০৬:১৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যে উত্থিত উত্তেজনার মাঝখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভুয়া তথ্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। একটি অজ্ঞাত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতের মাধ্যমে ছড়ানো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত একটি ভিত্তিহীন বক্তব্য, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যম, শীর্ষ রাজনীতিবিদ, এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুয়া ওই তথ্যের ফাঁদে পড়ে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। এক বক্তৃতায় তিনি এই ভিত্তিহীন দাবিকে ইরানের পারমাণবিক বোমার তৈরির প্রথম প্রকাশ্য প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু পরবর্তীকালে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক সমাজে তীব্র হাস্যরস এবং আলোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৫ আগস্ট। ভারতের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইরানও তার নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। পোস্টটির সঙ্গে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ছবি যুক্ত করা ছিল। তবে তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, ওই কর্মকর্তার দ্বারা এমন কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ভারতের অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলি এবং মার্কিন গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা কোনও যাচাই ছাড়াই এই খবরকে বিশ্বাস করেছিলেন। 'মোসাদ কমেন্টারি' নামক একটি এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইসরায়েলের 'চ্যানেল ১৪' এর মাধ্যমে খবরটি প্রচার হওয়ার পর নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু তা শেয়ার করেন। তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার সরকারি বক্তৃতায় সেই ভুয়া দাবির উল্লেখ করেন।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির মধ্যে সেই গুজবের হাওয়া মাধ্যমেও প্রবাহিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসনে সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এবং রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট ভুয়া পোস্টটি শেয়ার করে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজও বিষয়টি সম্প্রচার করে। কিন্তু সত্যতা উদঘাটিত হলে মাইক ওয়াল্টজ তার পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ফক্স নিউজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে যে খবরটি 'ভুল ও যাচাইহীন' ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ঘটনা সম্পর্কে বলেছেন যে এটি 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার বন্যা' এবং তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি বিশ্বরাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের 'ন্যারেটিভ লন্ডারিং'-এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে একটি ভুয়া তথ্য একের পর এক অসাধু চক্র এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত ঘুরে বিশ্বমঞ্চে একটি সাময়িক সত্য হওয়ার চেষ্টা করেছিল।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন