বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ পি.এম
কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে উত্তাল ঢেউ ও স্রোতে ভেসে গিয়ে শান্ত (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দুটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ মোট ১৬ জন ভেসে যেতে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় ১৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মৃত শিশু শান্ত ঢাকার খিলগাঁওয়ের গোরান এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেনের পুত্র। সে ধানমন্ডির ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
উদ্ধারকৃত পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন- আফলাম (১৮), ইয়ামিন (১৬), কাওসার (১৭), সাইফুল ইসলাম (১৫), হারিস (১৩), আব্দুল্লাহ (৩৫), রিয়াদুল (১৮), তাহসিম (১২), হাসনাইন (১২), আদিল হাসান (১৫), মুসা (১৮), শিব্বির (৩০), আব্দুল্লাহ (২২), জিহাদ (১৭) ও নাইম। তারা সকলেই ঢাকার তেজগাঁওয়ের দারুল আরকাম ও ধানমন্ডির ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর ইনানী সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সৈকতে বেড়াতে এলেও সেখানে দৃশ্যমান লাইফগার্ড ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবও রয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ের দারুল আরকাম ও ধানমন্ডির ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন বৃহস্পতিবার সকালে ইনানী সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সাগরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতে তারা বিপদে পড়েন। তখন কয়েকজন স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে তারা চিৎকার শুরু করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিচকর্মী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুটি ট্রলারের সহায়তায় ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। তবে শিশু শান্ত নিখোঁজ থাকে। পরে দুপুর ১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, একজন সাঁতার কাটতে কাটতে সাগরের মাঝামাঝি চলে গিয়েছিলেন। পরে তাকে স্রোতে ভেসে যেতে দেখা যায়। তখন একটি নৌকা নিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। ওই সময় আরেকজনকেও উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চোখের সামনেই তিনি স্রোতে ভেসে যান।
ইনানী ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান জানান, দুটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাগরে গোসল করতে নামেন। কয়েকজন পানির স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে তারা চিৎকার শুরু করেন। তখন দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুটি ট্রলারের সহায়তায় প্রায় সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইনানী সৈকতে লাইফগার্ড না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘এখানে কোনো লাইফগার্ড নেই। কেন নেই, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
সৈকতে বেড়াতে এসে এমন দুর্ঘটনা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটকেরা। গাজীপুরের বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, ইনানী সমুদ্রসৈকতে কোনো লাইফগার্ড দেখা যায় না। কক্সবাজারের অন্যান্য এলাকায় লাইফগার্ড থাকলেও এখানে তা চোখে পড়ে না।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর কক্সবাজারের হিমছড়ির পেঁচার দ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়।
পরপর এমন দুর্ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পর্যটকদের দাবি, সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা জোরদার, লাইফগার্ড নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সৃজনশীলতার নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজিত প্রাণ-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগী খুঁজতে অংশগ্রহণ করেছেন দেশের চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং, ফ্যাশন, সংগীত, মার্কেটিং ও সৃজনশীল যোগাযোগ শিল্পের বিশিষ্ট পেশাজীবীরা। চূড়ান্ত বিচারকাজের আয়োজন করা হয় দ্য ডেইলি স্টার কনফারেন্স হলে।
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘হিউম্যান ক্রিয়েটিভিটি, এআই পসিবিলিটিস’। মানুষের কল্পনা, সৃজনশীল চিন্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে নতুন ধরনের সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশের এআই ক্রিয়েটিভ কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
চূড়ান্ত বিচারকমণ্ডলীতে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব মার্কেটিং তানজিলা বাহার চৌধুরী, সিবস সল্যুশনের প্রতিষ্ঠাতা হাসিব হাসান চৌধুরী, হাভাস বাংলাদেশের সিইও ও লেখক কিংকর আহসান, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব, ড্রিক ড্রামার হাসিবুল হোসেন উপল, হাউস অব আহমেদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আহমেদ তুহিন রেজা, শূন্য’র কমিউনিকেশনস স্ট্র্যাটেজিস্টের লিড গিটারিস্ট ইসমামুল ফারহাদ এবং এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও সংগীতশিল্পী মাহাদী ফয়সাল।
বিভিন্ন শিল্পে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এআই-নির্ভর সৃজনশীল কাজের মৌলিকত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার, গল্প বলার সক্ষমতা, নান্দনিকতা এবং সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়নে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃজনশীল কাজের প্রচলিত পদ্ধতিকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। এই বাস্তবতায় প্রিজমের লক্ষ্য হলো শুধু এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেয়া নয় বরং প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষের নিজস্ব ভাবনা, মৌলিক ধারণা, গল্প বলার দক্ষতা ও সৃজনশীল সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়া।
চূড়ান্ত পর্যায়ে জমা পড়া কাজগুলোর বৈচিত্র্য বাংলাদেশের এআই-নির্ভর সৃজনশীলতার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। ফলে সেরা কাজ নির্বাচন করতে বিচারকদের সামনে মৌলিকত্ব, সৃজনশীল বাস্তবায়ন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনার চ্যালেঞ্জ ছিল।
এবারের আয়োজনে চারটি বিভাগে কাজ মূল্যায়ন করা হচ্ছে—এআই বিজ্ঞাপন, এআই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, এআই মিউজিক ভিডিও এবং এআই ফ্যাশন। বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও ফ্যাশন শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুমুখী ব্যবহার এবং নতুন সৃজনশীল সম্ভাবনাকে সামনে আনাই এসব বিভাগের উদ্দেশ্য।
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের উদ্যোগ প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের ক্রিয়েটরদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, উদ্ভাবন ও নিজস্ব সৃজনশীল ভাষা বিকাশে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ ক্রিয়েটরদের সঙ্গে শিল্পের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সংযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশের এআই-নির্ভর সৃজনশীল কাজকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের সৃজনশীলতার সম্পর্ক কীভাবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার উপযোগী সৃজনশীল কাজ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে চায় এই আয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন রোগী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৫ জন।
এর আগে গতকাল বুধবার ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং মঙ্গলবার একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। এছাড়া গেল ৬ ও ১৫ অক্টোবর ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জন করে মারা গিয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ