বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০০ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
মন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর দেন। এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় চাকরি ফিরে পাওয়া ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষে।
নিহত কে এম তাহসিফ সৌরি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন এবং তিনি রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় বসবাস করতেন। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী এলাকার তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। কারণ প্রাথমিক তদন্ত ও লাশের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর সঠিক তথ্য জেনে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।” আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ব্যতিক্রম দু-একটি ছাড়া দেশে সংঘটিত যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্তকরণ, গ্রেফতার, তদন্ত ও বিচার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে মৃত্যু বা বোমার মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীকে একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে পুনর্গঠন করে ক্রমান্বয়ে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, মাদক ও মানব পাচারের মতো নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সংবিধান এবং মৌলিক আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে জনসেবা দিতে হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ হচ্ছে এখন একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল। তারা একটি স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি ছিল এবং অরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণিত করে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা বাংলাদেশে ১৪০০-র বেশি (জাতিসংঘের হিসাবমতে) এবং আমাদের হিসাবমতে ২০০০-এরও বেশি মানুষ হত্যা ও গণহত্যা চালিয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। উল্টো তারা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদী তকমা দিতে চেয়েছিল। তারা যে আবার গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে আসতে চায়, এ দেশের জনগণ কখনও তা গ্রহণ করবে না এবং সে সুযোগ দেবে না।”
শেখ হাসিনার দেশে আসার ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেন, কে কখন আসতে চাচ্ছে না চাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা মোটেও বিচলিত নই। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর; যে-ই আসুক না কেন, তাদেরকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বাবা-মেয়ের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। গোলাপ হোসেন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং তার ৬ বছরের শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে, পুলিশ উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকসের পাশে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি ইটভাটার কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত তওবার বাবা গোলাপ হোসেনের স্থায়ী বাড়ি রামকৃষ্ণদী গ্রামে, কিন্তু তিনি পরিবারসহ লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
তথ্য অনুযায়ী, তওবার দাদা জয়নাল মিয়া গত পাঁচ বছর ধরে রামকৃষ্ণদী এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করছেন। বুধবার বিকেলে দাদার সঙ্গে দেখা করার পর বাড়ি ফেরার পথে তওবা এবং তার বাবা গোলাপ হোসেন হামলার শিকার হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গোলাপ হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একই সময়ে শিশু তওবাকে হত্যা করে তার মরদেহ ইটভাটার পাশে পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে গুরুতর আহত গোলাপ হোসেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুর স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর সম্পর্কিত জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। জনগণ এই বিষয়টি মেনে নেবে না। জনগণের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, অতীতে বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বলে ট্রানজিট, করিডোরসহ বিভিন্ন নামে সুবিধা দেওয়া হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ তার কোনো সুফল পায়নি।
তিনি আরও লেখেন, জাপান, চীন বা যেকোনো বন্ধুরাষ্ট্রই হোক না কেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা যোগ করেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের। এই ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ব্যর্থতা বা আপোসকামিতা জনগণ একেবারেই দেখতে চায় না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল গ্রামে ২০১৬ সালে শাবানা বেগম নামে এক নারীর হত্যার ঘটনায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন মেয়াদে দুইজনকে সাজা এবং পাঁচজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নাসির মিয়া, গিয়াস, বিলাল এবং দুলাল। এছাড়া, মুহিব ও জয়নাল নামে দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
মামলার বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল গ্রামের হেলাল মিয়ার সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল নাসির মিয়ার। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের এক দুপুরে জমিজমা নিয়ে নাসির মিয়ার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় হেলাল মিয়ার বোন শাবানা বেগমও সেখানে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে নাসির মিয়া ও অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাবানা বেগমের ওপর আক্রমণ চালায়, যার ফলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে।
হেলাল মিয়া পরে নাসির মিয়া ও ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আজ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই হত্যা মামলায় রায় প্রদান করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরখান এলাকা সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া সাবেক বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, তবে তার নাক থেকে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান এই সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেন। পরে দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান শনাক্ত করেছেন। আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার কে এম তাহসিফের কপাল স্বাভাবিক এবং মুখমণ্ডল গোলাকার ছিল। মুখ ও চোখ বন্ধ থাকলেও দেহে ছোট কালো দাড়ি-গোঁফ ছিল এবং হাত দুটি মাথার সামনের দিকে বাঁকা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহতের নাক থেকে রক্ত বের হলেও শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন মেলেনি। শরীরের সব অঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল এবং হাতের মুষ্টি খোলা থাকলেও পেট ফোলা ছিল বলে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।
এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরেন তাহসিফ। এর কিছু সময় পর এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হন। পরদিন (২৮ অক্টোবর) ‘আসছি’ লিখে একটি বার্তা পাঠালেও এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ