প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার পরে তার মৃত্যু ঘটেছে। পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসকের অবহেলা এবং তাড়াহুড়ো নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পেট কেটে ফেলার কারণে সে মারা গেছে।
নিহত আয়েশা আফরিন ফরিদপুর জেলা শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের কালিখোলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী লিটু মাতুব্বরের প্রথম সন্তান।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটাল’ নামক বেসরকারি হাসপাতালে ওই ছাত্রীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরদিন শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
নিহতের মা আলেয়া বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আয়েশার পেটে ব্যথা হলে তাকে শহরের ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, আয়েশার ছোট আকারের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে, চাইলে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন। এরপর এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তারা আলজারা হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর ডা. আতিকুল আহসান আসেন।
আলেয়া বেগম আরও অভিযোগ করেন, 'ডাক্তার এসেই বলেন মেয়ের পেটের ভেতরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ছড়িয়ে পড়েছে। তখন হাসপাতাল থেকে নতুন করে আল্ট্রা করার কথা বলা হলে টেকনিশিয়ান না থাকায় এটি করা সম্ভব হয়নি। ডাক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, 'আমি চলে যাব; আপনারা করলে করেন, না করলে না করেন। আমার অনেক রোগী আছে।' অ্যাপেন্ডিসাইটিস ফেটে যাওয়ার কথায় আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং অপারেশন করতে বলি।'
তিনি আরও জানান, অপারেশনের এক পর্যায়ে ডাক্তার এসে জানান নাড়িভুঁড়ি জড়িয়ে গেছে। পরে তারা গিয়ে দেখেন, মেয়ের নাভি থেকে বুক পর্যন্ত কেটে সেলাই করা হয়েছে এবং তখন তার জ্ঞান ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহরের রেজোয়ান মোল্যা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
মেয়ের মৃত্যুর খবর আসার পর গত রাতে ১১টায় সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন বাবা লিটু মাতুব্বর। নিহতের ফুফাতো ভাই মামুন হোসেন জানান, মেয়েটির দাফনের পরে তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন।
চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অস্ত্রোপচারের পর মিম (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে ফেলায় তার মৃত্যু ঘটে। তখন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসানের দাবি, সে সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে সরাসরি এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে আলজারা স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান শামীম আশরাফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'ওই রোগীর নাড়ির ভেতরে ছিদ্র ছিল এবং তা দিয়ে ময়লা ছড়িয়ে পচন ধরেছিল। যার কারণে পেট ওপেন করে পরিষ্কার করা হয়। বিষয়টি পূর্বেই পরিবারকে জানানো হয়েছিল এবং মা ও ফুফাসহ তিনজন স্বজন অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে সই করেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগী শকে চলে যাওয়ায় আইসিইউর প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।'
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, 'কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটুকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্বে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় এবারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন