শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ পি.এম
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করেছে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। মহেশপুর ব্যাটেলিয়ান (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তর-৬৮-এমপি থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গয়েশপুর গ্রামের আম বাগানের ভেতর হাবিলদার মো. কবির মোল্লার নেতৃত্বে পরিচালিত এই চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে খোসালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমানা— পিলার-৬০/১০৫-আর থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অপর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। মাইলবাড়িয়া গ্রামের একটি কলাবাগানের মধ্যে নায়েব সুবেদার মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল চলাকালে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের সময় ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যশোরের মো. নাইম মোল্যা (২২), নুর নবী (২৪) ও ইমামুল হোসেন (২৬), সাতক্ষীরার শহিদুল মুফতি (৩৫), মাদারীপুরের শুভ বিশ্বাস (২৪), নড়াইলের আকাশ রায় (২৩) এবং ঢাকার মো. সজিব (২০) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মহেশপুর ব্যাটেলিয়ান (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে দেড় মাস বয়সী এক শিশুকে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় বলে জানান তার মামা রাকিব হাসান। রাকিব হাসান বলেন, ‘সকাল থেকে আমার ভাগনে খুব কান্নাকাটি করছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার ছিলেন না। সেখানে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ এনে দিলে শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। এরপর তাঁরা জানান, ডাক্তার এসে দেখবেন।’
রাকিব হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের অপেক্ষায় তাঁরা সকাল নয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কোনো চিকিৎসক না আসায় শিশুটির মৃত্যু ঘটে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব ছিল কি না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগে সেখানকার জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না, তবে এব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাদিয়া আক্তার (১৮) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধু নাদিয়া আক্তার উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মোঃ কাউসারের (২৫) স্ত্রী এবং লংগাইর ইউনিয়নের নামা বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের পুত্রীর। নাদিয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অটো চালক কাউসার ও শাশুড়ী পলাতক রয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত রাতে গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিহত গৃহবধূর মা মইফুল গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়, নিহতের পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে গফরগাঁও উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মৃত নুর চান মিয়ার ছেলে মোঃ কাউসারের সাথে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নামা বাগবাড়ী গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে নাদিয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাদিয়া স্বামী ও শাশুড়ির সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় স্বামী নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শ্বশুর পরিবারের সদস্যরা রাতেই গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর প্রচার করে। পরে এই খবর নিহতের পরিবারকে জানানো হয়।
নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা থানায় পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ রাত সাড়ে দশটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের না পেয়ে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। গৃহবধূ নাদিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতিখলা গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা? তবে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হচ্ছে। নিহতের দূর সম্পর্কের দুলাভাই মফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে কাউসার নাদিয়াকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তার অভিযোগ, নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পর স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে গেছেন। গফরগাঁও থানার এস আই কবির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, দলটি বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক রেখেছে। বর্তমানে জামায়াতের নেতারা এমন বক্তব্য প্রদান করছেন, যেন তারা অতীতে কারো সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চাপরাইলে আবু বক্কর বিশ্বাস মকসেদ আলী কলেজে মাদক, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, যৌতুক এবং অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, জামায়াত অতীতে জাতীয় পার্টির শাসনামলে এরশাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছে, বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে মন্ত্রিত্বের ভাগ নিয়েছে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গেও জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল।
তিনি মনে করেন, জামায়াতের বর্তমান নেতাদের বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা স্পষ্ট। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতের আমির কখনো মিথ্যা বলেননি, এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক নেতাদের অতিমানবীয় বা ভুলের ঊর্ধ্বে হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা উচিত নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভুলত্রুটি ঘটতে পারে, তবে সেগুলো স্বীকার করে সংশোধনের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।
একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খান। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার জন্য জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তর দলটিকে দিতে হবে। তার অভিযোগ, অতীতের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হলেও এখনো সকল প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া সম্পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে ১২টি প্রতিমা এখনও বিসর্জন দেওয়া বাকি রয়েছে।
এ বছর উপজেলায় ১১ ইউনিয়নে ১০৬টি দুর্গা মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিজয়া দশমীর দিনে সকল পূজা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু দশমীর দিনে ৯১টি পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
পরবর্তী দিনে, বৃহস্পতিবার, আরও ৩টি মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। জানা গেছে, বাকী ১২টি প্রতিমা দ্রুতই বিসর্জন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ