০৩:৫৪ এম
প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তারা দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজনিত জটিলতা নিরসন ও পেশাগত বৈষম্য দূর করার জন্য এ স্মারকলিপি দেন। প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য সকল কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রতা ও পদস্বল্পতার কারণে সৃষ্ট পেশাগত স্থবিরতা দূর করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির জটিলতা ও প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির অভাবে তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও কর্মপ্রেরণায় উজ্জীবিত শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর না হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত বৈষম্য তৈরি হচ্ছে এবং কর্মজীবনে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক দগ্ধ
সমস্যা সমাধানে স্মারকলিপিতে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা, নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আয়োজন, শিক্ষা ক্যাডারে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। পদস্বল্পতা ও পদোন্নতিজনিত জটিলতায় তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাদের মতে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা শুধু ব্যক্তিগত বা পেশাগত দাবি নয়, বরং দেশের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের স্বার্থেও জরুরি।
স্মারকলিপি দেওয়ার পর শিক্ষক-কর্মকর্তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। সাক্ষাতে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, উপ-পরিচালক (সরকারি কলেজ-১) অধ্যাপক মো. নুরুল হক সিকদারসহ ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল তাদের বক্তব্য ও দাবি শোনেন। তিনি দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন