০৬:৪৩ পি.এম
ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছে, যার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সম্প্রসারণ করা।
এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। বিশেষত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক উৎপাদন শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল খাতে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি নজরুলের জামিন মেলেনি
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।
সফরের সময় প্রতিনিধি দলটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে আলোচনা হবে।
ইআরডি কর্মকর্তাদের মতে, সফরে স্যামসাং, হানওয়া ওশান, নাভার, ইয়ংওয়ান, ফিউরিওসাএআই এবং এলজি এআই রিসার্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এসকে গ্যাস ও নাভারের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিনিয়োগের সুযোগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সময় ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: নড়াইলে প্রকৌশলীর বাড়িতে ডাকাতি, কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত আইজিএনডি উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে পরিবহন, জ্বালানি, নগর সেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামোতে সমন্বিত বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল, শহর ও বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা।
সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর বাইরেও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য নতুন প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২০৪৫-৪৬ অর্থবছর পর্যন্ত কয়েকটি ধাপে সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আনুমানিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, দ্বিপক্ষীয় পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বেশ কিছু প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে, যা কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেলের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কোরিয়ার অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে এমন বরাদ্দবিহীন ১৭টি অননুমোদিত সরকারি প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পে এডিবির সহ-অর্থায়নের বিষয়ও রয়েছে।
প্রকল্পগুলো পরিবহন, পয়ঃনিষ্কাশন, গবেষণা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এসব সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্প পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি এবং অর্থায়নের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ইআরডি।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন