০১:৫৪ পি.এম
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় অন্তত ১১ জন মারা গেছেন এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এই হতাহতদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন, সোমবার (৬ জুলাই) বিবিসির প্রতিবেদনে এটির উল্লেখ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। হামলায় অন্তত দুটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে বহু বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পূর্বের দিন এই হামলার ঘটনা ঘটলো। তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, সর্বশেষ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি সতর্কতা প্রকাশ করে জানান, বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী হামলার পর মস্কো কিয়েভে একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছে। হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনি এও জানান, হামলায় বেশ কয়েকটি গুদামঘর ও একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ঝাপোরিঝঝিয়ায় দুটি রুশ গাইডেড বোমা আঘাত হানে। হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরো দুই পুলিশ সদস্য। এছাড়া, দুই শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
আঞ্চলিক গভর্নর হামলার ঘটনায় জানান, আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত বাড়িঘর ও অন্তত ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকার দখলের দাবি করছে রাশিয়া। শহরটি বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য মস্কোর পক্ষ থেকে ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে, ইউক্রেন সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনের সীমান্তের পাশ দিয়ে ‘বাফার জোন’ নির্মাণ করা হচ্ছে। তার দাবি, খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের অংশজুড়ে এই পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তবে, রাশিয়ার এসব দাবি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কস্তিয়ানতিনিভকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন