবার (২১ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দুর্গাপুর পৌরসভার শহীদ মিনার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন দুর্গাপুর পৌরশহরের বাগিচাপাড়ার মোঃ শাহিন মিয়ার পুত্র।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর (২০২৬) রাতে আলিফ স্থানীয় একটি মনোহারী দোকান থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক পৌনে আটটার দিকে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারীরা তার ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে ৬টি গুলি ছোড়ে এবং পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-২৩, তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।
ঘটনার পর থেকেই এসআরবি-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের সদর কোম্পানির একটি টিম দুর্গাপুর পৌর শহীদ মিনার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশিকুর রহমান প্রাঙ্গনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এসআরবি-১৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র, সহকারী পরিচালক ও মিডিয়া অফিসার আবুল হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই হাতের মেহেদীর রং মুছতে না মুছতেই চিরবিদায় নিতে হলো লিমা আক্তার (২০) নামের নববধূকে। তার বিয়ের দিন ছিল মাত্র ৬ দিন আগে। এরই মধ্যে শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঠানো তৈজসপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে নববধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় থানার পুলিশ স্বামী একরামুল হক (২২) এবং শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের পাইখাতলা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত নববধূ লিমা পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের কন্যা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পারিবারিকভাবে পাশ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার মাঝিয়াইল গ্রামের একরামুলের সাথে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে লিমার বিয়ে সম্পন্ন হয়। নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের পাইখাতলা গ্রামের সাইদুল ইসলামের কনিষ্ঠ কন্যা লিমা আক্তার গত রোববার তার স্বামীসহ বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। বেড়ানো শেষে মঙ্গলবার বিকেলে তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পছন্দ না হওয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। রাত তিনটার দিকে লিমার ভগ্নিপতিকে একরামুল ফোন করে জানায় যে লিমা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
এদিকে, লিমাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভোররাত চারটার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল। নিহত লিমার স্বজনেরা জানান, তাদের বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় ঝগড়ার একপর্যায়ে লিমাকে শ্বাসরোধ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে, স্বামী একরামুল হক জানান, রাতে ঘুমানোর পর মাঝরাতে হঠাৎ দরজা খোলা দেখে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের বাইরে সানসেডে তার স্ত্রী লিমার মরদেহ ঝুলে থাকতে দেখেন। তিনি নিজেই মরদেহটি নামিয়ে এনে তার ভাইকে জানান। নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী একরামুল এবং শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ৩নং পোগলা ইউনিয়নে সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির আলিফ হত্যার বিচার এবং হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করেছেন স্থানীয় জনগণ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ১টা ৩০মি: পোগলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ফকির বাড়ি মোড় (সুনই বাজার) এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান যাতে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। এ সময় নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এলাকাবাসীও এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দাবি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের দাবি একটাই- সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবছর দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ আরও বলেন, পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কালীগঞ্জ পৌরসভা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, সাংবাদিক, স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। এবছর কালীগঞ্জ উপজেলায় ১০৩ পুজা মন্ডবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কালীগঞ্জ পৌরসভায় ১৫টি এবং ১১টি ইউনিয়নে ৮৮টি পুজামন্ডবে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও আন্তরিকতা ছিল উল্লেখযোগ্য, এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করেছে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। মহেশপুর ব্যাটেলিয়ান (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তর-৬৮-এমপি থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গয়েশপুর গ্রামের আম বাগানের ভেতর হাবিলদার মো. কবির মোল্লার নেতৃত্বে পরিচালিত এই চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে খোসালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমানা— পিলার-৬০/১০৫-আর থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অপর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। মাইলবাড়িয়া গ্রামের একটি কলাবাগানের মধ্যে নায়েব সুবেদার মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল চলাকালে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের সময় ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যশোরের মো. নাইম মোল্যা (২২), নুর নবী (২৪) ও ইমামুল হোসেন (২৬), সাতক্ষীরার শহিদুল মুফতি (৩৫), মাদারীপুরের শুভ বিশ্বাস (২৪), নড়াইলের আকাশ রায় (২৩) এবং ঢাকার মো. সজিব (২০) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মহেশপুর ব্যাটেলিয়ান (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ