ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়ানোর আহ্বান


নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়ানোর আহ্বান

চুয়াডাঙ্গা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ : সপ্তাহব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী ও সাম্যবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তাদের মতে, নজরুলের সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে যুবসমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আজ চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপনের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।

‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

আরও পড়ুন: নড়াইলে প্রকৌশলীর বাড়িতে ডাকাতি, কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন, গীতা ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। এ সময় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা উল্লেখ করেন, কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে চেতনা বিদ্যমান, তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাদের মতে, নজরুলের আদর্শ ও সৃষ্টিকর্মের চর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক উজ জামান, সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন এবং চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার

আলোচনা সভা শেষে সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক কর্মী হিরণ উর রশিদ শান্ত, নুসরাত জাহান করবি ও মনোয়ারা খুশি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


ফেনীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

ফেনী, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : আজ জেলা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বাংলা কিউআর ও ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবহারকে বৃদ্ধি করা।

এ কনফারেন্স ও র‌্যালির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এক দেশ, এক কিউআর লেনদেনে বাংলা কিউআর’ এবং ‘আর্থিক সাক্ষরতায় সূচিত হোক নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন’।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এবং এনসিসি ব্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন) দেবাশীষ রায়।

এনসিসি ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঞ্চলিক প্রধান মো. নুরুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঞ্চলিক প্রধান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিজিএম ও আঞ্চলিক প্রধান এ. এইচ. এম রেজাউল করিম, এনসিসি ব্যাংক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন সেলের প্রধান মো. আনিসুর রহমান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের উপ-পরিচালক মো: ফিরোজ আহমেদ।

দেবাশীষ রায় অনুষ্ঠানে বলেন, "আগামী দিনে ব্যাংকিং সেবা পুরোপুরি ডিজিটালাইজ হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যেই ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দিতে শুরু করেছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্টুডেন্ট ব্যাংকিংকে আরো কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে স্টুডেন্টদের জন্য একটি পৃথক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিগত ও আধুনিকভাবে ব্যাংকিং খাত এগিয়ে যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ডিজিটাল ব্যাংক, ক্যাশলেস, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন সেল, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি-এর দিকনির্দেশনায় এবং ফেনী শাখার সরাসরি ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

জেলায় মোট ৩৮টি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এই ব্যাংকিং কনফারেন্সে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া, জেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া, চলতি বছরে জেলার সর্বাধিক সংখ্যক স্টুডেন্ট ব্যাংকিং হিসাব খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এনসিসি ব্যাংককে প্রথম, ডাচবাংলা ব্যাংককে দ্বিতীয় এবং বেসিক ব্যাংককে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যাংক হিসেবে পুরস্কৃত করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষার ফলে ক্যাডেট কলেজগুলোর চমকপ্রদ সফলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষার ফলে ক্যাডেট কলেজগুলোর চমকপ্রদ সফলতা

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা চমকপ্রদ ফলাফল অর্জন করেছে। ১২টি ক্যাডেট কলেজের ৫৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৯৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজসমূহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল ও ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ক্যাডেট কলেজগুলোর লক্ষ্য শুধুমাত্র ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সুনাগরিক ও চৌকস ক্যাডেট গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যে, ক্যাডেটদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে লেখাপড়ার পাশাপাশি চরিত্র গঠন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত যুগোপযোগী শিক্ষা ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রম সংযুক্ত হচ্ছে।

ক্যাডেট কলেজগুলোর ক্যাডেটদের ধারাবাহিক সফলতার পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সু-শৃঙ্খল পরিবেশ, অভিজ্ঞ অনুষদ সদস্যদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যা ও তদারকি, ক্যাডেটদের অধ্যবসায়, নিয়মিত লেখাপড়া এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা। এই সাফল্যজনক ফলাফল অর্জনের জন্য ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদের সুষ্ঠু দিকনির্দেশনা, অভিজ্ঞ ও যোগ্যতাসম্পন্ন অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল পর্যায়ের ব্যক্তিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ : দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনা। একই সাথে, জেলা স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিকায়ন করে খেলাধুলার জন্য উপযোগী করা হবে, যা মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।

শনিবার দুপুরে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকায় ইমপ্যাক্ট (ফেজ-৩) প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

প্রতিমন্ত্রী খেলাধুলার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে উল্লেখ করেন যে, খেলাধুলাকে পেশাদারী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। নতুন করে খেলাধুলার কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলার জন্য একটি আলাদা অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে গরুর খামার রয়েছে, সেসব এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা গেলে দেশের জ্বালানি সংকট অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তরুণেরা এই প্ল্যান্ট স্থাপন ও সংযোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন যুগোপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশে ও বিদেশে সমানভাবে কাজের সুযোগ পান এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।

এর আগে, তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন এবং পাঁচজন উদ্যোক্তার হাতে ঋণের চেক প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: গ্রামীণ উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমের উদাহরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: গ্রামীণ উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমের উদাহরণ

হারুন আল নাসিফ

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসম্পৃক্ততার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল ১ নভেম্বর। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান খনন কাজের উদ্বোধন করেন। স্বেচ্ছাশ্রমে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে ‘উলশী মডেল’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

পাঁচ দশক আগে খাদ্য ঘাটতি, কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল এ উদ্যোগ। খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে উন্নয়নকাজে স্থানীয় জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যও ছিল।

স্বাধীনতার পর দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো ও খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি ছিল এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম উদ্যোগ। উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প ছিল স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক এ কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত বেতনা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খননে স্থানীয় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হাজারো মানুষ বিনা পারিশ্রমিকে কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে খননকাজে যোগ দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, কাজের সময় স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণকারীদের দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো।

স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে প্রায় ছয় মাসে খননকাজ সম্পন্ন হয়। এর ফলে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হয় এবং প্রায় ২২ হাজার একর জমিতে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়। খালের দুই পাশে সেচের জন্য প্রায় ২০টি পাম্প স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে এলাকায় ইরি-বোরো ধানের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে।

স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে ওঠা ‘উলশী মডেল’

খাল খননের ওই কর্মসূচির বিশেষত্ব ছিল উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ। কোনো ঠিকাদারি শ্রমিক নির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজটি বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে ‘উলশী মডেল’ নামে পরিচিতি পায়।

উলশী গ্রামের শতবর্ষী বাসিন্দা আবদুল বারিক মন্ডল ওই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে গ্রামে এসেছিলেন। তিনি নিজেই কোদাল হাতে মাটি কাটেন এবং মাটি ভর্তি ঝুড়ি বহনেও অংশ নেন।

বারিক মন্ডলের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, খননকাজের সময় জিয়াউর রহমান তাঁর ভাই করিম বকস মণ্ডলের মাথায় মাটি ভর্তি ঝুড়ি তুলে দিয়েছিলেন। এ সময় করিমের মাথায় থাকা স্থানীয়ভাবে ‘টোকা’ বা ‘মাথাল’ নামে পরিচিত বাঁশ ও তালপাতার তৈরি ঐতিহ্যবাহী টুপিটিও তিনি নিজের মাথায় পরেন। ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও প্রবীণ নেতা খায়রুজ্জামান মধু বলেন, ‘উলশীর খাল শুধু একটি খাল নয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন। এই খাল খনন হয়েছিল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, কৃষিকে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

খাল খননের সময় জিয়াউর রহমান স্থানীয় একটি ভবনে রাত যাপন করেন। পরে ভবনটি কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে কৃষকদের নিয়ে বৈঠক ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হতো। বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ছিল। ফলে খাল খননের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষকদের সংগঠিত করার কাজেও স্থানটি ভূমিকা রাখে।

উলশী প্রকল্পের পর দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়। কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়, যার মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৬৭৫ দশমিক ১৮ মাইল। এ পরিসংখ্যান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির বিস্তারের একটি চিত্র তুলে ধরে।

দীর্ঘ অবহেলার পর পুনঃখননের উদ্যোগ

সময়ের সঙ্গে নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটিতে পলি জমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে খালটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিতে থাকে। খালের পাড়ের স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহাসিক ভবনটির অবস্থাও নাজুক হয়ে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খালটি পুনরুদ্ধার ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ঐতিহাসিক খালটির পুনঃখননের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের একটি প্রস্তাবও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

যশোর-৩ (যশোর সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, উলশী খাল পুনঃখনন এবং যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ছিল জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যশোরের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

পাঁচ দশক পর নতুন অধ্যায়

উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি কোদাল হাতে প্রথম মাটি কেটে এ কাজের সূচনা করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহ্যবাহী টোকা মাথায় ও হাতে কোদাল নিয়ে খালের দুই পাড়ে সমবেত হন। উদ্বোধন উপলক্ষে দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

পাঁচ দশক আগে জিয়াউর রহমানের উদ্বোধন করা খালটির পাশে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী স্মারক স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুনঃখনন সম্পন্ন হলে খালটির পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে খালটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগের স্মৃতি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

পাঁচ দশক আগে উলশী-যদুনাথপুরে যে উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছিল, তার ৫০ বছর পূর্তিতে পুনঃখনন কর্মসূচি সেই ঐতিহাসিক প্রকল্পকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%