০৭:২৮ পি.এম
ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে শুনলে সাধারণত স্তনের ভিতরে শক্ত লাম্পের উপস্থিতি মনে আসে। তবে, স্তন ক্যান্সার সবসময় লাম্পের মাধ্যমে শুরু হবে এমনটি বলা যায় না।
সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে, প্রায় ১০ শতাংশ স্তন ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ টিউমার নয়, বরং ত্বকের সাধারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। শুধু তাই নয়, স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার ফলে প্রায় ৯৪ শতাংশ রোগীর ত্বক, চুল এবং নখে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে প্রথম থেকেই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: শিশুদেরও স্ট্রোক হয়? লক্ষণগুলো দেখলে এক মুহূর্তও দেরি নয়
ত্বকে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত?
ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত যে কোনও একটি স্তনে এই পরিবর্তনগুলি দেখা যায়।
ত্বকের রং পরিবর্তন বা স্থায়ী র্যাশ: স্তনের ত্বকে কালচে বা লালচে ছোপ পড়া, যা দীর্ঘ সময় ধরে সারছে না।
কমলালেবুর খোসার মতো ত্বক: স্তনের ত্বক ফুলে যাওয়া, উষ্ণ ভাব অনুভূত হওয়া কিংবা ত্বক ছোট ছোট ছিদ্রসহ কমলালেবুর খোসার মতো কুঁচকে যাওয়া।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৭০
নিপল বা স্তনবৃন্ত ভিতরে ঢুকে যাওয়া: নিপলের আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আসা বা স্তনবৃন্ত ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
সব ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ক্যান্সারের লক্ষণ নাও হতে পারে, তবে লক্ষণ যদি স্থায়ী হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বকের এই লক্ষণগুলি বিশেষত ‘ইনফ্লেমেটরি ব্রেস্ট ক্যান্সার’-এর ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এটি একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক আক্রমণাত্মক ক্যান্সার।
ম্যামোগ্রামে ধরা না পড়া: যেহেতু আইবিসি-তে কোনও শক্ত লাম্প তৈরি হয় না, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
এগজিমা বা ইনফেকশন ভেবে ভুল করা: চিকিৎসকরা অনেক সময় এটিকে সাধারণ স্তনের ইনফেকশন বা এগজিমা মনে করেন। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও যদি র্যাশ বা ফোলা ভাব না কমে, তখন ‘পাঞ্চ বায়োপসি’-র মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়।
ক্যান্সারের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রেডিয়েশন থেরাপি ও ত্বকের জ্বালা: রেডিয়েশনের ফলে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় এটি সানবার্নের মতো মনে হয়। চুলকানি ও ফোসকা পড়তে পারে। এই সময়ে গন্ধহীন মাইল্ড ময়শ্চারাইজ়ার এবং সুতির পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুল পড়ে যাওয়া ও মানসিক চাপ: ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন প্রায় ৭০% রোগী বড় একটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় চুল ঝরা। কেমোথেরাপির সময় ‘স্ক্যাল্প কুলিং’ প্রযুক্তির ক্যাপ ব্যবহার করলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৫৪৮
ভ্রু ও পাপড়ির যত্ন: কেমোর প্রভাবে ভ্রু ও পাপড়ি পাতলা হয়ে যেতে পারে। তবে চিকিৎসা শেষে মাইনক্সিডিল বা বিশেষ থেরাপির সাহায্যে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন