০৬:১৪ পি.এম
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে দুর্ঘটনাবশত যদি মোবাইল নাপাক পানিতে পড়ে যায়, তবে তা পবিত্র করতে এবং নামাজে এই মোবাইল ব্যবহার করা যাবে কি না, এ নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা দেখা দেয়।
সম্ভবত মোবাইল একটি সংবেদনশীল ও মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্র হওয়ার কারণে, এটি সাধারণ কাপড়ের মতো পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। ইসলামী আইনশাস্ত্র বা ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মোবাইল হলো একটি 'সাকিল' বা মসৃণ ও অছিদ্রযুক্ত বস্তু। যদি আয়না, কাচ, মসৃণ ধাতু বা প্লাস্টিকের মতো বস্তুর বাহ্যিক আবরণে নাপাকি লাগে তবে তা ভালোভাবে দূর করার মাধ্যমে সেই বস্তু পবিত্র হয়ে যাবে।
ফিকহি বিধানের আলোকে মোবাইল ফোন পবিত্র করার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম নিচে আলোচনা করা হচ্ছে:
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প
পানি দিয়ে ধোয়ার ক্ষেত্রে:
মোবাইলের যে অংশ পানি দ্বারা নষ্ট হয় না (যেমন ওয়াটারপ্রুফ কভার বা ব্যাককেসিং), সেটি যদি পানি দিয়ে তিনবার ধোয়া হয়, তবে সেটি পবিত্র হয়ে যাবে।
পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে:
মোবাইলের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ যদি পানির সংস্পর্শে আসে, তবে সেগুলি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি পানি ব্যবহার না করে অন্য উপায় অবলম্বন করাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান
ভেজা কাপড়ের ব্যবহার: পরিষ্কার পানির হালকা আর্দ্রতাযুক্ত কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাপাক স্থানটি ভালোভাবে তিনবার মুছে নিলে সেই বস্তু পবিত্র হবে।
অন্যান্য তরলের ব্যবহার: হ্যান্ড স্যানিটাইজার, থিনার বা পেট্রলের মতো পবিত্র তরল দ্রাবক ব্যবহার করে নাপাক অংশটি তিনবার পরিষ্কার করা যেতে পারে।
তবে কাপড় বা তরল দিয়ে মোছার সময় একটি শর্ত রয়েছে, সেটি হলো, প্রতিবার মোছার পর স্থানটি শুকাতে সময় দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, একবার মুছে শুকানোর পর দ্বিতীয়বার এবং শুকানোর পর তৃতীয়বার মুছে পবিত্র করতে হবে।
অভ্যন্তরীণ সকেটে নাপাকি প্রবেশালে:
আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি ঘোষণা করলেন আল্লাহ
যদি নাপাক পানি মোবাইলের ভেতরের ক্ষুদ্র ছিদ্র বা সকেটে (যেমন চার্জিং পোর্ট, স্পিকার কিংবা হেডফোন জ্যাক) ঢুকে যায়, তবে সেখানে শুধুমাত্র ওপরের অংশ মোছা যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে ভেতরে জমা নাপাকিও অবশ্যই দূর করতে হবে।
এসব নিয়ম অনুসারে মোবাইল ফোনকে পুরোপুরি নাপাকিমুক্ত করার পরে তা সাথে নিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। তবে, নাপাকি দূর না করে সেই মোবাইল পকেটে রাখা বা সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করা হলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। (সূত্র: ফতোয়া-ই-শামি: ১/২৮২, ফতোয়া-ই-হিন্দিয়া: ১/৩৯)
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন