প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ইশমা তানজিম জানিয়েছেন, ক্যাম্পে জায়গা না পাওয়ার কারণে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করছেন, অন্যায়ভাবে তাকে ক্যাম্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইশমা বলেছেন, ফিট থাকা সত্ত্বেও ইনজুরির অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায়, হাসপাতালে থেকে তিনি মুঠোফোনে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোশাররফ হোসাইন।
মোশারফ হোসাইন: আপনি হাসপাতালে ভর্তি, কী ধরনের অসুস্থতা?
ইশমা তানজিম: আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। জানি না, আমার পরিবার কীভাবে বুঝেছে। আমি এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছি। শুক্রবারের ঘটনা। আমি ৩ দিন আইসিইউতে ছিলাম। আজই জ্ঞান ফিরেছে। এটা মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়া নিয়ে। ছেলেরা মেয়ের জন্য মরে, মেয়েরা ছেলের জন্য। ভালোবাসায় মরে। আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসে মরতে গিয়েছিলাম। আর নিতেই পারছিলাম না। যখনই আমি দেখেছি ২১ জনের মধ্যে আমি নেই, তখনই এই সিদ্ধান্তটা নিই।
মোশারফ হোসাইন: কী কারণে আপনি দল থেকে বাদ পড়েছেন?
ইশমা তানজিম: আমাকে প্রথমে বলা হয়েছে ইনজুরি। কিন্তু আমি তো ফিট। আমার ইনজুরি ছিল, শেষ সপ্তাহ চলে গেছে। তবে কোচ ও ট্রেনার আমাকে বারবার বলেছেন, ফিজিও থেকে আমার নামে মেইল আসেনি। আমি ফিজিও ম্যামকে (সুরাইয়া আক্তার) নক করেছি। তিনি ইংল্যান্ডে হয়তো ব্যস্ত ছিলেন, যে কারণে সম্ভবত ইমেইল করতে পারেননি। আমাকে যে কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা ধারণা করেছেন আমি এখনো শতভাগ ফিট হতে পারিনি।
সত্যি কথা বলতে, আমি এই ট্যুরে সুযোগ না পাই বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা নয়, এর আগেও আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি। আমার সঙ্গে সবচেয়ে বড় অন্যায় হয়েছিল ২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময়। তার আগে বিসিএলে টুর্নামেন্টসের সেরা খেলোয়াড় হয়েও আমি দলে সুযোগ পাইনি। পারফর্ম করেও যদি দলে সুযোগ না পাই, তাহলে আমি কেন খেলব?
মোশারফ হোসাইন: কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ? আপনার সঙ্গে অন্যায় করছেন কে বা কারা?
ইশমা তানজিম: আমি যদি অনেক বড় খেলোয়াড় হতাম, তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারতাম। আমি এত কিছু জানি না, আমার সঙ্গে অন্যায় কে করছে, কেন করছে, কিসের ভিত্তিতে করছে, কী কারণে করছে। আমি চাই, আমার মতো অন্যায় যেন কারও সঙ্গে না হয়।
মোশারফ হোসাইন: যাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ, তারা দল থেকে বাদ দেয়ার জন্য আপনাকে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন?
ইশমা তানজিম: প্রধান কোচ আমাকে বলেছেন, ট্রেনার বলছেন আমি নাকি পরবর্তী ক্যাম্পের জন্য ফিট হব না। আমি ট্রেনারকে ফোন দিয়েছি, তিনি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। আমি তো আরও বলেছি, তুমি ইমপ্রুভ করছ।’ কেন এ কথা এসেছে, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এটা মনে হয় ফিজিও করেছে।
আমি আবার ফিজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ফিজিও ম্যাম বললেন, ‘তুমি তো সব দিক থেকেই ইমপ্রুভ করছ। এটা মনে হয় ট্রেনার করেছে।’ পরে ফিজিও ম্যাডামকে বললাম, আপনাদের এসবের কারণে আমি সাফার করছি। এরপর আমি নির্বাচক সালমা আপুকে কল দিয়েছি। উনি বলছেন, ‘তুই এখন হচ্ছিস জাতীয় দলে খেলার মতো ক্রিকেটার, তুই কিন্তু খেলায় মনোযোগী না।’
আমি একটা দোষই বোধহয় করেছি—ধানমন্ডিতে জন্ম নেওয়া। এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো রাত নেই, আমি ধানমন্ডির খোঁটা খাইনি। বার্গার খাওয়ার খোঁটা খাইনি। আমি তো পারফর্ম করেই জাতীয় দলে খেলেছি, সেখানে গিয়েও একই খোঁটা শুনেছি। আমি তো রান করেই খেলছি। আমি যদি বার্গারই খাই, আমি কি রান করতে পারতাম?
দলের ম্যানেজার ফাইয়াজ ভাইয়া (এস এম গোলাম ফাইয়াজ), উনি এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো মুহূর্ত নেই—সবসময় একটাই দোষ ধরতেন, ধানমন্ডি আর বার্গার। আমার ব্যাটিংয়ের কেউ ভুল ধরে না। কেউ বলে না, তোর ব্যাটিংয়ের ড্রাইভ ঠিক কর। শুধু আমাকে একটাই কথা বলা হয়।
এসব কেন বলে জানেন? কারণ আমি সবাইকে দেখলে ১০ বার সালাম দিই না। আমার কি দিনে প্রতিবারই সালাম দিতে হবে? একবার সালাম কি যথেষ্ট না?
আমার সঙ্গে পুরোপুরি র্যাগিং হয়েছে। উৎসাহ আমি কখনো পাইনি। আমাকে সবসময় দলে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
মোশারফ হোসাইন: ক্রিকেট কি ছেড়ে দিচ্ছেন?
ইশমা তানজিম: হ্যাঁ। আমি কেন ক্রিকেট খেলব? কারণ দেখান।
দ্রষ্টব্য: সাক্ষাৎকারটি দেয়ার পর রোববার রাতেই ইশমা তানজিম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে বাসায় ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি বাসাতেই আছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন