শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪১ পি.এম
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ৩নং পোগলা ইউনিয়নে সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির আলিফ হত্যার বিচার এবং হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করেছেন স্থানীয় জনগণ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ১টা ৩০মি: পোগলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ফকির বাড়ি মোড় (সুনই বাজার) এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান যাতে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। এ সময় নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এলাকাবাসীও এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দাবি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের দাবি একটাই- সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবছর দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ আরও বলেন, পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কালীগঞ্জ পৌরসভা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, সাংবাদিক, স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। এবছর কালীগঞ্জ উপজেলায় ১০৩ পুজা মন্ডবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কালীগঞ্জ পৌরসভায় ১৫টি এবং ১১টি ইউনিয়নে ৮৮টি পুজামন্ডবে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও আন্তরিকতা ছিল উল্লেখযোগ্য, এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করেছে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। মহেশপুর ব্যাটেলিয়ান (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তর-৬৮-এমপি থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গয়েশপুর গ্রামের আম বাগানের ভেতর হাবিলদার মো. কবির মোল্লার নেতৃত্বে পরিচালিত এই চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে খোসালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমানা— পিলার-৬০/১০৫-আর থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অপর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। মাইলবাড়িয়া গ্রামের একটি কলাবাগানের মধ্যে নায়েব সুবেদার মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল চলাকালে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের সময় ১২ বাংলাদেশিকে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যশোরের মো. নাইম মোল্যা (২২), নুর নবী (২৪) ও ইমামুল হোসেন (২৬), সাতক্ষীরার শহিদুল মুফতি (৩৫), মাদারীপুরের শুভ বিশ্বাস (২৪), নড়াইলের আকাশ রায় (২৩) এবং ঢাকার মো. সজিব (২০) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মহেশপুর ব্যাটেলিয়ান (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে দেড় মাস বয়সী এক শিশুকে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় বলে জানান তার মামা রাকিব হাসান। রাকিব হাসান বলেন, ‘সকাল থেকে আমার ভাগনে খুব কান্নাকাটি করছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার ছিলেন না। সেখানে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ এনে দিলে শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। এরপর তাঁরা জানান, ডাক্তার এসে দেখবেন।’
রাকিব হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের অপেক্ষায় তাঁরা সকাল নয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কোনো চিকিৎসক না আসায় শিশুটির মৃত্যু ঘটে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব ছিল কি না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগে সেখানকার জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না, তবে এব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাদিয়া আক্তার (১৮) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধু নাদিয়া আক্তার উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মোঃ কাউসারের (২৫) স্ত্রী এবং লংগাইর ইউনিয়নের নামা বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের পুত্রীর। নাদিয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অটো চালক কাউসার ও শাশুড়ী পলাতক রয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত রাতে গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিহত গৃহবধূর মা মইফুল গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়, নিহতের পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে গফরগাঁও উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মৃত নুর চান মিয়ার ছেলে মোঃ কাউসারের সাথে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নামা বাগবাড়ী গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে নাদিয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাদিয়া স্বামী ও শাশুড়ির সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় স্বামী নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শ্বশুর পরিবারের সদস্যরা রাতেই গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর প্রচার করে। পরে এই খবর নিহতের পরিবারকে জানানো হয়।
নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা থানায় পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ রাত সাড়ে দশটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের না পেয়ে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। গৃহবধূ নাদিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতিখলা গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা? তবে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হচ্ছে। নিহতের দূর সম্পর্কের দুলাভাই মফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে কাউসার নাদিয়াকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তার অভিযোগ, নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পর স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে গেছেন। গফরগাঁও থানার এস আই কবির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ