বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৩ এম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর আশা এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কাতারের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবটি ইরান নাকচ করে দিয়েছে। তেহরানের বক্তব্য, এই প্রস্তাবটি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। ইরান একই সঙ্গে জানিয়েছে, তারা পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়।
বুধবার, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার কাতার ইরানের আলোচকদের কাছে একটি খসড়া চুক্তি প্রদান করে। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য ছিল আট মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধ করা।
তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা আবার শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরমাণু ইস্যুতে অনড় তেহরান
যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে।
তবে, ইরান বারবার ঘোষণা করে আসছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। দেশটির দাবি, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে দেশের বেসামরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য।
এই বিরোধের কারণে শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় না দিলে সমঝোতার পথে কতটা অগ্রগতি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।
ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থানে নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দেশটির সংসদ নির্বাচনে আবার জয়ের চেষ্টা করছেন।
এ পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর জোট ইসরাইলের সংসদে সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার নতুন সরকার গঠনের আলোচনা শুরুর সময় নেতানিয়াহু জানান, ইরানের হুমকি দূর করতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করবেন।
তিনি ইরানকে ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটও ইরানের ওপর হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সমর্থন করেছেন।
যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে বিশ্ববাজারের ঝুঁকি
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। জ্বালানির দামও বেড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে নতুন হামলা হলে বিশ্ববাজারে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পার্সি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে কোনো সামরিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে, তা গ্যাস সরবরাহকারী ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই বড় উদ্বেগের বিষয়।’
এই সতর্কবার্তা জ্বালানি বাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আবার সংঘাত শুরু হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ পড়তে পারে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব পড়তে পারে।
ইয়েমেনেও বাড়ছে সংঘাত
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট বাহিনী এবং ইরানপন্থী হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে।
বুধবার হুথিরা দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর খালি করার আহ্বান জানায়। এই শহর সৌদি সমর্থিত সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
হুথিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ। সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এডেন বিমানবন্দরে অবস্থানরত সবাইকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। সেখানে একটি সৌদি সামরিক কার্গো বিমান রয়েছে। বিমানটিতে ইয়েমেনের জনগণকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র বহন করা হচ্ছে।’
তবে, এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর লড়াইয়ে প্রায় ১০০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬৩ জন হুথি যোদ্ধা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্ত বাহিনীর ৩৪ জন সদস্যও নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে।
সামনে কী হতে পারে?
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইসরাইলের নতুন হামলার হুমকি এবং ইয়েমেনের সংঘাত—এই সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
কাতারের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইরান যদি তার অবস্থান থেকে সরে না আসে, তাহলে সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, নতুন সামরিক হামলা শুরু হলে তার প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিও নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র- মিডল ইস্ট আই
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগুন নেভানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৪২ ঘণ্টা পেরিয়েও জ্বলতে থাকছে।
আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়া এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাইকিং করে উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে জমে থাকা গ্যাসের মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ভূগর্ভের ওপরের স্তরে জমা থাকা পকেট গ্যাস নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকবে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ কারণে গ্যাসের চাপ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলাকালীন প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে আগুন জ্বলতে থাকে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আবদুল আওয়াল নামে এক শিক্ষকের বসতবাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামে সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল আওয়ালের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় প্রায় ২০ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- রায়হান, সোহরাব, বাচ্চু, শরীফ, ইসমাইল, নিরব, লিটন হোসেন সর্দার, নুর আলম, আবুল খায়ের আরিফ, মেহেরাজ, জয়দেব ও তুহিনসহ মোট ২০ জন।
স্থানীয়রা তাদের চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে ওই এলাকার নারী-পুরুষ হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় প্রায় ২০ জন আহত হন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে বাড়ির তিনদিক থেকে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ঘরে প্রবেশ করে। এতে ওই বাড়ির ৩টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরে থাকা ১০০ বস্তা সয়াবিন, ১২০ বস্তা ধান, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তাদের দাবি, এতে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে কেউ তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর আক্তার হোসেন বাচ্ছু এবং প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দীন।
রামগতি ফায়ার সার্ভিস ফায়ার ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. খোকন মঞ্জু বলেন, ওই এলাকা দুর্গম চরাঞ্চল ছিল এবং উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছি যে, স্থানীয়রা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে।
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের কিছু অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া, দমকা হাওয়া, বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া, এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে এবং মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে নির্মিত পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল (এলিভেটেড) সড়ক আগামী ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৯৯ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্পের সূত্র মতে, মূল দ্বিতল সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন। বর্তমানে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। কাশীপুরে টোল প্লাজার সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার স্থাপন, র্যাম্পের রেলিং নির্মাণ এবং নিচতলার সড়কে অতিরিক্ত অ্যাসফল্টের প্রলেপ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
প্রকল্পের পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সড়কটি উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সড়কটি চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় তলার সড়কে পিচ ঢালাইয়ের শেষ স্তর, রোড মার্কিং ও সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সড়কটি আলোকিত হবে।
১১ মিটার চওড়া সড়ক, থাকছে ব্রেকডাউন লেন। প্রকল্প পরিচালক জানান, পঞ্চবটি থেকে চরসৈয়দপুর পর্যন্ত মূল দ্বিতল সড়কটির দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার। এর সঙ্গে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক বা র্যাম্প রয়েছে। পঞ্চবটী মোড়ে তিনটি (এ, বি ও সি) এবং কাশীপুরে দুটি (ডি ও ই) র্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে।
সড়কটির ওপরের অংশে রোড মার্কিংয়ের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ দুই লেনের সড়ক ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রশস্ত হলেও এই দ্বিতল সড়কটি ১১ মিটার চওড়া। মূল লেনের পাশাপাশি মাঝখানে ডটেড লাইন দিয়ে প্রায় আড়াই মিটার অতিরিক্ত জায়গা রাখা হয়েছে। বিকল হওয়া গাড়ি নিরাপদে সরিয়ে রাখার জন্য এই অংশ ব্রেকডাউন লেন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
পঞ্চবটী প্রবেশমুখে কোনো টোল প্লাজা রাখা হয়নি। সমস্ত টোল প্লাজা কাশীপুরে স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মোট ১০টি লেনের মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে। এর মধ্যে ছয়টি লেন দিয়ে মূল এলিভেটেড সড়কে দ্রুত চলাচল করা যাবে। বাকি চারটি লেনের মধ্যে দুটি দিয়ে যানবাহন কাশীপুরে নামবে এবং অন্য দুটি দিয়ে সড়কে উঠবে। টোলের হার ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ও অনুমোদিত হয়েছে।
নিচের সড়কেও দেয়া হচ্ছে পিচের প্রলেপ
দ্বিতল সড়কের নিচের অংশে ধুলাবালি কমানোর জন্য এবং আরসিসি ঢালাইয়ের স্থায়িত্ব বাড়াতে নতুন করে ৪০ মিলিমিটার পুরু অ্যাসফল্টের প্রলেপ দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক বলেন, সাধারণত আরসিসি সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করলে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর উপরিভাগ কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, তাই আগেভাগেই সড়কটির ওপর ৪০ মিলিমিটার পিচের প্রলেপ দেয়া হচ্ছে। এতে কংক্রিটের বেড সুরক্ষিত থাকবে এবং যানবাহন মসৃণভাবে চলাচল করতে পারবে। এটি অতিরিক্ত কাজ হলেও মূল সড়কের উদ্বোধন পেছাবে না।
বর্তমানে সড়কবাতি ও সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। নিচতলার ডিভাইডারে মাটি ভরাট, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। সড়কটি চালু হলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ রুটে দীর্ঘদিনের যানজট কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কে টোলের হার নির্ধারণ।
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দ্বিতল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কের টোলের হার সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেতু বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইমরুল হাসান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে নির্মিত পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর ও কাশীপুর পর্যন্ত দ্বিতল সড়কে যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী টোল আদায় করা হবে। সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার দিন থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
নির্ধারিত টোলের হার অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে পঞ্চবটি থেকে চরসৈয়দপুর যেতে ৪০ টাকা এবং কাশীপুর পর্যন্ত ২০ টাকা দিতে হবে। তিন চাকার সিএনজি অটোরিকশার টোল যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ টাকা।
প্রাইভেটকার ও জিপের ক্ষেত্রে পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে টোল ১০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ৫০ টাকা। মাইক্রোবাস ও পিকআপের জন্য এ দুই পথে টোল যথাক্রমে ১৫০ ও ১০০ টাকা।
মিনিবাসের টোল পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে ২০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ১২৫ টাকা। ৩১ আসনের বেশি ধারণক্ষমতার বাসের জন্য টোল যথাক্রমে ৩০০ ও ১৫০ টাকা। ছয় চাকার ট্রাকের টোল পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে ৪০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ২০০ টাকা। ১০ চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৬০০ ও ৪০০ টাকা। ট্রেইলারের জন্য পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে ৮০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ৫০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এই টোলের হার কার্যকরের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ যোগাযোগে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। সৈয়দপুর-রুহিতপুর সেতু ও আন্ডারপাস হয়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলে এ রুটে যান চলাচল কয়েক গুণ বাড়বে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত টোলের হার অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে নির্ধারিত টোলকে ব্যয়বহুল বলে মনে করছে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। মুন্সীগঞ্জ ক্যাবের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর সরকার মন্টু পঞ্চবটি থেকে চরসৈয়দপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার মূল সড়কের টোল কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ