বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৩০ পি.এম
নোয়াখালী, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : সদর উপজেলার এলাকায় মাদক বিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযান চলাকালীন গাঁজা সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম জাহিদা আক্তার মৌসুমির নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা দত্তেরহাট পানির ট্যাংক ও সোনাপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
দণ্ডিতদের মধ্যে একজন হলেন সদর উপজেলার ডেমা এলাকার মো. তুহিন (৪৫) এবং অন্যজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার রামপুর এলাকার মো. রুবেল মিয়া (২৮)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় গাঁজা সেবন করে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে ঘটনাস্থলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
॥ মো. সাজ্জাদ হোসেন ॥
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। এই রোগের বিস্তার রোধে সরকার এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তবে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র ওষুধ ছিটানো কিংবা পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়; বিশেষজ্ঞরা এডিস মশার প্রকৃত প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস, কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ২৬ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বাসসকে জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক থাকতে পারে। নভেম্বর মাসে প্রকোপ কিছুটা কমলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রথম কাজ হলো এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করা। কোথায় মশা বংশবিস্তার করছে, কোন ধরনের স্থানে লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে এবং মশকনিধনে ব্যবহৃত ওষুধ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রজননস্থল শনাক্ত না করে নির্বিচারে কীটনাশক প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার আরও বলেন, এডিস মশা শুধু নর্দমা বা রাস্তার পাশে জন্মায় না। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ভবনের বেজমেন্ট ও পার্কিং এলাকা, ছাদ-বারান্দায় পড়ে থাকা পাত্র, ফুলের টব, পানির ট্যাংক এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করতে পারে। ভবনের আড়ালে কিংবা দুই ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে জমে থাকা পানিও প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। এসব স্থান অনেক সময় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে রাস্তা ও নালা পরিষ্কার করলেও ভবনের ভেতরে থাকা প্রজননস্থল থেকে নতুন করে মশার বিস্তার ঘটতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন মাসের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু রোগীর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় শয্যা, পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, ফগিং, লার্ভা ধ্বংস এবং মশার প্রজননক্ষেত্র ও হটস্পট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক র্যালি এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ, মশকনিধনসংক্রান্ত তথ্য ও লার্ভা পরীক্ষার প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য ডিএনসিসি কয়েকটি মোবাইল নম্বর চালু করেছে। নম্বরগুলো হলো—০১৭১৬-০৬৩৪২৫, ০১৭৭৩-৩৯৩২৭৬ ও ০১৭১৫-২৩৮৭৫৪।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বাসসকে জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও ফগিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনসিসি ও বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যদের যুক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও খতিব এবং স্কুল-কলেজের প্রধান ও অধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাসাবাড়ির ছাদ ও বারান্দায় কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি শনিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে আগামী তিন মাস এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। দক্ষিণ সিটির বর্ষা-পূর্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বাসসকে বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়; এজন্য জনগণকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেন বাসসকে বলেন, শুধু ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছড়ানো কিংবা মৌসুমি পরিদর্শন করে জরিমানা আদায় যথেষ্ট নয়। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত গাড়ি, ছাদে জমে থাকা পানি, খোলা ড্রাম, ফুলের টব ও ভাঙা পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত লার্ভা ধ্বংসের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক মানুষ দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করেন। এসব ক্ষেত্রে নিরাপদ লার্ভানাশক বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে জনগণকে প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা জরুরি। বৃষ্টির পরপরই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে ২২ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা অঞ্চলে চলতি বছরে প্রায় ১৬ লাখ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিল ও কলম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশে সংক্রমণের চাপ থাকলেও অঞ্চলটিতে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের উদ্ধৃত তথ্যে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৯০টির বেশি দেশে প্রায় ১৫ লাখ সংক্রমণ এবং ৫০০-এর বেশি মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।
ড. মুশতাক হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং এডিস মশার প্রজনন পরিস্থিতি ডেঙ্গুর বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গুরুতর রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, মশকনিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত জরিপের পাশাপাশি কীটনাশকের মান, প্রয়োগপদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল যাচাই করতে হবে। একই ধরনের ওষুধ বারবার প্রয়োগের আগে সেটি মশা নিধনে কার্যকর কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানো গেলে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পানির পাত্র পরিষ্কার করা এবং বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার কমানো সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বিজ্ঞানভিত্তিক মশকনিধন, কার্যকর চিকিৎসাব্যবস্থা ও জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর একটি ঘটনা শনাক্ত করেছে, যেখানে পুরোনো ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান টিম জানায়, ২০০৭ সালে তোলা একটি ছবিকে খণ্ডিতভাবে ফেসবুকে প্রকাশ করে নাহরিন ইসলাম খানকে স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নাহরিন ইসলাম খান নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ছবিটি ২০০৭ সালে তোলা হয়েছে। ছবির মধ্যে থাকা ব্যানারে ডিবেট ফেডারেশনের নাম এবং ২০০৬-২০০৭ সাল উল্লেখ রয়েছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।
বাংলাফ্যাক্ট হলো প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম। এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার লাকসামে লাইনচ্যুত কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৪টি বগি উদ্ধার করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে রিলিফ ট্রেনের সহায়তায় উদ্ধারকারী দলের প্রায় ১৬ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় এই উদ্ধার কাজ শেষ হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত রেল লাইন মেরামত ও প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ চলছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে, যাতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা যায়। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা রিলিফ ট্রেন উদ্ধার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আজ ভোরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগিগুলো সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।
কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন বাসস’কে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রেল লাইন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথের আপলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসামের নাওটি স্টেশন সংলগ্ন আজগরা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ ৪ টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথের আপলাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। তবে ডাউনলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে রেলওয়ের ফেনীর জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানিয়েছেন যে, সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
মন্ত্রী বলেন, "সাইবার সিকিউরিটি থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইন আমরা সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে স্টেকহোল্ডার, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মালিক ও পত্রিকা সম্পাদকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হচ্ছে।"
বুধবার রাতে ভোলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "আমরা এমনভাবে একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চাই— যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ সবাই সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।"
ভোলা সদরের ২৯টি মণ্ডপে ২৯ লাখ টাকা ব্যক্তিগত অনুদান প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতভর তিনি জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে রয়েছে বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, ওয়েস্টার্ন পাড়ার শতদল বিকাশ ক্লাব সংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ এবং সার্কুলার রোড পূজা মণ্ডপসহ মোট ৯টি মন্দির।
পরিদর্শনের সময় তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, "সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু, মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক এখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।"
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান, যারা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের বরাতে তিনি জানান, "এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।"
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "কেবল সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়—রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ীই বিচার করা হবে।"
ভোলা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অসীম কুমার সাহা বাসসকে জানান, তথ্যমন্ত্রী ও জেলার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কঠোর তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে এবার জেলার ১১৮টি পূজামণ্ডপে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজার্চনা করতে পেরেছেন।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখায় তিনি জেলা পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ