ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এক রাতের পাহাড় ধসে কক্সবাজারে নিহত ৯


এক রাতের পাহাড় ধসে কক্সবাজারে নিহত ৯

টানা ভারী বর্ষণে একরাতের মধ্যে কক্সবাজারে ৮ রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এখনো চলমান ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছেন রোহিঙ্গারা। পাশাপাশি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে পাঠাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন।

কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প ১১, সি-১১ ব্লকে, রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল আব্দু রাজ্জাকের পরিবারের ৭ সদস্য। তখন ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল, এক পরিস্থিতে পাহাড়ের ঢালু ধসে গিয়ে ৫ জনই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। স্থানীয় রোহিঙ্গারা শোর-চিৎকার শুনে এসে দ্রুত মাটি খুঁড়ে ৫ জনকে উদ্ধার করেন, তবে একই পরিবারের ৪ জন মারা যান এবং জীবিত একজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর ছোট বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং হারুনুর রশিদ (৩) ও মোহাম্মদ রিহান (৫)।

নিহত উম্মে হাবিবার ভাই আমান উল্লাহ জানালেন, ‘রাতে আমাদের পরিবারের সাতজন সদস্য রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাত ১টার দিকে পাহাড়ধসে পুরো ঘর মাটিচাপা পড়ে যায়। ফলে আমি ও আমার আরেক ভাই কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেছি, কিন্তু পরিবারের বাকি পাঁচজন মাটির নিচে চাপা পড়েন।’

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

তিনি বলেন, ‘আমাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাটি খুঁড়ে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।’

এদিকে একই এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন আরও অনেক রোহিঙ্গা পরিবার। যদিও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের বার বার সরে যেতে বলছেন, কিন্তু অনেকেই তা শুনছেন না।

স্বেচ্ছাসেবক মো. সেলিম বলেন, ‘পাহাড়ের ঢালু ও পাদদেশে বসবাসকারী মানুষদের আমরা নিয়মিত সতর্ক করে থাকি। টানা ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বারবার অনুরোধ করেছি। বিশেষ করে ক্যাম্প-২০-এর আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ক্যাম্পের ভেতরে নিরাপদ স্থানে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের বসতিতে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনুরোধে কিছু মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও বেশিরভাগই তা গুরুত্ব দেননি। পরে রাতে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে ক্যাম্প-১১-তে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।’

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

অপরদিকে, উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতে ২টার দিকে ক্যাম্প ১৫ জামতলিতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৫ সদস্য। ঘটনাস্থলে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিস ছুটে যায়। ধীরে ধীরে ৩ ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে ৫ জনকে উদ্ধার করলেও তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। অপর ২ জনকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪)।

এছাড়াও রাত দুইটার দিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প-৭, ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসের একটি ঘটনা ঘটে। ওই সময় মো. একরাম (৭) নামে এক শিশু মারা যান, যিনি ওই আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা রশিদ উল্লাহর ছেলে।

এ বিষয়ে উখিয়াস্থ ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের মাঝেও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারি রোহিঙ্গাদের অন্যত্রে চলে যেতে মাইকিংসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডলার ত্রিপুরা জানান, ‘প্রথমে আমরা ক্যাম্প-১৫-এ পাহাড়ধসের সংবাদ পাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। উদ্ধারকাজ চলাকালে ডিএমসি (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটি)-এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে জানতে পারি, ক্যাম্প-১১-তেও পাহাড়ধসের কারণে চারজন চাপা পড়েছেন।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

তিনি বলেন, ‘জানার পর আমি নিজেই ক্যাম্প-১১ এর ডিএমসি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং জানতে চাই সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা প্রয়োজন কি না। তারা জানায়, স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ফলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ক্যাম্প-১৫ এর উদ্ধার অভিযান শেষ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করি এবং পরে স্টেশনে ফিরে আসি।’

ডলার ত্রিপুরা জানান, ক্যাম্প-১৫-এ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং স্থানীয়রা আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। অর্থাৎ ওই ক্যাম্পে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসবে ক্যাম্প-১১-তে পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডিএমসি কমিটির সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করা হয়েছে। ক্যাম্পের মাঝি ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের ভূমিধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। তাছাড়া মাইকিংয়ের মাধ্যমে বারবার ঘোষণা দিয়ে অতিভারী বা টানা বৃষ্টিপাতের সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণকে সচেতন করার এই কার্যক্রম আগে থেকেই চলমান ছিল এবং এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার শহরের সাত্তারঘোনা এলাকায় রাত ৩ টার দিকে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জন। পরে স্থানীয়রা মা ও ছেলেকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও বাবা আলী আকবর (৫০) মারা যান। তাঁর মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে চলছে পরিবারের স্বজনদের আহাজারি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

নিহতের স্ত্রী জোৎস্না বলেন, ‘রাতে আমরা স্বামী, ছেলে ও আমি একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে খাটে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গভীর রাতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ঘরের ওপর পড়ে, মুহূর্তেই আমরা মাটির নিচে চাপা পড়ে যাই।’

তিনি বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে আমি ও আমার ছেলে কোনোমতে বের হয়ে আসতে পারলেও আমার স্বামী মাটির নিচে আটকা পড়ে যান। তিনি বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন মাটি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করেন, কিন্তু ততক্ষণে তিনি মারা গিয়েছিলেন।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এখনো নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, রোববার বেলা ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনভূমি উজাড় করে তাতে ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখ। এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ রোহিঙ্গা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মৃত্যু ঘটে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম, আজই জ্ঞান ফিরেছে: নারী ক্রিকেটার ইশমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম, আজই জ্ঞান ফিরেছে: নারী ক্রিকেটার ইশমা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ইশমা তানজিম জানিয়েছেন, ক্যাম্পে জায়গা না পাওয়ার কারণে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করছেন, অন্যায়ভাবে তাকে ক্যাম্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইশমা বলেছেন, ফিট থাকা সত্ত্বেও ইনজুরির অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায়, হাসপাতালে থেকে তিনি মুঠোফোনে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোশাররফ হোসাইন।

মোশারফ হোসাইন: আপনি হাসপাতালে ভর্তি, কী ধরনের অসুস্থতা?

ইশমা তানজিম: আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। জানি না, আমার পরিবার কীভাবে বুঝেছে। আমি এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছি। শুক্রবারের ঘটনা। আমি ৩ দিন আইসিইউতে ছিলাম। আজই জ্ঞান ফিরেছে। এটা মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়া নিয়ে। ছেলেরা মেয়ের জন্য মরে, মেয়েরা ছেলের জন্য। ভালোবাসায় মরে। আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসে মরতে গিয়েছিলাম। আর নিতেই পারছিলাম না। যখনই আমি দেখেছি ২১ জনের মধ্যে আমি নেই, তখনই এই সিদ্ধান্তটা নিই।

মোশারফ হোসাইন: কী কারণে আপনি দল থেকে বাদ পড়েছেন?

ইশমা তানজিম: আমাকে প্রথমে বলা হয়েছে ইনজুরি। কিন্তু আমি তো ফিট। আমার ইনজুরি ছিল, শেষ সপ্তাহ চলে গেছে। তবে কোচ ও ট্রেনার আমাকে বারবার বলেছেন, ফিজিও থেকে আমার নামে মেইল আসেনি। আমি ফিজিও ম্যামকে (সুরাইয়া আক্তার) নক করেছি। তিনি ইংল্যান্ডে হয়তো ব্যস্ত ছিলেন, যে কারণে সম্ভবত ইমেইল করতে পারেননি। আমাকে যে কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা ধারণা করেছেন আমি এখনো শতভাগ ফিট হতে পারিনি।

সত্যি কথা বলতে, আমি এই ট্যুরে সুযোগ না পাই বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা নয়, এর আগেও আমি অন্যায়ের শিকার হয়েছি। আমার সঙ্গে সবচেয়ে বড় অন্যায় হয়েছিল ২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময়। তার আগে বিসিএলে টুর্নামেন্টসের সেরা খেলোয়াড় হয়েও আমি দলে সুযোগ পাইনি। পারফর্ম করেও যদি দলে সুযোগ না পাই, তাহলে আমি কেন খেলব?

মোশারফ হোসাইন: কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ? আপনার সঙ্গে অন্যায় করছেন কে বা কারা?

ইশমা তানজিম: আমি যদি অনেক বড় খেলোয়াড় হতাম, তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারতাম। আমি এত কিছু জানি না, আমার সঙ্গে অন্যায় কে করছে, কেন করছে, কিসের ভিত্তিতে করছে, কী কারণে করছে। আমি চাই, আমার মতো অন্যায় যেন কারও সঙ্গে না হয়।

মোশারফ হোসাইন: যাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ, তারা দল থেকে বাদ দেয়ার জন্য আপনাকে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন?

ইশমা তানজিম: প্রধান কোচ আমাকে বলেছেন, ট্রেনার বলছেন আমি নাকি পরবর্তী ক্যাম্পের জন্য ফিট হব না। আমি ট্রেনারকে ফোন দিয়েছি, তিনি অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। আমি তো আরও বলেছি, তুমি ইমপ্রুভ করছ।’ কেন এ কথা এসেছে, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এটা মনে হয় ফিজিও করেছে।

আমি আবার ফিজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ফিজিও ম্যাম বললেন, ‘তুমি তো সব দিক থেকেই ইমপ্রুভ করছ। এটা মনে হয় ট্রেনার করেছে।’ পরে ফিজিও ম্যাডামকে বললাম, আপনাদের এসবের কারণে আমি সাফার করছি। এরপর আমি নির্বাচক সালমা আপুকে কল দিয়েছি। উনি বলছেন, ‘তুই এখন হচ্ছিস জাতীয় দলে খেলার মতো ক্রিকেটার, তুই কিন্তু খেলায় মনোযোগী না।’

আমি একটা দোষই বোধহয় করেছি—ধানমন্ডিতে জন্ম নেওয়া। এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো রাত নেই, আমি ধানমন্ডির খোঁটা খাইনি। বার্গার খাওয়ার খোঁটা খাইনি। আমি তো পারফর্ম করেই জাতীয় দলে খেলেছি, সেখানে গিয়েও একই খোঁটা শুনেছি। আমি তো রান করেই খেলছি। আমি যদি বার্গারই খাই, আমি কি রান করতে পারতাম?

দলের ম্যানেজার ফাইয়াজ ভাইয়া (এস এম গোলাম ফাইয়াজ), উনি এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো মুহূর্ত নেই—সবসময় একটাই দোষ ধরতেন, ধানমন্ডি আর বার্গার। আমার ব্যাটিংয়ের কেউ ভুল ধরে না। কেউ বলে না, তোর ব্যাটিংয়ের ড্রাইভ ঠিক কর। শুধু আমাকে একটাই কথা বলা হয়।

এসব কেন বলে জানেন? কারণ আমি সবাইকে দেখলে ১০ বার সালাম দিই না। আমার কি দিনে প্রতিবারই সালাম দিতে হবে? একবার সালাম কি যথেষ্ট না?

আমার সঙ্গে পুরোপুরি র‍্যাগিং হয়েছে। উৎসাহ আমি কখনো পাইনি। আমাকে সবসময় দলে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

মোশারফ হোসাইন: ক্রিকেট কি ছেড়ে দিচ্ছেন?

ইশমা তানজিম: হ্যাঁ। আমি কেন ক্রিকেট খেলব? কারণ দেখান।

দ্রষ্টব্য: সাক্ষাৎকারটি দেয়ার পর রোববার রাতেই ইশমা তানজিম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে বাসায় ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি বাসাতেই আছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাশহাদকে পবিত্র নগরী কেন বলা হয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


মাশহাদকে পবিত্র নগরী কেন বলা হয়?

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে। এই শহরটি পবিত্র শহর হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে মাশহাদ শুধুমাত্র ইরান নয়, বরং বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবেও পরিচিত। আসুন, জানা যাক মাশহাদকে কেন পবিত্র নগরী বলা হয় এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ।

মাশহাদ হলো ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এটি রাযাভি খোরাসান প্রদেশের রাজধানী। এখানে চার মিলিয়নেরও বেশি মানুষের বসবাস। এই শহরটি শুধুমাত্র একটি বৃহত নগরী নয়, বরং এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। প্রতিবছর পৃথিবীর নানা দেশ থেকে লাখ লাখ তীর্থযাত্রী এখানে আগমন করেন।

মাশহাদের নামের অর্থ হলো ‘শহীদের স্থান’। এই শহরটি বিশেষভাবে পরিচিত কারণ এখানে শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজা -এর মাজার বিদ্যমান। ইমাম রেজা পবিত্র ভবনের মধ্যে এভাবেই অবস্থিত বিখ্যাত গোহারশাদ মসজিদ, গ্রন্থাগার, জাদুঘর এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সম্মানিত ইসলামি ধর্মীয় স্থান বলেই বিবেচিত।

ঐতিহাসিকভাবে মাশহাদ ছিল প্রাচীন সিল্ক রোড-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে বাণিজ্য, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির বিকাশে শহরের বিশেষ অবদান রয়েছে। উপরন্তু, কাজার আমলের দারুঘেহ হাউস ঐতিহ্যবাহী পার্সিয়ান স্থাপত্যের একটি অভূতপূর্ব নিদর্শন, যা বর্তমানে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

লিখন ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও মাশহাদের গুরুত্ব অমূল্য। এই শহরের পাশেই অবস্থিত তুস, যেখানে সমাধিস্থ আছেন বিখ্যাত পার্সিয়ান কবি ফিরদৌসি, যিনি মহাকাব্য শাহনামা রচনা করেছিলেন। তাছাড়া ফিরদৌসি ইউনিভার্সিটি অব মাশহাদ ইরানের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও মাশহাদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পর্যটন, কৃষি, বাণিজ্য ও উৎপাদনশিল্প শহরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এখানকার রেজা বাজার বিশেষভাবে বিখ্যাত জাফরান, কার্পেট, ফিরোজা পাথর এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্মারক বিক্রির জন্য।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে মাশহাদ একটি আকর্ষণীয় স্থান। তোরকাবে ও শানদিজ অঞ্চলের কাং গ্রাম, ভাকিলাবাদ পার্ক এবং কুহ সাঙ্গি পার্ক পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় নাম।

মাশহাদের খাবারের কথা উল্লেখ না করা চলবে না। এখানকার বিখ্যাত খাবার শোলে মাশহাদি, যা মাংস, ডাল ও মসলা দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করা হয়। তাছাড়াও এখানকার উন্নতমানের জাফরান, নোগল এবং সোহান মিষ্টিও খুবই জনপ্রিয়। সবমিলিয়ে, মাশহাদ এমন একটি শহর যেখানে ধর্মীয় গুরুত্ব, সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। তাই এটি শুধুমাত্র ইরানের নয়, বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী শহর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে হানিট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


রাজধানীতে হানিট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের টার্গেট করে বাসায় ডেকে নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের দক্ষিণের উপপুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কখনো সরাসরি আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে বারণ করা হয় এবং সেখানে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং করে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তাদের টার্গেট মূলত মধ্য বয়স্ক ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবী।

তরিকুল ইসলাম জানান, গত ১৫ এপ্রিল এক নারীর সাথে বেসরকারি আর্থিক ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার পরিচয় ঘটে রাজধানীর রামপুরা এলাকায়। নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা বাসায় আমন্ত্রণ পান। এ সময় জোর করে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা হানিট্রাপ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

তিনি জানান, এই চক্রটি দীর্ঘকাল ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল। চক্রটির টার্গেট ছিল মধ্য বয়স্ক ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইলিং করার তথ্য পাওয়া গেছে।

এই ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য পুলিশের এই কর্মকর্তা সর্তক থাকার পরামর্শ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


৫ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার আসমা আক্তার (৫) নামের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার জেঠাতো ভাই শাহাদাত হোসেন (২৬) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সম্প্রতি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাদাত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুর জেঠাতো ভাই।

নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী নিশ্চিত করেন, রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পরে ৬ জুলাই রায় ঘোষণা করার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের কন্যা। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের পুত্র এবং নিহত শিশুটির চাচাত ভাই।

২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে, পাঁচ বছরের শিশু আসমা হঠাৎ করে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরে শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালীন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দেন আসামি শাহাদাত। তিনি স্বীকার করেন যে ঘটনার দিন দুপুরে তিনি শিশু আসমাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি অতি নিষ্ঠুরভাবে ওই অবুঝ শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে আলামত গোপন করার জন্য মরদেহটি তিনি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানাজানি হলে নোয়াখালীজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আসমা হত্যার দ্রুত বিচার এবং আসামির ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ নেয় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%