ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী


জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

প্রকল্প বাস্তবায়ন শুধু যথেষ্ট নয়, সেসব সেবার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দৈনন্দিন জীবনে সময়ের সদ্ব্যবহার এবং জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির বিকল্প নেই। সুতরাং দেশের সকল শ্রেণির মানুষকে ধীরে ধীরে ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আবশ্যক, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহন করতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

বর্তমানে অনেক সরকারি ও আর্থিক সেবা ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে, তবে জনগণকে এসব সেবার বিষয়ে জানানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা আরও সহজ করতে হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, ঘরে বসে সেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের সময় এবং অর্থ; দুটিই সাশ্রয় হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, কিন্তু সাথে সাথেই জনগণকে সেসব সেবা সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে সরাসরি সেবা নেবার বদলে মানুষ যেন অনলাইনে সহজেই সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার, ইনস্যুরেন্সসহ সব খাতে অপব্যবহার রোধে ডিজিটাইজেশন ব্যবস্থার বাস্তবায়নের উপরও জোর দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাহেন্দ্র-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


মাহেন্দ্র-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় একটি মাহেন্দ্র ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় রিফাত, নামের দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় নাজিমটিলা নামক স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রিফাত অটোরিকশার যাত্রী ছিল।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাইট্টাপাড়া থেকে যাত্রী নিয়ে একটি মাহেন্দ্র দীঘিনালার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। গাড়িটি ইসলামাবাদ নাজিমটিলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয়দের মতে, অটোরিকশাটি অতিরিক্ত গতিতে এসে মোড় ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি মাহেন্দ্রর ওপর উঠে যায়। যার ফলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা শিশুসহ ছয় যাত্রী গুরুতর আহত হন। যদিও মাহেন্দ্রর যাত্রীরা অক্ষত এবং নিরাপদ ছিলেন।

দুর্ঘটনার পরেই আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় রাবেতা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সকলে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে রিফার করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়া দুই বছরের শিশু রিফাত মৃত্যুবরণ করে। অন্যদিকে বাকি পাঁচজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি দুলাল জানিয়েছেন, অটোচালক বরকত তাদের সমিতির সদস্য নন। তিনি নতুন গাড়ি নিয়েছেন এবং কিছুদিন আগে তিনি এ বিষয়ে তাদের অবগত করেন। শুনেছেন, গাড়ি নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের নিচে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে সমিতির পক্ষ থেকে তারা এই দুর্ঘটনার বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছেন।

অন্যদিকে মাহেন্দ্র মালিক সমিতির প্রতিনিধি জামাল হোসেন জানান, সকাল ৬টায় তাদের চালক নুর আলম যাত্রী নিয়ে দীঘিনালার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। নাজিমটিলা এলাকায় দুর্ঘটনার খবর শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে প্রাথমিকভাবে দেখা যায় এবং গাড়ির যাত্রীরা নিশ্চিত করেন যে, অটোরিকশাটি উল্টো পাশে চলে আসার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করার চেষ্টা চলছে। তবে নিহত বা আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ন্যাটো সম্মেলনের আগের দিন কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


ন্যাটো সম্মেলনের আগের দিন কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ১১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় অন্তত ১১ জন মারা গেছেন এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এই হতাহতদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন, সোমবার (৬ জুলাই) বিবিসির প্রতিবেদনে এটির উল্লেখ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। হামলায় অন্তত দুটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে বহু বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পূর্বের দিন এই হামলার ঘটনা ঘটলো। তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক করার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, সর্বশেষ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি সতর্কতা প্রকাশ করে জানান, বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী হামলার পর মস্কো কিয়েভে একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছে। হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনি এও জানান, হামলায় বেশ কয়েকটি গুদামঘর ও একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ঝাপোরিঝঝিয়ায় দুটি রুশ গাইডেড বোমা আঘাত হানে। হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরো দুই পুলিশ সদস্য। এছাড়া, দুই শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।

আঞ্চলিক গভর্নর হামলার ঘটনায় জানান, আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত বাড়িঘর ও অন্তত ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকার দখলের দাবি করছে রাশিয়া। শহরটি বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য মস্কোর পক্ষ থেকে ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে, ইউক্রেন সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনের সীমান্তের পাশ দিয়ে ‘বাফার জোন’ নির্মাণ করা হচ্ছে। তার দাবি, খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের অংশজুড়ে এই পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে, রাশিয়ার এসব দাবি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কস্তিয়ানতিনিভকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক রাতের পাহাড় ধসে কক্সবাজারে নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


এক রাতের পাহাড় ধসে কক্সবাজারে নিহত ৯

টানা ভারী বর্ষণে একরাতের মধ্যে কক্সবাজারে ৮ রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এখনো চলমান ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছেন রোহিঙ্গারা। পাশাপাশি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে পাঠাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন।

কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প ১১, সি-১১ ব্লকে, রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল আব্দু রাজ্জাকের পরিবারের ৭ সদস্য। তখন ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল, এক পরিস্থিতে পাহাড়ের ঢালু ধসে গিয়ে ৫ জনই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। স্থানীয় রোহিঙ্গারা শোর-চিৎকার শুনে এসে দ্রুত মাটি খুঁড়ে ৫ জনকে উদ্ধার করেন, তবে একই পরিবারের ৪ জন মারা যান এবং জীবিত একজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর ছোট বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং হারুনুর রশিদ (৩) ও মোহাম্মদ রিহান (৫)।

নিহত উম্মে হাবিবার ভাই আমান উল্লাহ জানালেন, ‘রাতে আমাদের পরিবারের সাতজন সদস্য রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাত ১টার দিকে পাহাড়ধসে পুরো ঘর মাটিচাপা পড়ে যায়। ফলে আমি ও আমার আরেক ভাই কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেছি, কিন্তু পরিবারের বাকি পাঁচজন মাটির নিচে চাপা পড়েন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাটি খুঁড়ে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।’

এদিকে একই এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন আরও অনেক রোহিঙ্গা পরিবার। যদিও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের বার বার সরে যেতে বলছেন, কিন্তু অনেকেই তা শুনছেন না।

স্বেচ্ছাসেবক মো. সেলিম বলেন, ‘পাহাড়ের ঢালু ও পাদদেশে বসবাসকারী মানুষদের আমরা নিয়মিত সতর্ক করে থাকি। টানা ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বারবার অনুরোধ করেছি। বিশেষ করে ক্যাম্প-২০-এর আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ক্যাম্পের ভেতরে নিরাপদ স্থানে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের বসতিতে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনুরোধে কিছু মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও বেশিরভাগই তা গুরুত্ব দেননি। পরে রাতে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে ক্যাম্প-১১-তে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।’

অপরদিকে, উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতে ২টার দিকে ক্যাম্প ১৫ জামতলিতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য। ঘটনাস্থলে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিস ছুটে যায়। ধীরে ধীরে ৩ ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে ৫ জনকে উদ্ধার করলেও তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। অপর ২ জনকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪)।

এছাড়াও রাত দুইটার দিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প-৭, ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসের একটি ঘটনা ঘটে। ওই সময় মো. একরাম (৭) নামে এক শিশু মারা যান, যিনি ওই আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা রশিদ উল্লাহর ছেলে।

এ বিষয়ে উখিয়াস্থ ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের মাঝেও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারি রোহিঙ্গাদের অন্যত্রে চলে যেতে মাইকিংসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডলার ত্রিপুরা জানান, ‘প্রথমে আমরা ক্যাম্প-১৫-এ পাহাড়ধসের সংবাদ পাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। উদ্ধারকাজ চলাকালে ডিএমসি (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটি)-এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে জানতে পারি, ক্যাম্প-১১-তেও পাহাড়ধসের কারণে চারজন চাপা পড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘জানার পর আমি নিজেই ক্যাম্প-১১ এর ডিএমসি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং জানতে চাই সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা প্রয়োজন কি না। তারা জানায়, স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ফলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ক্যাম্প-১৫ এর উদ্ধার অভিযান শেষ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করি এবং পরে স্টেশনে ফিরে আসি।’

ডলার ত্রিপুরা জানান, ক্যাম্প-১৫-এ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং স্থানীয়রা আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। অর্থাৎ ওই ক্যাম্পে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসবে ক্যাম্প-১১-তে পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডিএমসি কমিটির সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করা হয়েছে। ক্যাম্পের মাঝি ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের ভূমিধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। তাছাড়া মাইকিংয়ের মাধ্যমে বারবার ঘোষণা দিয়ে অতিভারী বা টানা বৃষ্টিপাতের সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণকে সচেতন করার এই কার্যক্রম আগে থেকেই চলমান ছিল এবং এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার শহরের সাত্তারঘোনা এলাকায় রাত ৩ টার দিকে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জন। পরে স্থানীয়রা মা ও ছেলেকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও বাবা আলী আকবর (৫০) মারা যান। তাঁর মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে চলছে পরিবারের স্বজনদের আহাজারি।

নিহতের স্ত্রী জোৎস্না বলেন, ‘রাতে আমরা স্বামী, ছেলে ও আমি একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে খাটে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গভীর রাতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ঘরের ওপর পড়ে, মুহূর্তেই আমরা মাটির নিচে চাপা পড়ে যাই।’

তিনি বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে আমি ও আমার ছেলে কোনোমতে বের হয়ে আসতে পারলেও আমার স্বামী মাটির নিচে আটকা পড়ে যান। তিনি বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন মাটি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করেন, কিন্তু ততক্ষণে তিনি মারা গিয়েছিলেন।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এখনো নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, রোববার বেলা ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনভূমি উজাড় করে তাতে ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখ। এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ রোহিঙ্গা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মৃত্যু ঘটে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম, আজই জ্ঞান ফিরেছে: নারী ক্রিকেটার ইশমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম, আজই জ্ঞান ফিরেছে: নারী ক্রিকেটার ইশমা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ইশমা তানজিম জানিয়েছেন, ক্যাম্পে জায়গা না পাওয়ার কারণে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করছেন, অন্যায়ভাবে তাকে ক্যাম্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইশমা বলেছেন, ফিট থাকা সত্ত্বেও ইনজুরির অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায়, হাসপাতালে থেকে তিনি মুঠোফোনে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোশাররফ হোসাইন।

মোশারফ হোসাইন: আপনি হাসপাতালে ভর্তি, কী ধরনের অসুস্থতা?

ইশমা তানজিম: আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। জানি না, আমার পরিবার কীভাবে বুঝেছে। আমি এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছি। শুক্রবারের ঘটনা। আমি ৩ দিন আইসিইউতে ছিলাম। আজই জ্ঞান ফিরেছে। এটা মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়া নিয়ে। ছেলেরা মেয়ের জন্য মরে, মেয়েরা ছেলের জন্য। ভালোবাসায় মরে। আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসে মরতে গিয়েছিলাম। আর নিতেই পারছিলাম না। যখনই আমি দেখেছি ২১ জনের মধ্যে আমি নেই, তখনই এই সিদ্ধান্তটা নিই।

মোশারফ হোসাইন: কী কারণে আপনি দল থেকে বাদ পড়েছেন?

ইশমা তানজিম: আমাকে প্রথমে বলা হয়েছে ইনজুরি। কিন্তু আমি তো ফিট। আমার ইনজুরি ছিল, শেষ সপ্তাহ চলে গেছে। তবে কোচ ও ট্রেনার আমাকে বারবার বলেছেন, ফিজিও থেকে আমার নামে মেইল আসেনি। আমি ফিজিও ম্যামকে (সুরাইয়া আক্তার) নক করেছি। তিনি ইংল্যান্ডে হয়তো ব্যস্ত ছিলেন, যে কারণে সম্ভবত ইমেইল করতে পারেননি। আমাকে যে কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা ধারণা করেছেন আমি এখনো শতভাগ ফিট হতে পারিনি।

সত্যি কথা বলতে, আমি এই ট্যুরে সুযোগ না পাই বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা নয়, এর আগেও আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি। আমার সঙ্গে সবচেয়ে বড় অন্যায় হয়েছিল ২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময়। তার আগে বিসিএলে টুর্নামেন্টসের সেরা খেলোয়াড় হয়েও আমি দলে সুযোগ পাইনি। পারফর্ম করেও যদি দলে সুযোগ না পাই, তাহলে আমি কেন খেলব?

মোশারফ হোসাইন: কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ? আপনার সঙ্গে অন্যায় করছেন কে বা কারা?

ইশমা তানজিম: আমি যদি অনেক বড় খেলোয়াড় হতাম, তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারতাম। আমি এত কিছু জানি না, আমার সঙ্গে অন্যায় কে করছে, কেন করছে, কিসের ভিত্তিতে করছে, কী কারণে করছে। আমি চাই, আমার মতো অন্যায় যেন কারও সঙ্গে না হয়।

মোশারফ হোসাইন: যাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ, তারা দল থেকে বাদ দেয়ার জন্য আপনাকে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন?

ইশমা তানজিম: প্রধান কোচ আমাকে বলেছেন, ট্রেনার বলছেন আমি নাকি পরবর্তী ক্যাম্পের জন্য ফিট হব না। আমি ট্রেনারকে ফোন দিয়েছি, তিনি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। আমি তো আরও বলেছি, তুমি ইমপ্রুভ করছ।’ কেন এ কথা এসেছে, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এটা মনে হয় ফিজিও করেছে।

আমি আবার ফিজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ফিজিও ম্যাম বললেন, ‘তুমি তো সব দিক থেকেই ইমপ্রুভ করছ। এটা মনে হয় ট্রেনার করেছে।’ পরে ফিজিও ম্যাডামকে বললাম, আপনাদের এসবের কারণে আমি সাফার করছি। এরপর আমি নির্বাচক সালমা আপুকে কল দিয়েছি। উনি বলছেন, ‘তুই এখন হচ্ছিস জাতীয় দলে খেলার মতো ক্রিকেটার, তুই কিন্তু খেলায় মনোযোগী না।’

আমি একটা দোষই বোধহয় করেছি—ধানমন্ডিতে জন্ম নেওয়া। এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো রাত নেই, আমি ধানমন্ডির খোঁটা খাইনি। বার্গার খাওয়ার খোঁটা খাইনি। আমি তো পারফর্ম করেই জাতীয় দলে খেলেছি, সেখানে গিয়েও একই খোঁটা শুনেছি। আমি তো রান করেই খেলছি। আমি যদি বার্গারই খাই, আমি কি রান করতে পারতাম?

দলের ম্যানেজার ফাইয়াজ ভাইয়া (এস এম গোলাম ফাইয়াজ), উনি এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো মুহূর্ত নেই—সবসময় একটাই দোষ ধরতেন, ধানমন্ডি আর বার্গার। আমার ব্যাটিংয়ের কেউ ভুল ধরে না। কেউ বলে না, তোর ব্যাটিংয়ের ড্রাইভ ঠিক কর। শুধু আমাকে একটাই কথা বলা হয়।

এসব কেন বলে জানেন? কারণ আমি সবাইকে দেখলে ১০ বার সালাম দিই না। আমার কি দিনে প্রতিবারই সালাম দিতে হবে? একবার সালাম কি যথেষ্ট না?

আমার সঙ্গে পুরোপুরি র‍্যাগিং হয়েছে। উৎসাহ আমি কখনো পাইনি। আমাকে সবসময় দলে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

মোশারফ হোসাইন: ক্রিকেট কি ছেড়ে দিচ্ছেন?

ইশমা তানজিম: হ্যাঁ। আমি কেন ক্রিকেট খেলব? কারণ দেখান।

দ্রষ্টব্য: সাক্ষাৎকারটি দেয়ার পর রোববার রাতেই ইশমা তানজিম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে বাসায় ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি বাসাতেই আছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%