ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লাঠিতে ভর দিয়ে জীবিকার লড়াই, প্রতারণায় শেষ সম্বলও হারালেন হযরত আলী


লাঠিতে ভর দিয়ে জীবিকার লড়াই, প্রতারণায় শেষ সম্বলও হারালেন হযরত আলী

বেশ কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীকে তিনি হারিয়েছেন। স্ত্রীর পাশাপাশি ক্যানসারে আক্রান্ত মেয়েকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হলেও বাঁচাতে পারেননি মেয়েকে। সব কিছু হারিয়ে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বয়স, দরিদ্রতা এবং অসুস্থতা যেন একসঙ্গে এসে চাপিয়ে বসেছে হযরত আলীর (৭০) উপর। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। লাঠিতে ভর করে ধীরে ধীরে পা ফেলেন; কিন্তু দারিদ্র্য তাকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। তিনি প্রতিদিন কষ্টের শরীর নিয়ে বের হন মিশুক (অটো) চালাতে, এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসারের ভাত জোগাতে। লাঠিতে ভর দিয়ে মিশুকে উঠা ও শেষে মিশুক চালিয়ে বাড়িতে এসে নামা—এভাবেই চলে তার জীবন। মিশুকই ছিল তাঁর এবং তাঁর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু সেই শেষ সম্বলটিও একটি প্রতারণার মাধ্যমে প্রতারক চক্র ছিনিয়ে নিয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার কালিবাড়ী এলাকার রামচানপুর গ্রামে হযরত আলীর বাড়ি। তিনি মৃত আবদুল মালেকের পুত্র। জীবনের এই বয়সেও তিনি অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের শ্রমের ওপরেই সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

রোববার (১৯ জুলাই) প্রতিদিনের মতোই জীবিকার সন্ধানে মিশুক নিয়ে বের হন তিনি। বেলা প্রায় ১১টার দিকে কালিবাড়ী থেকে দুই ব্যক্তি তার মিশুক ভাড়া করে নিয়ে যান পাশের উপজেলার পৌর শহর মধুপুরে। হাটখোলা-বোয়ালী সেতু এলাকায় পৌঁছানোর পর মিশুকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনতে তাকে কাছেই কল্লোল সিনেমা হলের সামনে একটি দোকানে যেতে হয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

হাঁটতে অক্ষম বৃদ্ধকে সহানুভূতির ভান করে দুই যাত্রীের একজন হাত ধরে তাকে হাটখোলা মাছবাজার হয়ে রাস্তা পার করে দেয়। অসহায় মানুষটি তখনো বুঝতে পারেননি এটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ। যন্ত্রাংশ ক্রয় করার পর তিনি যখন বোয়ালী সেতুর উপর ফিরে আসেন, তখন দেখেন—তার মিশুক নেই, নেই সেই দুই যাত্রীও। মুহূর্তেই যেন অন্ধকার নেমে আসে তার জীবনে।

একটি লাঠি হাতে সেতুর পাশে বসে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, এই মিশুকটাই ছিল তার তিন সদস্যের পরিবারের বাঁচার ভরসা। এখন কিভাবে সংসার চলবে, এই ভাবনায় সে চিন্তিত। তিনি মিশুক চালান, جبکہ শিশু পুত্র চায়ের দোকানে কাজ করেন।

বৃদ্ধের আহাজারি শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। তারা জানান, হযরত আলীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না, আর পরিবারের কারও ফোন নম্বরও তিনি জানতেন না। তাই স্বজনদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

বোয়ালী এলাকার অনেকেই মানবিক কারণে তাকে বাড়ি ফেরার ভাড়া ও কিছু আর্থিক সহায়তা দেন। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রতারকদের শনাক্ত এবং চুরি হওয়া মিশুক উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এদিকে, স্থানীয়দের কথায়- এমন একজন বৃদ্ধ, শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং অসহায় মানুষের সঙ্গে এই প্রতারণা শুধু একটি চুরির ঘটনা নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি নির্মম চিত্রও। মিশুকটি উদ্ধার, জড়িতদের গ্রেফতার এবং হযরত আলীর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে প্রা-ণ হারালেন নোয়াখালীর সোহাগ, স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ পি.এম


নিউইয়র্কে প্রা-ণ হারালেন নোয়াখালীর সোহাগ, স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচালেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭) মারা গেছেন।

ঘটনার ২১ দিন পর শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় বাইতুল মামুন মসজিদে তার জানাজা সম্পন্ন হয় এবং এরপর নিউ জার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে মরহুমের দাফন করা হয়।

নিহত রফিকুল ইসলাম সোহাগ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের একজন বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করে আসছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুইতলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি লিথিয়াম-আয়ন চালিত ডেলিভারি ই-বাইকের ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার সময় সোহাগের স্ত্রী ও দুই সন্তান গভীর ঘুমে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষাক্ত ধোঁয়া ও আগুন পুরো বেজমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ছিলেন সোহাগ, যে নিজের জীবনের পরোয়া না করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপদ স্থানে বের করে আনেন।

তবে, পরিবারের সকল সদস্যকে নিরাপদে বের করে আনতে পারলেও, তিনি নিজে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন এবং ফুসফুসে বিষাক্ত ধোঁয়া প্রবেশ করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছিল।

সোহাগের এই মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অনেকেই তাকে একজন প্রকৃত ‘সুপারহিরো বাবা’ এবং আত্মত্যাগী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটিতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে পৌঁছাল ত্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ পি.এম


রাঙ্গামাটিতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে পৌঁছাল ত্রাণ

রাঙ্গামাটি, ১৯ জুলাই ২০২৬ : আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে জেলা কাউখালী উপজেলায়।

আজ রোববার বিকালে কাউখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়ন চত্বরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি ২৯৯ নং সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এসব ত্রাণ বিতরণ করেন।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এই ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রেজাউল করিম, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব হোসেন, কাউখালীর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আওয়ালীন খালেক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান এবং নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান আরো বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাঙ্গামাটি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার পাহাড় ধস এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ এবং কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।

তিনি জানান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে মৃতের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে মৃতের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি’র শিক্ষক লাউঞ্জে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোয়ার, চাচা সাইফুল ইসলাম, সাজিদের দুলাভাই মিজানুর রহমান-সহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা সাজিদ হত্যার বিচার, সাজিদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নামকরণ এবং পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তারা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চান এসব দাবি বাস্তবায়নে।

সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সাজিদ আব্দুল্লাহ’র বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, এক বছর পার হয়ে গেলেও একমাত্র সন্তান সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার বিচার তারা পাননি। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও আন্তরিক ও সক্রিয় হয়ে দ্রুত খুনিদের চিহ্নিত ও বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় প্রশাসন সাজিদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বুয়েটের আবরারের নামে হল করা হয়েছে, কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাজিদের নামে কেন হল করা হচ্ছে না, তা বোঝা যায় না।

তিনি আরও বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহ জুলাই আন্দোলনে স্বৈরাচার তাড়াতে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে লড়েছেন। একজন 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। এছাড়া ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন-সহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি তিনি জানিয়েছেন।

এসব দাবি আদায়ে নতুন প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, তারা আশাবাদী প্রশাসন আন্তরিকতার সাথে কাজ করবে। তবে দীর্ঘদিন তাদের সাথে ভিসি কোনো যোগাযোগ করেননি। আজ ভিসির সাথে এসব নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। এতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তাদেরকে লিখিত আবেদনের জন্য বলেছেন। তারা সেই অনুযায়ী কাজ করবেন। তারা আশাবাদী প্রশাসন তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও সেই গ্রামে হয়নি মহিষ জবাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও সেই গ্রামে হয়নি মহিষ জবাই

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ফুট আর্জেন্টিনা পতাকা টাঙিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ভক্তরা। এই আলোচনার মাঝে তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ জবাই করে খাওয়ানো হবে। প্রায় একমাস পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলো ঠিকই, কিন্তু সেই গ্রামে হয়নি মহিষ জবাই।

এর আগে, গত ১৭ জুন, উপজেলার ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামের সমর্থকরা এই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ জবাই করে খাওয়ানো হবে।

এদিকে, রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনালে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। মূলত, রাতে ফাইনাল খেলা শুরুর আগেই মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর কথা ছিলো।

কিন্তু রোববার বিকেলে যখন ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মহিষ জবাইয়ের কোনো রেশ নেই গ্রামটিতে। আঞ্চলিক একটি সড়কের কালভার্টের ওপর কয়েকটি সাউন্ড বক্স বাজানো হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মহিষ জবাইয়ের ঘোষণা দেওয়া আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি আলোচনায় আসার কারণে ওই গ্রামের ‘প্রবাসী ভাইয়েরা’ আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পর তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সফল হওয়া যায়নি। এর ফলে মহিষ কেনার টাকা যোগাড় করা সম্ভব হয়নি।

মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর ঘোষণা দেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে একজন নয়ন আলী। তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপ খেলা শুরুর পর থেকে আমাদের গ্রামের প্রবাসী আর্জেন্টিনা সমর্থক ভাইদের সহযোগিতায় সাড়ে তিন হাজার ফুট আর্জেন্টিনার পতাকাসহ মাঝে মধ্যে আর্জেন্টিনার খেলা শেষে ভূড়িভোজ করা হতো। প্রবাসী ভাইয়েরা মূলত আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পর থেকে তাদের সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ফোন ও ম্যাসেজ দিয়েও কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। যার ফলে মহিষ কেনা হয়নি। তবে গ্রামের আর্জেন্টিনা ভক্তদের মধ্যে ছাত্ররা সাউন্ড বক্স ও রাতে হালকা খাবারের আয়োজন করেছে।

এদিকে, ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামের ব্রাজিল সমর্থক আশরাফুল সরকার বলেন, ‘‘আমরা প্রথমে বলেছিলাম ব্রাজিল ফাইনালে উঠলে গরু জবাই করে খাওয়ানো হবে। আমাদের দেখাদেখি ভাইরাল হওয়ার জন্য আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর ঘোষণা দেন গ্রামের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। আর ব্রাজিল ফাইনালে উঠলে আমাদের ঘোষণা অনুযায়ী অবশ্যই গরু জবাই করে খাওয়ানো হতো।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%