ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোবাইল ফোন নাপাক পানিতে পড়লে পবিত্র করবেন যেভাবে


মোবাইল ফোন নাপাক পানিতে পড়লে পবিত্র করবেন যেভাবে

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে দুর্ঘটনাবশত যদি মোবাইল নাপাক পানিতে পড়ে যায়, তবে তা পবিত্র করতে এবং নামাজে এই মোবাইল ব্যবহার করা যাবে কি না, এ নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা দেখা দেয়।

সম্ভবত মোবাইল একটি সংবেদনশীল ও মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্র হওয়ার কারণে, এটি সাধারণ কাপড়ের মতো পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। ইসলামী আইনশাস্ত্র বা ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মোবাইল হলো একটি 'সাকিল' বা মসৃণ ও অছিদ্রযুক্ত বস্তু। যদি আয়না, কাচ, মসৃণ ধাতু বা প্লাস্টিকের মতো বস্তুর বাহ্যিক আবরণে নাপাকি লাগে তবে তা ভালোভাবে দূর করার মাধ্যমে সেই বস্তু পবিত্র হয়ে যাবে।

ফিকহি বিধানের আলোকে মোবাইল ফোন পবিত্র করার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম নিচে আলোচনা করা হচ্ছে:

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

পানি দিয়ে ধোয়ার ক্ষেত্রে:

মোবাইলের যে অংশ পানি দ্বারা নষ্ট হয় না (যেমন ওয়াটারপ্রুফ কভার বা ব্যাককেসিং), সেটি যদি পানি দিয়ে তিনবার ধোয়া হয়, তবে সেটি পবিত্র হয়ে যাবে।

পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে:

মোবাইলের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ যদি পানির সংস্পর্শে আসে, তবে সেগুলি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি পানি ব্যবহার না করে অন্য উপায় অবলম্বন করাই শ্রেয়।

আরও পড়ুন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান

ভেজা কাপড়ের ব্যবহার: পরিষ্কার পানির হালকা আর্দ্রতাযুক্ত কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাপাক স্থানটি ভালোভাবে তিনবার মুছে নিলে সেই বস্তু পবিত্র হবে।

অন্যান্য তরলের ব্যবহার: হ্যান্ড স্যানিটাইজার, থিনার বা পেট্রলের মতো পবিত্র তরল দ্রাবক ব্যবহার করে নাপাক অংশটি তিনবার পরিষ্কার করা যেতে পারে।

তবে কাপড় বা তরল দিয়ে মোছার সময় একটি শর্ত রয়েছে, সেটি হলো, প্রতিবার মোছার পর স্থানটি শুকাতে সময় দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, একবার মুছে শুকানোর পর দ্বিতীয়বার এবং শুকানোর পর তৃতীয়বার মুছে পবিত্র করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ সকেটে নাপাকি প্রবেশালে:

আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি ঘোষণা করলেন আল্লাহ

যদি নাপাক পানি মোবাইলের ভেতরের ক্ষুদ্র ছিদ্র বা সকেটে (যেমন চার্জিং পোর্ট, স্পিকার কিংবা হেডফোন জ্যাক) ঢুকে যায়, তবে সেখানে শুধুমাত্র ওপরের অংশ মোছা যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে ভেতরে জমা নাপাকিও অবশ্যই দূর করতে হবে।

এসব নিয়ম অনুসারে মোবাইল ফোনকে পুরোপুরি নাপাকিমুক্ত করার পরে তা সাথে নিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। তবে, নাপাকি দূর না করে সেই মোবাইল পকেটে রাখা বা সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করা হলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। (সূত্র: ফতোয়া-ই-শামি: ১/২৮২, ফতোয়া-ই-হিন্দিয়া: ১/৩৯)

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলতি অর্থবছরে শেষ হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মীর শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


চলতি অর্থবছরে শেষ হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মীর শাহে আলম

চলতি অর্থবছরের বাজেটে রয়েছে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ। এই তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আরও জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব নির্বাচনে খরচ হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আলোচনা করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চলতি অর্থবছরে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন হবে এবং এতে কোন ব্যত্যয় হবে না।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন, ছয় মাস সময় খুব কম। তবে খাল, লেক ও রাস্তা নিয়ে কাজ চলছে। নিজেদের কাজে সন্তুষ্ট না হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তবে তারা অনেকদূর এগিয়েছেন।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কাজ পরিচালনা করা কঠিন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলে সেবার মান এবং কাজের গতি আরও বাড়বে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের ‘আবেদন ফি’ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের ‘আবেদন ফি’ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য যে আবেদন ফি রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) প্রস্তাব করেছে যে নাগরিকত্বের মূল আবেদনপত্র ‘Form N-400’-এর কাগজভিত্তিক ফি ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করা হতে পারে। এই হিসাবে, তা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি। অপরদিকে, অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি বর্তমান ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।

তবে উল্লেখ্য যে, নতুন এসব ফি আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের প্রকাশিত প্রস্তাবটির ওপর ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। পরে, জনমত পর্যালোচনা করে মার্কিন প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে।

প্রস্তাবিত নীতির ফলে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে। এতদিন ধরে নির্ধারিত আয়সীমার নিচে থাকা যোগ্য ব্যক্তিরা ৩৮০ ডলারে আবেদন করতে পারতেন এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে পুরো ফি মওকুফের সুবিধা পেতেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে এই ছাড় ব্যবস্থা এবং ফি মওকুফ করার নিয়মটি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে শুনানির আবেদন ফি (Form N-336) প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সদস্য ও সাবেক সদস্যদের জন্য ফি অব্যাহতির সুবিধার বিষয়টি রাখা হয়েছে।

ইউএসসিআইএস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকরণের প্রশাসনিক খরচের জন্য যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের আর্থিক কাঠামো স্বাবলম্বী রাখতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া, ফি ছাড়ের আবেদন আলাদাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তাদের বাড়তি সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে।

তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, হঠাৎ করে কয়েক শ ডলার ফি বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিতদের ছাড় বন্ধ করার ফলে বহু যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীর সামনে আমেরিকান নাগরিক হওয়ার পথ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়া পাচ্ছে বড় দুঃসংবাদ বাংলাদেশের কাছে হারের পর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


অস্ট্রেলিয়া পাচ্ছে বড় দুঃসংবাদ বাংলাদেশের কাছে হারের পর

ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া এবার আরও দুঃসংবাদের শঙ্কায় রয়েছে। তাদের অপেক্ষায় রয়েছে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে আইসিসির শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা। প্যাট কামিন্সের দলের জন্য এটি শুধু আর্থিক জরিমানা নয়, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লুটিসি) পয়েন্টও হারানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এবারের ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে এই হার অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে ইতিহাসের অন্যতম বড় পরাজয় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের ওভার শেষ করতে না পারার বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন একটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইসিসির বিধিমালা অনুযায়ী, টেস্ট ম্যাচে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার বোলিং করতে হয়। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দিনে অন্তত ৯০ ওভার শেষ করতে হবে। কিন্তু শনিবার (১৫ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৮৬ ওভার করতে সক্ষম হয়েছে, ফলে তারা নির্ধারিত সময়ের লক্ষ্যের তুলনায় চার ওভার পিছিয়ে রয়েছে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ওভারের তুলনায় প্রতি এক ওভার কম করার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ২০ হাজার ডলার ধরে, সেখানে চার ওভারের ঘাটতিতে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মোট ৪ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য আর্থিক জরিমানার চেয়ে বড় একটি চিন্তার বিষয় হতে পারে ডব্লুটিসির পয়েন্ট হারানো। স্লো ওভার রেটের কারণে প্রতি ওভারের জন্য একটি করে পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। সে অনুযায়ী, চার ওভার ঘাটতির জন্য অস্ট্রেলিয়ার চারটি ডব্লুটিসি পয়েন্ট কাটার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ৮৪ পয়েন্ট ও ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে ডব্লুটিসির পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ ৪০ পয়েন্ট ও ৬৬.৬৭ শতাংশ জয় নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে, অন্যদিকে ৩৬ পয়েন্ট ও ৭৫ শতাংশ জয় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় স্থানে আছে।

বাংলাদেশের কাছে বড় হারের ধাক্কার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগে যদি স্লো ওভার রেটের শাস্তি কার্যকর হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ডারউইন টেস্টের হতাশা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে আবিষ্কৃত হলো ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে আবিষ্কৃত হলো ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-চাপিলা শাহী জামে মসজিদ কয়েক শতাব্দীর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে এখনো মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর ছাপ স্পষ্ট। তিনটি বড় গম্বুজ, পুরু দেয়াল, নকশাখচিত প্রবেশদ্বার ও পুরোনো মেহরাবের কারুকাজ মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।

চাপিলা ইউনিয়নের বৃ-চাপিলা গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি নাটোর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় ইতিহাস ও উপজেলা প্রশাসনের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে তার ছেলে শাহ সুজা বাংলার সুবাদার থাকাকালে এই চাপিলা অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে মুঘল সেনাদের একটি ফাঁড়িও ছিল বলে জানা যায়। সেনাসদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় মুসলমানদের নামাজের সুবিধার জন্যই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।

মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মুনশি এনায়েতউল্লাহর নাম পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে তাকে মুঘল প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে মসজিদটি নির্মিত হয়ে থাকতে পারে।

একসময় চাপিলা এলাকার গুরুত্ব কমে গেলে মুঘল সেনা ও অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে চলে যান। ধীরে ধীরে কমতে থাকে জনবসতি এবং একপর্যায়ে ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে ঢেকে যায় মসজিদটি। দীর্ঘদিন মানুষের দৃষ্টির আড়ালে পড়ে থাকে প্রাচীন এই স্থাপনা।

স্থানীয়দের ভাষ্য হলো, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে সেখানে নতুন করে বসতি গড়তে শুরু করেন। সে সময় জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা মসজিদটির সন্ধান পান। পরে স্থানীয় উদ্যোগে মসজিদটি পরিষ্কার ও সংস্কার করা হয়, এবং সেখানে আবার নামাজ আদায় শুরু হয়।

জঙ্গলের ভেতর থেকে হঠাৎ মসজিদটি খুঁজে পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা লোককথার জন্ম নেয়। অনেকের মধ্যে ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে, মসজিদটি নাকি অলৌকিকভাবে এক রাতেই তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকেই মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় ‘গায়েবি মসজিদ’। তবে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক উপাদানগুলো মুঘল আমলের নির্মাণশৈলীর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইট ও সুড়কি দিয়ে নির্মিত মূল মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় চার ফুট। পুরোনো স্থাপনায় রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ এবং দুই পাশে দুটি মিনার। গম্বুজ ও মিনারের চূড়ায় রয়েছে চাঁদ-তারার প্রতীক। সংস্কারের পর গম্বুজে সোনালি রং করা হয়েছে।

মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে কারুকাজ করা তিনটি দরজা। ভেতরের দেয়াল ও মেহরাবেও পুরোনো অলংকরণের চিহ্ন রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতি ও বিভিন্ন সময়ে সংস্কারকাজের কারণে প্রাচীন কারুকাজের কিছু অংশ হারিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, একসময় পুরো এলাকা বড় বড় বেতঝোপ ও জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। পুরোনো প্রজন্মের কাছ থেকে তাঁরা শুনেছেন, সেই জঙ্গলের মধ্যেই মসজিদটি চাপা পড়ে ছিল। আশপাশের পরিবেশ এতটাই জঙ্গলাকীর্ণ ছিল যে বন্য প্রাণীর আতঙ্কও ছিল। মুসল্লিদের কেউ কেউ পালা করে পাহারা দিয়ে নামাজ আদায় করতেন বলে জানান স্থানীয় প্রবীণরা।

মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল্লাহ জানান, পুরোনো মসজিদে তিন কাতারে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। পরে মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৯০ সালের পর মসজিদের পরিসর বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি ওয়াক্তে অর্ধশতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করেন, এবং জুমার দিনে মুসল্লির সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মসজিদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিও রয়েছে। পুরোনো রেকর্ডে মুনশি এনায়েতউল্লাহর পক্ষ থেকে মসজিদের জন্য জমি দানের তথ্য পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বর্তমানে মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং গুরুদাসপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ প্রাচীন এই স্থাপত্য দেখতে আসেন।

প্রায় চার শতাব্দী ধরে রোদ-বৃষ্টি, ঝড় ও সময়ের ক্ষয় সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা বৃ-চাপিলা শাহী জামে মসজিদ আজও যেন হারিয়ে যাওয়া একটি জনপদ এবং মুঘল আমলের ইতিহাসের গল্প বলে চলেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও পুরোনো স্থাপত্যের স্মৃতি ধরে রাখা এই মসজিদ তাই নাটোরের ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%