ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অস্বাভাবিকভাবে পেট কেটে অস্ত্রোপচার, ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু


অস্বাভাবিকভাবে পেট কেটে অস্ত্রোপচার, ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার পরে তার মৃত্যু ঘটেছে। পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসকের অবহেলা এবং তাড়াহুড়ো নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পেট কেটে ফেলার কারণে সে মারা গেছে।

নিহত আয়েশা আফরিন ফরিদপুর জেলা শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের কালিখোলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী লিটু মাতুব্বরের প্রথম সন্তান।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটাল’ নামক বেসরকারি হাসপাতালে ওই ছাত্রীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরদিন শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

নিহতের মা আলেয়া বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আয়েশার পেটে ব্যথা হলে তাকে শহরের ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, আয়েশার ছোট আকারের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে, চাইলে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন। এরপর এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তারা আলজারা হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর ডা. আতিকুল আহসান আসেন।

আলেয়া বেগম আরও অভিযোগ করেন, 'ডাক্তার এসেই বলেন মেয়ের পেটের ভেতরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ছড়িয়ে পড়েছে। তখন হাসপাতাল থেকে নতুন করে আল্ট্রা করার কথা বলা হলে টেকনিশিয়ান না থাকায় এটি করা সম্ভব হয়নি। ডাক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, 'আমি চলে যাব; আপনারা করলে করেন, না করলে না করেন। আমার অনেক রোগী আছে।' অ্যাপেন্ডিসাইটিস ফেটে যাওয়ার কথায় আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং অপারেশন করতে বলি।'

তিনি আরও জানান, অপারেশনের এক পর্যায়ে ডাক্তার এসে জানান নাড়িভুঁড়ি জড়িয়ে গেছে। পরে তারা গিয়ে দেখেন, মেয়ের নাভি থেকে বুক পর্যন্ত কেটে সেলাই করা হয়েছে এবং তখন তার জ্ঞান ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহরের রেজোয়ান মোল্যা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

মেয়ের মৃত্যুর খবর আসার পর গত রাতে ১১টায় সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন বাবা লিটু মাতুব্বর। নিহতের ফুফাতো ভাই মামুন হোসেন জানান, মেয়েটির দাফনের পরে তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অস্ত্রোপচারের পর মিম (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে ফেলায় তার মৃত্যু ঘটে। তখন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসানের দাবি, সে সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান শামীম আশরাফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'ওই রোগীর নাড়ির ভেতরে ছিদ্র ছিল এবং তা দিয়ে ময়লা ছড়িয়ে পচন ধরেছিল। যার কারণে পেট ওপেন করে পরিষ্কার করা হয়। বিষয়টি পূর্বেই পরিবারকে জানানো হয়েছিল এবং মা ও ফুফাসহ তিনজন স্বজন অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে সই করেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগী শকে চলে যাওয়ায় আইসিইউর প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।'

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, 'কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটুকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্বে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় এবারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখানো হবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৬০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ আটক করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


৩৬০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ আটক করা হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অভিযান চালিয়ে ৩৬০ কেজি গাঁজা, একটি পিকআপ এবং দুটি মোবাইল ফোনসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পিকআপ থেকে নেমে আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকায় কদমতলী-সয়দাবাদ সড়কে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মো. নাজমুস সাকিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ৩৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তির নাম মো. শাকিল (৩০), যিনি কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কালতা দিঘীরপাড় গ্রামের মো. শফিক ও রুবি আক্তারের ছেলে।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা গাঁজা অবৈধভাবে পরিবহনের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় পিকআপে থাকা আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, উদ্ধার হওয়া গাঁজা, পিকআপ এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে নামাজ পড়াকালীন মুসল্লির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


মসজিদে নামাজ পড়াকালীন মুসল্লির মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নামাজ পড়ার সময় এক মুসল্লির মৃত্যু ঘটে।

রোববার (১৯ জুলাই) আসরের নামাজের সময় পৌর এলাকার দরগাহ কলামহলা জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম তারা মিয়া (৬৫)। তিনি পৌর এলাকার বাগরাইট গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, তারা মিয়া প্রতিদিনের মতো জামাতের সঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন।

নামাজ চলাকালীন হঠাৎ তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দরগাহ কলামহলা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. জুনায়েদ আহমেদ বলেন, তারা মিয়া মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন এবং আসরের নামাজ পড়ার সময় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিথানলকে মদ ভেবে পান করে দুই যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


মিথানলকে মদ ভেবে পান করে দুই যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরে একটি বিয়ে বাড়িতে অ্যালকোহল মনে করে মিথানল পান করায় ঘটেছে দুই যুবকের মৃত্যু। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) ভোর চারটার সময় সজিব (২২) এবং বিকেল সাড়ে চারটার সময় রনি (২০) মিয়া নামে ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

নিহত সজিব ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার জুনিয়ার বাজার এলাকার বাসীন্দা ছিল। তিনি কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় মফিজ উদ্দিন এর বাসায় ভাড়া থেকে কাঁচা মালের ব্যবসা করতেন। রনি মিয়া একই জেলার বাসীন্দা ও বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকার তোবারক মোল্লার বাসায় ভাড়া থেকে আশুলিয়া পলিট্যাকনিক্যালে পড়াশোনা করছিল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১০ জুলাই রাতে বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকার ভাড়াটিয়া রমজানের বিয়ের অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল মনে করে তারা মিথানল পান করে। পরের দিন সকাল থেকে তারা অসুস্থ অনুভব করলে স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ গ্রহণ করে। কিন্তু তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কোনাবাড়ী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৯ জুলাই) ভোর চারটার দিকে প্রথমে সজিব এবং সাড়ে চারটার দিকে রনি মিয়া মারা যায়।

রনি মিয়ার নানী রেজিয়া খাতুন বলেন, সে আমার সাথে বসবাস করে পড়াশোনা করতো। আমি ভিক্ষাবৃত্তি করে তাকে পড়াশোনা করাচ্ছি। সে এতটাই ভদ্র ছিল যে কোন নেশা পান করত না। তাকে যড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। এর সাথে জড়িতদের শাস্তি চাই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, মিথানল পান করার কারণে তাদের মৃত্যু ঘটে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইফতেখার হোসেন জানান, শাহবাগ থানা থেকে একটি বার্তা পেয়েছি সজিব নামে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। পরে আন অফিশিয়ালি বিকেলে রনি মিয়া নামে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাই।

এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কাঁচা মালের ব্যবসায়ী সাগর পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং বিষয়টির তদন্তে কাজ করছি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাঠিতে ভর দিয়ে জীবিকার লড়াই, প্রতারণায় শেষ সম্বলও হারালেন হযরত আলী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


লাঠিতে ভর দিয়ে জীবিকার লড়াই, প্রতারণায় শেষ সম্বলও হারালেন হযরত আলী

বেশ কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীকে তিনি হারিয়েছেন। স্ত্রীর পাশাপাশি ক্যানসারে আক্রান্ত মেয়েকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হলেও বাঁচাতে পারেননি মেয়েকে। সব কিছু হারিয়ে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বয়স, দরিদ্রতা এবং অসুস্থতা যেন একসঙ্গে এসে চাপিয়ে বসেছে হযরত আলীর (৭০) উপর। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। লাঠিতে ভর করে ধীরে ধীরে পা ফেলেন; কিন্তু দারিদ্র্য তাকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। তিনি প্রতিদিন কষ্টের শরীর নিয়ে বের হন মিশুক (অটো) চালাতে, এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসারের ভাত জোগাতে। লাঠিতে ভর দিয়ে মিশুকে উঠা ও শেষে মিশুক চালিয়ে বাড়িতে এসে নামা—এভাবেই চলে তার জীবন। মিশুকই ছিল তাঁর এবং তাঁর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সেই শেষ সম্বলটিও একটি প্রতারণার মাধ্যমে প্রতারক চক্র ছিনিয়ে নিয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার কালিবাড়ী এলাকার রামচানপুর গ্রামে হযরত আলীর বাড়ি। তিনি মৃত আবদুল মালেকের পুত্র। জীবনের এই বয়সেও তিনি অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের শ্রমের ওপরেই সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

রোববার (১৯ জুলাই) প্রতিদিনের মতোই জীবিকার সন্ধানে মিশুক নিয়ে বের হন তিনি। বেলা প্রায় ১১টার দিকে কালিবাড়ী থেকে দুই ব্যক্তি তার মিশুক ভাড়া করে নিয়ে যান পাশের উপজেলার পৌর শহর মধুপুরে। হাটখোলা-বোয়ালী সেতু এলাকায় পৌঁছানোর পর মিশুকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনতে তাকে কাছেই কল্লোল সিনেমা হলের সামনে একটি দোকানে যেতে হয়।

হাঁটতে অক্ষম বৃদ্ধকে সহানুভূতির ভান করে দুই যাত্রীের একজন হাত ধরে তাকে হাটখোলা মাছবাজার হয়ে রাস্তা পার করে দেয়। অসহায় মানুষটি তখনো বুঝতে পারেননি এটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ। যন্ত্রাংশ ক্রয় করার পর তিনি যখন বোয়ালী সেতুর উপর ফিরে আসেন, তখন দেখেন—তার মিশুক নেই, নেই সেই দুই যাত্রীও। মুহূর্তেই যেন অন্ধকার নেমে আসে তার জীবনে।

একটি লাঠি হাতে সেতুর পাশে বসে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, এই মিশুকটাই ছিল তার তিন সদস্যের পরিবারের বাঁচার ভরসা। এখন কিভাবে সংসার চলবে, এই ভাবনায় সে চিন্তিত। তিনি মিশুক চালান, جبکہ শিশু পুত্র চায়ের দোকানে কাজ করেন।

বৃদ্ধের আহাজারি শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। তারা জানান, হযরত আলীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না, আর পরিবারের কারও ফোন নম্বরও তিনি জানতেন না। তাই স্বজনদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

বোয়ালী এলাকার অনেকেই মানবিক কারণে তাকে বাড়ি ফেরার ভাড়া ও কিছু আর্থিক সহায়তা দেন। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রতারকদের শনাক্ত এবং চুরি হওয়া মিশুক উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয়দের কথায়- এমন একজন বৃদ্ধ, শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং অসহায় মানুষের সঙ্গে এই প্রতারণা শুধু একটি চুরির ঘটনা নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি নির্মম চিত্রও। মিশুকটি উদ্ধার, জড়িতদের গ্রেফতার এবং হযরত আলীর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%