প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার বিভাগীয় মামলার তদন্তের পর পুলিশের সাত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে, অসদাচরণের অভিযোগে একটি পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে আটটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন-পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, শ্যামল কুমার মুখার্জী, মো. আনিসুর রহমান, মো. তারেক বিন রশিদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন, মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করা এবং অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।
সাবেক ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জীকে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজশাহীতে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্তির পর ওই দিন যোগদান করলেও পরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত হয়ে পড়েন। একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
সাবেক পুলিশ সুপার মো. তারেক বিন রশিদ ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে শ্রান্তি বিনোদন ছুটিতে ছিলেন। ছুটি শেষে ১৭ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি। পরবর্তী সময়ে চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন করলেও তা নাকচ হয়। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হয়। কর্মস্থলে যোগদানের জন্য একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি যোগ দেননি। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ওই তারিখ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন, মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছানকে বিদেশে অবস্থান করে অনুমোদিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফারহানা তাসকিন কানাডায় অবস্থান করছেন। মনিরুজ্জামান সরকার যুক্তরাজ্যে পিএইচডি করতে গিয়ে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরেননি। আর এস এম জাহাঙ্গীর হাছান বহিঃবাংলাদেশ ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ হওয়ার পরও বিদেশে অবস্থান করছেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারহানা তাসকিনকে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ, মনিরুজ্জামান সরকারকে ২০১৯ সালের ১ জুলাই এবং এস এম জাহাঙ্গীর হাছানকে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অসদাচরণের অভিযোগে সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। তিনি ডিএমপিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮' অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন