০৩:০৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালিয়েছে ইরানের কেশম দ্বীপে। তেহরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সূচনা হওয়ার পর থেকে এই ছোট দ্বীপটি বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কেন এই ভূখণ্ড মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? কেন তারা এখানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে? এর উত্তর ভূগোলের মধ্যে নিহিত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে। তবে আমেরিকার সেনাদের জন্য ঠিক কি ধরনের হুমকি ছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কেশম দ্বীপ মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। চলমান যুদ্ধের পূর্বেও দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের কারণে এটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তুরুপের তাস লাতিনো ভোটাররা
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, দ্বীপটিতে এর আগেও গোপনে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে সেসব হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে কেশম দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কেন বারবার হামলার লক্ষ্য কেশম দ্বীপ?
দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থানই এর প্রধান কারণ। কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালির মুখে অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের মাধ্যমে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, কেশম দ্বীপে ইরানের একটি বড় ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, নৌঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। এসব স্থাপনার মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নজরদারি এবং সামরিক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
গত জুলাই মাসেও যুক্তরাষ্ট্র কেশম দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল। সে সময় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছিল, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টার, ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ওই অভিযানে দ্বীপে তিনজন নিহত হয়েছিল। এছাড়া যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বীপটির আশপাশের সামরিক ও নৌ-অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
হরমুজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই
আরও পড়ুন: ইউরোপের ১০ দেশের সুপারমার্কেটে সাইবার হামলা, খাদ্যপণ্য ফেলে দিতে বাধ্য
কেশম দ্বীপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার আরেকটি বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা প্রতিহত করা। ইরান এই নৌপথকে নিজেদের কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক সম্পদকে নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, কেশম দ্বীপের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে পারলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নজরদারি ও সামরিক তৎপরতা ব্যাহত করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের হামলা সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও হামলা
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচারণা ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে
কেশম দ্বীপে নতুন হামলার ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।
তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক হুমকির কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। নতুন করে বড় ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন