প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বেশ কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীকে তিনি হারিয়েছেন। স্ত্রীর পাশাপাশি ক্যানসারে আক্রান্ত মেয়েকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হলেও বাঁচাতে পারেননি মেয়েকে। সব কিছু হারিয়ে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বয়স, দরিদ্রতা এবং অসুস্থতা যেন একসঙ্গে এসে চাপিয়ে বসেছে হযরত আলীর (৭০) উপর। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। লাঠিতে ভর করে ধীরে ধীরে পা ফেলেন; কিন্তু দারিদ্র্য তাকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। তিনি প্রতিদিন কষ্টের শরীর নিয়ে বের হন মিশুক (অটো) চালাতে, এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসারের ভাত জোগাতে। লাঠিতে ভর দিয়ে মিশুকে উঠা ও শেষে মিশুক চালিয়ে বাড়িতে এসে নামা—এভাবেই চলে তার জীবন। মিশুকই ছিল তাঁর এবং তাঁর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সেই শেষ সম্বলটিও একটি প্রতারণার মাধ্যমে প্রতারক চক্র ছিনিয়ে নিয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার কালিবাড়ী এলাকার রামচানপুর গ্রামে হযরত আলীর বাড়ি। তিনি মৃত আবদুল মালেকের পুত্র। জীবনের এই বয়সেও তিনি অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের শ্রমের ওপরেই সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
রোববার (১৯ জুলাই) প্রতিদিনের মতোই জীবিকার সন্ধানে মিশুক নিয়ে বের হন তিনি। বেলা প্রায় ১১টার দিকে কালিবাড়ী থেকে দুই ব্যক্তি তার মিশুক ভাড়া করে নিয়ে যান পাশের উপজেলার পৌর শহর মধুপুরে। হাটখোলা-বোয়ালী সেতু এলাকায় পৌঁছানোর পর মিশুকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনতে তাকে কাছেই কল্লোল সিনেমা হলের সামনে একটি দোকানে যেতে হয়।
হাঁটতে অক্ষম বৃদ্ধকে সহানুভূতির ভান করে দুই যাত্রীের একজন হাত ধরে তাকে হাটখোলা মাছবাজার হয়ে রাস্তা পার করে দেয়। অসহায় মানুষটি তখনো বুঝতে পারেননি এটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ। যন্ত্রাংশ ক্রয় করার পর তিনি যখন বোয়ালী সেতুর উপর ফিরে আসেন, তখন দেখেন—তার মিশুক নেই, নেই সেই দুই যাত্রীও। মুহূর্তেই যেন অন্ধকার নেমে আসে তার জীবনে।
একটি লাঠি হাতে সেতুর পাশে বসে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, এই মিশুকটাই ছিল তার তিন সদস্যের পরিবারের বাঁচার ভরসা। এখন কিভাবে সংসার চলবে, এই ভাবনায় সে চিন্তিত। তিনি মিশুক চালান, جبکہ শিশু পুত্র চায়ের দোকানে কাজ করেন।
বৃদ্ধের আহাজারি শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। তারা জানান, হযরত আলীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না, আর পরিবারের কারও ফোন নম্বরও তিনি জানতেন না। তাই স্বজনদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।
বোয়ালী এলাকার অনেকেই মানবিক কারণে তাকে বাড়ি ফেরার ভাড়া ও কিছু আর্থিক সহায়তা দেন। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রতারকদের শনাক্ত এবং চুরি হওয়া মিশুক উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয়দের কথায়- এমন একজন বৃদ্ধ, শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং অসহায় মানুষের সঙ্গে এই প্রতারণা শুধু একটি চুরির ঘটনা নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি নির্মম চিত্রও। মিশুকটি উদ্ধার, জড়িতদের গ্রেফতার এবং হযরত আলীর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন