ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ৪টি বগি উদ্ধার, চলছে রেললাইন সংস্কার


কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ৪টি বগি উদ্ধার, চলছে রেললাইন সংস্কার

কুমিল্লা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার লাকসামে লাইনচ্যুত কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৪টি বগি উদ্ধার করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে রিলিফ ট্রেনের সহায়তায় উদ্ধারকারী দলের প্রায় ১৬ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় এই উদ্ধার কাজ শেষ হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত রেল লাইন মেরামত ও প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ চলছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে, যাতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা যায়। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা রিলিফ ট্রেন উদ্ধার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আজ ভোরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগিগুলো সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।

কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন বাসস’কে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রেল লাইন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথের আপলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের বড় উদ্যোগ গ্রহণ

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসামের নাওটি স্টেশন সংলগ্ন আজগরা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ ৪ টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথের আপলাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। তবে ডাউনলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে রেলওয়ের ফেনীর জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার সিকিউরিটি ও অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ পি.এম


সাইবার সিকিউরিটি ও অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

ভোলা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানিয়েছেন যে, সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

মন্ত্রী বলেন, "সাইবার সিকিউরিটি থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইন আমরা সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে স্টেকহোল্ডার, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মালিক ও পত্রিকা সম্পাদকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হচ্ছে।"

বুধবার রাতে ভোলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "আমরা এমনভাবে একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চাই— যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ সবাই সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।"

ভোলা সদরের ২৯টি মণ্ডপে ২৯ লাখ টাকা ব্যক্তিগত অনুদান প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতভর তিনি জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে রয়েছে বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, ওয়েস্টার্ন পাড়ার শতদল বিকাশ ক্লাব সংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ এবং সার্কুলার রোড পূজা মণ্ডপসহ মোট ৯টি মন্দির।

পরিদর্শনের সময় তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, "সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু, মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক এখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।"

তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান, যারা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের বরাতে তিনি জানান, "এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।"

সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "কেবল সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়—রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ীই বিচার করা হবে।"

ভোলা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অসীম কুমার সাহা বাসসকে জানান, তথ্যমন্ত্রী ও জেলার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কঠোর তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে এবার জেলার ১১৮টি পূজামণ্ডপে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজার্চনা করতে পেরেছেন।

অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখায় তিনি জেলা পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাক্টওয়াচ: সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার গুজব শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


ফ্যাক্টওয়াচ: সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার গুজব শনাক্ত

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : ফ্যাক্টওয়াচ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার গুজবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক মনগড়া তথ্য শনাক্ত করেছে।

ফ্যাক্টওয়াচের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই গুজবগুলোর মধ্যে তাদের মরদেহ দেশে ফেরার দাবি করা হয়েছে, পাশাপাশি ঘটনাটি চার মাস আগে ঘটেছে বলেও প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া, তাদের বিয়ের পর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

তবে তথ্য যাচাইয়ের পর দেখা গেছে, নিহত নজরুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করে যাচ্ছে। এটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ নিয়মিতভাবে এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভিন্ন ঘটনার দাবি করে অপপ্রচার: ফ্যাক্টওয়াচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


৩০ হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভিন্ন ঘটনার দাবি করে অপপ্রচার: ফ্যাক্টওয়াচ

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩০টির বেশি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওকে ভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অপপ্রচার হিসেবে শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেসবুকে আগুনে পুড়তে থাকা কয়েকটি বাড়ির ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩০টির বেশি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

তবে ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আসলে ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার ভিডিও।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘নব জাগরণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও পাওয়া যায়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই পেজে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ-সংক্রান্ত একটি ঘটনার ভিডিও।

এ বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনে, যা ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে, বলা হয়েছে যে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে একই মামলার আরও তিন আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে একই মামলার আসামি ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

দৈনিক আজকের পত্রিকার গফরগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি ফ্যাক্টওয়াচকে জানান, ভিডিওটি নিয়ে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি ধর্ষণের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও আসামি—উভয় পক্ষই মুসলিম।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে গফরগাঁওয়ে হিন্দু সম্প্রদায় বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ কিংবা হামলার কোনো খবর নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। সার্বিক পর্যালোচনায় ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে কাজ করছে ফ্যাক্টওয়াচ। এটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ নিয়মিত এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর সীমান্তে হাতি-মানুষের সংঘাত নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ পি.এম


শেরপুর সীমান্তে হাতি-মানুষের সংঘাত নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

শেরপুর, ২২ অক্টোবর ২০২৬ : গারো পাহাড় এলাকার বন্য হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, বন বিভাগের নজরদারি বৃদ্ধি এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের প্রশিক্ষক আদনান আজাদ বাসসকে জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাতির নিরাপদে বেঁচে থাকার পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের একযোগে কাজ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, হাতি যখন লোকালয়ে প্রবেশ করে, তখন আতঙ্কিত হয়ে হাতিকে ঘিরে ধরা, আঘাত করা কিংবা অনিরাপদভাবে তাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত রেসপন্স টিমের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন বিভাগের সঙ্গে মানুষের সমন্বয় জোরদার করেও সংঘাত কমানো সম্ভব।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১২০টি বন্য হাতি বিচরণ করছে। প্রতিটি দলে হাতির সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ টি।

এছাড়া খাদ্যের সন্ধানে হাতির পাল প্রায়ই লোকালয় ও কৃষি জমিতে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, এবং মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, হাতিরাও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ও স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ হারাচ্ছে। ফলে মানুষ ও বন্য হাতি উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ি, মধুটিলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচি, ছোটো গজনী ও বড় গজনী এবং শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী ও রানী শিমুল ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় হাতির বিচরণ রয়েছে। বর্তমানে হাতির দলগুলো নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা-পোড়াবাড়ি পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থান করছে।

মধুটিলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আব্দুল করিম জানান, হাতিগুলো কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শেরপুর ও জামালপুরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় বিচরণ করছে। এসব দলে ২৫ থেকে ৩০টি শাবকও রয়েছে। বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় হাতিরা প্রায়ই কৃষিজমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ১৫ থেকে ২০টি বন্য হাতি বাংলাদেশের গারো পাহাড় এলাকায় আসে। পরবর্তী সময়ে বংশ বিস্তারের ফলে হাতির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত।

২০০৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মেঘালয় রাজ্য সংলগ্ন শেরপুর এলাকায় কয়েক কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়। তখন হাতির চলাচলের সুবিধার্থে ৪৪টি গেট ও নদী-ছড়ার ওপর ১১টি আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু অজানা কারণে সেই গেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে মেঘালয় থেকে আসা হাতিগুলো আর নিজ আবাসস্থলে ফিরতে পারেনি।

স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোয় জমিতে ফসলের পরিচর্যা করেন কৃষকেরা। আর রাত নামলেই শুরু হয় ফসল পাহারা। কেউ টর্চলাইট জ্বালিয়ে, কেউ আগুনের আলো দেখিয়ে, আবার কেউ দল বেঁধে হাঁকডাক করে হাতির পাল ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবুও কোনো কোনো রাতে হাতির আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায় কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল।

ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া এলাকার কৃষক সুনীল মারাক বাসসকে বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসল ফলাই। কিন্তু বন্য হাতি রাতে এসে ক্ষেতের সব ফসল নষ্ট করে দেয়। এক রাতেই আমাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম শেষ হয়ে যায়। হাতির ভয়ে রাতে জমি পাহারা দিতে হয়, আবার জীবনের ঝুঁকিও থাকে।’

তিনি হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা এলাকার কৃষক চিন্ময় ম্রং বলেন, ‘হাতির ভয়ে আমরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। কখন হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, কখন ঘরবাড়ি বা ফসলের ক্ষতি করে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। হাতি তাড়াতে গিয়ে মানুষ আহত হওয়ার বা প্রাণ হারানোর আশঙ্কাও থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হাতি মেরে ফেলতে চাই না। আমরা চাই মানুষ ও হাতি দুই পক্ষই নিরাপদে থাকুক। এজন্য বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি, আগাম সতর্কবার্তা এবং স্থানীয় মানুষের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’

শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী এলাকার কৃষক হারেজ আলী বলেন, শুধু হাতি তাড়িয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ, বনের খাদ্য ও আবাসস্থলের উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং গ্রামবাসীর সঙ্গে বন বিভাগের সমন্বয় বাড়াতে হবে।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুরে মানুষ-হাতির সংঘাতের ঘটনায় প্রায় ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ২৯ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাছপালাসহ ৮২৯টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক ফাঁদসহ বিভিন্ন কারণে ৩০টি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, এসব ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে ৫৫ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে ৯ লাখ টাকা এবং বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা সরকারি সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ফসলের ক্ষতি, প্রাণহানির আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে যাচ্ছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির পর সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পাহাড়ি জনপদের স্থানীয় বাসিন্দারা।

মধুটিলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আব্দুল করিম বলেন, হাতির আবাসস্থলে পর্যাপ্ত খাবার না থাকলে তারা খাদ্যের সন্ধানে কৃষি জমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, হাতির লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে হাতির চলাচলের পথ প্রশস্ত করা, বনাঞ্চলে খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং মানুষের কৃষিজমি ও বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

গত ১০ অক্টোবর শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতির সংঘাত নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণ বিষয়ক এক আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বিদ্যমান প্রটোকলের আওতায় ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

হাতির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে বলেও মন্ত্রী ঐ আলোচনায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,

‘শেরপুরের বনাঞ্চলকে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্য হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।’

শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় হাতি-মানুষের সংঘাত এখন শুধুমাত্র ফসলের ক্ষতি কিংবা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয় নয়। এটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। একদিকে কৃষকেরা নিজেদের ফসল ও পরিবার রক্ষায় রাত জাগছেন, অন্যদিকে হাতিরা খাদ্য ও নিরাপদ চলাচলের সংকটে লোকালয়ের দিকে আসছে।

এ পরিস্থিতিতে হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্তের গেটগুলো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা, হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ, বনাঞ্চলের উন্নয়ন, আগাম সতর্ক ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মানুষ ও বন্যহাতি দুই পক্ষের জীবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে গারো পাহাড়ে দীর্ঘদিনের এই সংঘাত কমিয়ে আনা সম্ভব। এখন সীমান্তবাসীর প্রশ্ন একটাই, কবে শেষ হবে ফসল রক্ষার এই লড়াই, আর কবে ফিরবে পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান ?

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%