ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাইবার সিকিউরিটি ও অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী


সাইবার সিকিউরিটি ও অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

ভোলা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানিয়েছেন যে, সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

মন্ত্রী বলেন, "সাইবার সিকিউরিটি থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইন আমরা সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে স্টেকহোল্ডার, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মালিক ও পত্রিকা সম্পাদকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হচ্ছে।"

বুধবার রাতে ভোলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মান পেল ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা

তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "আমরা এমনভাবে একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চাই— যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ সবাই সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।"

ভোলা সদরের ২৯টি মণ্ডপে ২৯ লাখ টাকা ব্যক্তিগত অনুদান প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতভর তিনি জেলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে রয়েছে বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, ওয়েস্টার্ন পাড়ার শতদল বিকাশ ক্লাব সংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ এবং সার্কুলার রোড পূজা মণ্ডপসহ মোট ৯টি মন্দির।

পরিদর্শনের সময় তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, "সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু, মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক এখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।"

আরও পড়ুন: নিউমার্কেটে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ নেতার পদ স্থগিত

তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান, যারা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের বরাতে তিনি জানান, "এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।"

সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "কেবল সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়—রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ীই বিচার করা হবে।"

ভোলা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অসীম কুমার সাহা বাসসকে জানান, তথ্যমন্ত্রী ও জেলার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কঠোর তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে এবার জেলার ১১৮টি পূজামণ্ডপে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজার্চনা করতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন অধরাই

অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখায় তিনি জেলা পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাক্টওয়াচ: সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার গুজব শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


ফ্যাক্টওয়াচ: সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার গুজব শনাক্ত

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : ফ্যাক্টওয়াচ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার গুজবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক মনগড়া তথ্য শনাক্ত করেছে।

ফ্যাক্টওয়াচের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই গুজবগুলোর মধ্যে তাদের মরদেহ দেশে ফেরার দাবি করা হয়েছে, পাশাপাশি ঘটনাটি চার মাস আগে ঘটেছে বলেও প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া, তাদের বিয়ের পর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

তবে তথ্য যাচাইয়ের পর দেখা গেছে, নিহত নজরুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করে যাচ্ছে। এটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ নিয়মিতভাবে এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভিন্ন ঘটনার দাবি করে অপপ্রচার: ফ্যাক্টওয়াচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


৩০ হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভিন্ন ঘটনার দাবি করে অপপ্রচার: ফ্যাক্টওয়াচ

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩০টির বেশি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওকে ভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অপপ্রচার হিসেবে শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেসবুকে আগুনে পুড়তে থাকা কয়েকটি বাড়ির ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩০টির বেশি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

তবে ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আসলে ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার ভিডিও।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘নব জাগরণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও পাওয়া যায়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই পেজে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ-সংক্রান্ত একটি ঘটনার ভিডিও।

এ বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনে, যা ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে, বলা হয়েছে যে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে একই মামলার আরও তিন আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে একই মামলার আসামি ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

দৈনিক আজকের পত্রিকার গফরগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি ফ্যাক্টওয়াচকে জানান, ভিডিওটি নিয়ে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি ধর্ষণের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও আসামি—উভয় পক্ষই মুসলিম।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে গফরগাঁওয়ে হিন্দু সম্প্রদায় বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ কিংবা হামলার কোনো খবর নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। সার্বিক পর্যালোচনায় ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে কাজ করছে ফ্যাক্টওয়াচ। এটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ নিয়মিত এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর সীমান্তে হাতি-মানুষের সংঘাত নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ পি.এম


শেরপুর সীমান্তে হাতি-মানুষের সংঘাত নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

শেরপুর, ২২ অক্টোবর ২০২৬ : গারো পাহাড় এলাকার বন্য হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, বন বিভাগের নজরদারি বৃদ্ধি এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের প্রশিক্ষক আদনান আজাদ বাসসকে জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাতির নিরাপদে বেঁচে থাকার পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের একযোগে কাজ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, হাতি যখন লোকালয়ে প্রবেশ করে, তখন আতঙ্কিত হয়ে হাতিকে ঘিরে ধরা, আঘাত করা কিংবা অনিরাপদভাবে তাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত রেসপন্স টিমের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন বিভাগের সঙ্গে মানুষের সমন্বয় জোরদার করেও সংঘাত কমানো সম্ভব।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১২০টি বন্য হাতি বিচরণ করছে। প্রতিটি দলে হাতির সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ টি।

এছাড়া খাদ্যের সন্ধানে হাতির পাল প্রায়ই লোকালয় ও কৃষি জমিতে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, এবং মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, হাতিরাও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ও স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ হারাচ্ছে। ফলে মানুষ ও বন্য হাতি উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ি, মধুটিলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচি, ছোটো গজনী ও বড় গজনী এবং শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী ও রানী শিমুল ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় হাতির বিচরণ রয়েছে। বর্তমানে হাতির দলগুলো নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা-পোড়াবাড়ি পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থান করছে।

মধুটিলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আব্দুল করিম জানান, হাতিগুলো কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শেরপুর ও জামালপুরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় বিচরণ করছে। এসব দলে ২৫ থেকে ৩০টি শাবকও রয়েছে। বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় হাতিরা প্রায়ই কৃষিজমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ১৫ থেকে ২০টি বন্য হাতি বাংলাদেশের গারো পাহাড় এলাকায় আসে। পরবর্তী সময়ে বংশ বিস্তারের ফলে হাতির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত।

২০০৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মেঘালয় রাজ্য সংলগ্ন শেরপুর এলাকায় কয়েক কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়। তখন হাতির চলাচলের সুবিধার্থে ৪৪টি গেট ও নদী-ছড়ার ওপর ১১টি আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু অজানা কারণে সেই গেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে মেঘালয় থেকে আসা হাতিগুলো আর নিজ আবাসস্থলে ফিরতে পারেনি।

স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোয় জমিতে ফসলের পরিচর্যা করেন কৃষকেরা। আর রাত নামলেই শুরু হয় ফসল পাহারা। কেউ টর্চলাইট জ্বালিয়ে, কেউ আগুনের আলো দেখিয়ে, আবার কেউ দল বেঁধে হাঁকডাক করে হাতির পাল ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবুও কোনো কোনো রাতে হাতির আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায় কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল।

ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া এলাকার কৃষক সুনীল মারাক বাসসকে বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসল ফলাই। কিন্তু বন্য হাতি রাতে এসে ক্ষেতের সব ফসল নষ্ট করে দেয়। এক রাতেই আমাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম শেষ হয়ে যায়। হাতির ভয়ে রাতে জমি পাহারা দিতে হয়, আবার জীবনের ঝুঁকিও থাকে।’

তিনি হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা এলাকার কৃষক চিন্ময় ম্রং বলেন, ‘হাতির ভয়ে আমরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। কখন হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, কখন ঘরবাড়ি বা ফসলের ক্ষতি করে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। হাতি তাড়াতে গিয়ে মানুষ আহত হওয়ার বা প্রাণ হারানোর আশঙ্কাও থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হাতি মেরে ফেলতে চাই না। আমরা চাই মানুষ ও হাতি দুই পক্ষই নিরাপদে থাকুক। এজন্য বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি, আগাম সতর্কবার্তা এবং স্থানীয় মানুষের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’

শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী এলাকার কৃষক হারেজ আলী বলেন, শুধু হাতি তাড়িয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ, বনের খাদ্য ও আবাসস্থলের উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং গ্রামবাসীর সঙ্গে বন বিভাগের সমন্বয় বাড়াতে হবে।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুরে মানুষ-হাতির সংঘাতের ঘটনায় প্রায় ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ২৯ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাছপালাসহ ৮২৯টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক ফাঁদসহ বিভিন্ন কারণে ৩০টি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, এসব ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে ৫৫ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে ৯ লাখ টাকা এবং বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা সরকারি সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ফসলের ক্ষতি, প্রাণহানির আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে যাচ্ছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির পর সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পাহাড়ি জনপদের স্থানীয় বাসিন্দারা।

মধুটিলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আব্দুল করিম বলেন, হাতির আবাসস্থলে পর্যাপ্ত খাবার না থাকলে তারা খাদ্যের সন্ধানে কৃষি জমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, হাতির লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে হাতির চলাচলের পথ প্রশস্ত করা, বনাঞ্চলে খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং মানুষের কৃষিজমি ও বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

গত ১০ অক্টোবর শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতির সংঘাত নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণ বিষয়ক এক আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘বিদ্যমান প্রটোকলের আওতায় ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

হাতির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে বলেও মন্ত্রী ঐ আলোচনায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,

‘শেরপুরের বনাঞ্চলকে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্য হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।’

শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় হাতি-মানুষের সংঘাত এখন শুধুমাত্র ফসলের ক্ষতি কিংবা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয় নয়। এটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। একদিকে কৃষকেরা নিজেদের ফসল ও পরিবার রক্ষায় রাত জাগছেন, অন্যদিকে হাতিরা খাদ্য ও নিরাপদ চলাচলের সংকটে লোকালয়ের দিকে আসছে।

এ পরিস্থিতিতে হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্তের গেটগুলো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা, হাতির চলাচলের পথ সংরক্ষণ, বনাঞ্চলের উন্নয়ন, আগাম সতর্ক ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মানুষ ও বন্যহাতি দুই পক্ষের জীবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে গারো পাহাড়ে দীর্ঘদিনের এই সংঘাত কমিয়ে আনা সম্ভব। এখন সীমান্তবাসীর প্রশ্ন একটাই, কবে শেষ হবে ফসল রক্ষার এই লড়াই, আর কবে ফিরবে পাহাড়ি জনপদে বসবাসকারী মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান ?

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের চার উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের চার উদ্যোগ

মোশতাক আহমদ

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাসগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের আলোচনা করে এসব উদ্যোগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা, বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বাসসকে জানিয়েছেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ—সব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’

রাজধানীর যানজট বর্তমানে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ নয়; এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হয়। এতে উৎপাদনশীলতা কমে এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরের যানজটের টেকসই সমাধান শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করাও অত্যন্ত জরুরি।

রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গণপরিবহনের মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ফলে গণপরিবহনের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। তাই বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ ও বহির্গমন নগর চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে বাসের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে টার্মিনাল স্থানান্তর শুধুমাত্র বাস রাখার স্থান পরিবর্তনের বিষয় নয়। নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীদের যাতায়াতের সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলেও সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্যান্য পরিবহন সংযোগ না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

আন্তঃজেলা বাসের যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান এবং মহানগরীর অভ্যন্তরীণ বাস চলাচলের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, বাসের অপেক্ষমাণ জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা গেলে আশপাশের সড়কে চাপ কমানো সম্ভব।

রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংস্কারের আওতায় কোন কোন রুট রয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।

রুট সংস্কার বলতে শুধু সড়কের উপরিতল মেরামত নয়। বাস চলাচলের পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, স্টপেজের অবস্থান, সংযোগকারী সড়ক এবং যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকার বিভিন্ন সড়কে একই পথে একাধিক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তোলার জন্য হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আবার কিছু এলাকায় যাত্রীর তুলনায় বাসের সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রুট সংস্কারের পরিকল্পনায় এসব সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

যাত্রী চলাচলের তথ্য, কর্মব্যস্ত সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অবস্থান এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বাসের সময়সূচি, যাত্রীর অপেক্ষার সময় এবং রুটভিত্তিক পরিবহন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

রুট পরিবর্তনের ফলে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট ও সংযোগকারী বাস চালু করা গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।

রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল, যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধন ও পরিচিতি, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন সড়কে কোন ধরনের যান চলাচল করবে, তা সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তবে শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা না থাকলে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সুফল সীমিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বাসসকে বলেন, ‘পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন জরুরি। পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা, টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন স্থানের সঙ্গে নগর পরিবহনের সংযোগ, রুট সংস্কারের সঙ্গে বাস পরিচালনার সমন্বয় এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহনমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী কাজ করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজ কার্যকর করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার, গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা এবং পরিবহনের নিয়মিত চলাচলকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা সুফল দিচ্ছে, তা পরিমাপ করা সহজ হবে।

রাজধানীর সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নীতিমালা বা অবকাঠামোগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, আইন প্রয়োগ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা। চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার যানজট কমানো ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টগণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%