০৩:৫৩ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে এবার লাতিনো ভোটাররা তুরুপের তাস বা সুইং ভোটার হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির তুলনায় মার্কিন অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক জরিপ ও বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার, সিবিএস নিউজ এবং আলজাজিরা সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় লাতিনো ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অন্তত ৮৬ শতাংশ নিবন্ধিত লাতিনো ভোটারের কাছে এবারের নির্বাচনে অর্থনীতি ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচও তাদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনে লাতিনো ভোটারদের এই অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিচালিত নতুন জরিপে লাতিনো ভোটারদের প্রধান দুশ্চিন্তার বিষয় হিসেবে জীবনযাত্রার ব্যয় বা ক্রয়ক্ষমতা ও অর্থনীতি উঠে এসেছে।
এক সময় লাতিনোদের কাছে অভিবাসন নীতি বা সীমান্ত নিরাপত্তা অন্যতম বড় ইস্যু ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লাতিনো ভোটারদের এই পরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একসময় রিপাবলিকানদের জন্য অভিবাসন নীতি বা আইসিই ইস্যুটি লাতিনোদের ভোট টানার ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল, কিন্তু এখন সেটি কতটা কার্যকর তা প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ বর্তমানে লাতিনোদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
তবে অর্থনীতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও এই ভোটাররা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কোনো দলের প্রতি পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ লাতিনো অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন ইউনিডোসইউএস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লাতিনো ভোটাররা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান উভয় দলের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে একটি বড় অংশের ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দল দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে, তারা এই ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। মার্কিন রাজনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ভোটব্যাংক এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেবল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎই নয়, বরং মার্কিন রাজনীতির পরবর্তী রূপরেখাও নির্ধারণ করতে পারে।
আরও পড়ুন: ইউরোপের ১০ দেশের সুপারমার্কেটে সাইবার হামলা, খাদ্যপণ্য ফেলে দিতে বাধ্য
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন