ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ডিএমটিসিএল


মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ডিএমটিসিএল

রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার অধীনে স্টেশনে প্রবেশের পূর্বে যাত্রীদের শরীরে ধাতব বস্তু শনাক্ত করার জন্য আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং ব্যাগ ও মালামাল পরীক্ষা করার জন্য লাগেজ স্ক্যানার ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ডাকাতির চেষ্টা, ৩৪ মামলার আসামি গ্রেফতার

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য গত ১৯ অক্টোবর অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই দরপত্র আহ্বান করেন।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা ই-জিপি পোর্টালে পাওয়া যাবে।

নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হলে মেট্রোরেল স্টেশনে প্রবেশের সময় যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল স্ক্যান করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শরীরে বহন করা ধাতব বস্তু শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে নিরাপত্তা তল্লাশির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, মোট মৃত ১,২২৭

তবে, কতটি নিরাপত্তা যন্ত্র কেনা হবে, প্রথম পর্যায়ে কোন কোন স্টেশনে এসব সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে এবং কবে থেকে যাত্রীদের নিয়মিত তল্লাশি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।

এদিকে, একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপোতে স্থাপিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আওতায় লো-ভোল্টেজ (এলভি) ব্যবস্থা, ডিজেল জেনারেটর সেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা (ইউপিএস), বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদ্যুতিক কাজের রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্রের নথি কেনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাসের শেষের আগেই পকেট খালি, সংসার চালাতে ঋণে ডুবছেন চাকরিজীবীরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ার শীর্ষ ১০ বৃহত্তম সেনাবাহিনী: চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়া শীর্ষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


এশিয়ার শীর্ষ ১০ বৃহত্তম সেনাবাহিনী: চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়া শীর্ষে

জনসংখ্যা, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এশিয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে কিছু গড়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার দিক থেকে এশিয়ায় প্রথম স্থানে রয়েছে চীন, ভারত এবং উত্তর কোরিয়া। এই তিনটি দেশের প্রত্যেকটির সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা ১০ লাখের বেশি রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীনের সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজারের মতো। পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) সদস্যসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ভারত রয়েছে। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। সক্রিয় সদস্যসংখ্যার দিক থেকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক শক্তি।

উত্তর কোরিয়া তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার। জনসংখ্যার তুলনায় সামরিক বাহিনীর আকার যথেষ্ট বড়। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এশিয়ায় সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যায় শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা নিম্নরূপ:

চীন: প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজার।

ভারত: প্রায় ১৪ লাখ ৩১ হাজার।

উত্তর কোরিয়া: প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার।

পাকিস্তান: প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার।

ইরান: প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার।

ভিয়েতনাম: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার।

দক্ষিণ কোরিয়া: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার।

ইন্দোনেশিয়া: প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার।

থাইল্যান্ড: প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার।

শ্রীলঙ্কা: প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার।

পাকিস্তান এবং ইরানের বিশাল সামরিক বাহিনী দেশ দুটির নিরাপত্তা দায়িত্ব এবং ভূরাজনৈতিক চাপের প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় সমান। কোরীয় উপদ্বীপের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভিয়েতনামও জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে একটি বড় সামরিক বাহিনী বজায় রেখেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী অন্যতম বৃহৎ। দেশটির বিস্তৃত দ্বীপপুঞ্জ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব।

সদস্যসংখ্যাই সামরিক শক্তির একমাত্র মাপকাঠি নয়।

এশিয়ার দেশগুলোর সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপকতা তুলে ধরে। তবে শুধুমাত্র সেনাসদস্যের সংখ্যা দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক সামরিক শক্তি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জাম, প্রতিরক্ষা বাজেট, রিজার্ভ বাহিনী, রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত সক্ষমতাও সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই এসব পরিসংখ্যানকে দেশগুলোর সক্রিয় সামরিক বাহিনীর আকারের তুলনা হিসেবে দেখা উচিত; সামগ্রিক সামরিক শক্তির চূড়ান্ত র‌্যাঙ্কিং হিসেবে নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের আশ্বাসে ব্ল্যাকমেইলিং, ঢাবি ছাত্রকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


বিয়ের আশ্বাসে ব্ল্যাকমেইলিং, ঢাবি ছাত্রকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সেই সম্পর্কের আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের জামিন আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করেছে। আদালত একইসঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিচারিক আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এর আগে, আসামি আপস-মীমাংসার কথা বলে জামিন নিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় প্রদান করে। গত ১২ অক্টোবর রায়টি প্রকাশিত হয়।

আসামির পক্ষে আদালতে আইনজীবী সজীব চন্দ্র বণিক উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, ভুক্তভোগীর পক্ষে আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ ছিলেন। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আসামি ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁর স্মোকিং জোনে ভুক্তভোগীকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সম্পর্ক বজায় রাখতে ভুক্তভোগীকে বাধ্য করেন আসামি।

পরবর্তী সময়ে, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে আবারও ভুক্তভোগী ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান। সেখানেও বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। বিয়ের কথা বললে তার পরিবার সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে হুমকি দেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শারীরিক সম্পর্কের আলামত পাওয়া গেলেও তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মেডিকেল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর নির্ধারণ করে।

তদন্ত শেষে পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার ষষ্ঠ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

যেভাবে জামিন পেয়েছিলেন আসামি, পরে বাতিল

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যুক্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে ১০ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ১০ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং আপস-মীমাংসার মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

তবে পরবর্তী শুনানিতে দেখা যায়, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে জামিন বহাল রাখার ভিত্তি না থাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাম-ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগ বাড়ছে, হাসপাতালগুলো চাপে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


হাম-ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগ বাড়ছে, হাসপাতালগুলো চাপে

হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণের বৃদ্ধির ফলে জনমনে উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালগুলো রোগীর চাপের কারণে হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গুর কারণে প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে হাম পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আলিফ নামের ৬ মাস বয়সী একটি শিশুর শরীরে নিউমোনিয়া, হাম এবং ডেঙ্গু বাসা বেঁধেছে। শিশুটির মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হচ্ছে না, বরং দিনমজুর বাবা মনির বন্ডে সই করে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চিকিৎসকরা হাম পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে পাচ্ছেন না। রোগী ও তাদের স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

অন্যদিকে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নতুন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাজমা লিকেজ। এর ফলে রক্তসঞ্চালন কমে যেতে পারে এবং রক্তচাপও দ্রুত নেমে যেতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর চলে যাওয়া সুস্থ হওয়ার লক্ষণ নয়। ডেঙ্গুর ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ জ্বর কমার সময়েই শুরু হয়। তীব্র পেটের ব্যথা, বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, রক্তপাত এবং শ্বাসকষ্ট বিপৎসংকেত হতে পারে।

এদিকে, হাম-ডেঙ্গু মোকাবেলায় চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি: আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জানিয়েছেন, গত দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আগে নিজেদের ঘর পরিস্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, পুলিশের যানবাহনের সংকট দূর করতে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ এবং এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

আইজিপি বলেন, "গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ অফিসারকে, পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি এই মাদকের কারণে। আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।"

তিনি আরও জানান, পুলিশ বাহিনীকে অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল এবং যারা বাহিনীকে দুর্বল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মানবিক ও বন্ধুসুলভ পুলিশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং জনগণের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনের চাহিদার তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার গাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া আট থেকে ২০ বছর বয়সী পুরোনো গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার জন্য নতুন একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যা গত সপ্তাহে অনুমোদন পেয়েছে।

আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে। তিনি বলেন, জনবলের ঘাটতি একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়, তাই প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনবলের সংকট কাটিয়ে পুলিশের লজিস্টিক সহায়তা আরও শক্তিশালী করা হবে।

আইজিপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মাদক, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা, প্রতি বছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বেকারত্ব মোকাবিলা, তরুণদের পুনর্বাসন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সকলকে কাজ করতে হবে।

আইজিপি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ দমন, সামাজিক সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে।

কিশোর গ্যাং নির্মূলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।

আইজিপি স্থানীয় মানুষের কাছে অপরাধের তথ্য অনেক সময় পুলিশের চেয়েও বেশি থাকে উল্লেখ করে বলেন, ইউনিয়নের কোন পাড়ায় কে মাদক সেবন করে, কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিংবা কোথায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে—এসব তথ্য স্থানীয় মানুষ অনেক সময় পুলিশের চেয়েও ভালো জানেন। তাই পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

আইজিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, "প্রতিটা জায়গায় ষড়যন্ত্র। আমি বুঝি, আমার বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এসেই বলেছে, প্ল্যান। এটার ভেতরে আপনারা ষড়যন্ত্র খুঁজেন কেন?"

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে চায়, তাদের সঙ্গে আঁতাতকারীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না।

সবশেষে, জনগণের সহযোগিতা কামনা করে আইজিপি বলেন, পুলিশকে শক্তিশালী করতে না পারলে কেউই দিন-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন না। জনগণের সার্বিক সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%