ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি: আইজিপি


দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জানিয়েছেন, গত দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আগে নিজেদের ঘর পরিস্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, পুলিশের যানবাহনের সংকট দূর করতে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ এবং এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

আইজিপি বলেন, "গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ অফিসারকে, পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি এই মাদকের কারণে। আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।"

আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিন দ্বীপ ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে, আরও যেসব সিদ্ধান্ত

তিনি আরও জানান, পুলিশ বাহিনীকে অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল এবং যারা বাহিনীকে দুর্বল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মানবিক ও বন্ধুসুলভ পুলিশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং জনগণের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনের চাহিদার তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার গাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া আট থেকে ২০ বছর বয়সী পুরোনো গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার জন্য নতুন একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যা গত সপ্তাহে অনুমোদন পেয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে অনেক বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে: স্পিকার

আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে। তিনি বলেন, জনবলের ঘাটতি একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়, তাই প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনবলের সংকট কাটিয়ে পুলিশের লজিস্টিক সহায়তা আরও শক্তিশালী করা হবে।

আইজিপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মাদক, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা, প্রতি বছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বেকারত্ব মোকাবিলা, তরুণদের পুনর্বাসন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সকলকে কাজ করতে হবে।

আইজিপি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ দমন, সামাজিক সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ডাকাতির চেষ্টা, ৩৪ মামলার আসামি গ্রেফতার

কিশোর গ্যাং নির্মূলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।

আইজিপি স্থানীয় মানুষের কাছে অপরাধের তথ্য অনেক সময় পুলিশের চেয়েও বেশি থাকে উল্লেখ করে বলেন, ইউনিয়নের কোন পাড়ায় কে মাদক সেবন করে, কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিংবা কোথায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে—এসব তথ্য স্থানীয় মানুষ অনেক সময় পুলিশের চেয়েও ভালো জানেন। তাই পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

আইজিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, "প্রতিটা জায়গায় ষড়যন্ত্র। আমি বুঝি, আমার বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এসেই বলেছে, প্ল্যান। এটার ভেতরে আপনারা ষড়যন্ত্র খুঁজেন কেন?"

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, মোট মৃত ১,২২৭

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে চায়, তাদের সঙ্গে আঁতাতকারীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না।

সবশেষে, জনগণের সহযোগিতা কামনা করে আইজিপি বলেন, পুলিশকে শক্তিশালী করতে না পারলে কেউই দিন-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন না। জনগণের সার্বিক সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল দুই মাস পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


নেপাল দুই মাস পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বন্যায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতির কারণে। প্রায় দুই মাস পর, নেপাল আবার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার ফলে ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন ছিল। বন্যার কারণে এই কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে ভারতের হরিয়ানায় বিদ্যুৎ রপ্তানিও আংশিকভাবে ব্যাহত হয়।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিকল্প জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের অনুমোদন দেওয়ার পর রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় সোলু খোলা ও কাবেলি বি১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের হরিয়ানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদন পেয়েছে লোয়ার মোদি খোলা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।

আগে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ত্রিশূলী ও চিলিমে এবং হরিয়ানায় সরবরাহের জন্য দেবীঘাট জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন ছিল।

শ্রেষ্ঠা বলেন, "বন্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বিকল্প প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশে সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়া নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।" বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কাজে লাগানো এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণেও এটি সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে মৌসুমি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে দৈনিক ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে নেপাল।

নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস—জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে—বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে নেপালের মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ কোটি ১৩ লাখ নেপালি রুপি। বন্যায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও রপ্তানি আয় বেড়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ভারতে রপ্তানি করা বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিক্রি হয়েছে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায়। বাকি বিদ্যুৎ বিক্রি হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাসের শেষের আগেই পকেট খালি, সংসার চালাতে ঋণে ডুবছেন চাকরিজীবীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


মাসের শেষের আগেই পকেট খালি, সংসার চালাতে ঋণে ডুবছেন চাকরিজীবীরা

মাসের বেতন হাতে আসার পরপরই সংসারের হিসাব শুরু হয়ে যায়। বাসাভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ বিল এবং কিস্তি পরিশোধ করতে করতেই আয়ের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে যায়। মাসের ২৫ তারিখ পার হওয়ার আগেই অনেকের পকেট খালি হয়ে যায়। বাকি দিনগুলো চালাতে কেউ সঞ্চয় ভাঙছেন, আবার কেউ ঋণ নিচ্ছেন। পরের মাসে বেতন পেয়ে ঋণ শোধ করতে গিয়ে নতুন করে তৈরি হচ্ছে টাকার সংকট। এভাবেই জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপের কারণে ঋণের চক্রে আটকে পড়ছেন অনেক চাকরিজীবী।

আনাস আহমেদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার মাসিক বেতন ৫৪ হাজার টাকা। পরিবারের সঙ্গে থাকলেও তাকে মাসে ২০ হাজার টাকা বাসাভাড়া দিতে হয়। গ্যাসের সিলিন্ডার, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাবদ খরচ হয় আরও ৫ হাজার টাকা। ছয় মাস আগে কেনা মুঠোফোনের কিস্তি দিতে হয় ৫ হাজার ৫০০ টাকা।

কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য আনাস মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। জ্বালানি ও যাতায়াত বাবদ মাসে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। বাজারের জন্য ব্যয় হয় আরও ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। এসব খাতেই মাসে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো এবং জরুরি সময়ের জন্য টাকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন আনাস। কিন্তু নিয়মিত খরচ সামলাতে গিয়ে প্রায়ই সেই সঞ্চয় ভাঙতে হয়। মাসের ২৫ তারিখের আগেই অনেক সময় তার হাতে টাকা থাকে না। তখন বাকি দিনগুলো চালাতে মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন। তিন মাসের এসব ঋণ পরিশোধ করতে সুদও দিতে হয়। পরের মাসে বেতন পাওয়ার পর ঋণ শোধ করতে গিয়ে আবারও টান পড়ে সংসারের বাজেটে।

আনাস গণমাধ্যমকে বলেন, "প্রতিদিনই খরচ বাড়ছে, কিন্তু বেতন বাড়ছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে হয়তো ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বেতন বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া যায় না।"

একই সমস্যায় পড়ছেন আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী নিলয়। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "খরচ এত দ্রুত বাড়ছে যে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি কাজ করার মতো সময় বা সুযোগ খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয়।"

আনাস ও নিলয়ের মতো ঢাকার অনেক বেতনভোগী মানুষের জন্যই এখন সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সঞ্চয় কমছে, আবার কারও কারও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণ নিতে হচ্ছে।

বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, কমছে স্বস্তি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগের ১২ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর আগের ১২ মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ অবশ্য পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ, আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষকে এখনো আগের চেয়ে বেশি দামেই পণ্য ও সেবা কিনতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের সম্মানসূচক গবেষণা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বুঝতে হলে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সিদ্ধান্তগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, "যুক্তরাজ্য ও ভারতের মতো দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ যথেষ্ট কঠোরভাবে বা সঠিক সময়ে মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিকভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া এবং সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়েছে।"

মাহতাব উদ্দিনের মতে, দুর্বল কর আদায়ব্যবস্থা এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল ব্যয় সরকারের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। এসব কাঠামোগত কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের সংসার খরচেও।

খাবার ও শিক্ষার খরচ কমাচ্ছে পরিবার

মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়।

মাহতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, "পণ্যের দাম বাড়লে এবং প্রকৃত মজুরি সেই হারে না বাড়লে মানুষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিবারগুলো মাছ, মাংস বা ফল কেনা বন্ধ করে দিতে পারে। তারা কম পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে। এমনকি সন্তানের শিক্ষার খরচও কমিয়ে দিতে পারে।"

এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদেও পড়তে পারে। কম পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষার খরচ কমানো এবং সঞ্চয়ের সুযোগ হারানোর কারণে পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক উন্নতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

যদিও সবার বেতন ও খরচের ধরন এক নয়, তবু এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, গড়ে মজুরি বৃদ্ধির হার পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে আগের মতো খরচ চালানো ও সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ঋণ শোধ করতেই শেষ হচ্ছে পরের মাসের বেতন।

জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ শুধু চাকরিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াত ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে হিসাব করতে হচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মোটরসাইকেলে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২০০ টাকার জ্বালানি খরচ করেন। অন্যদিকে, মেট্রোরেলে যাওয়া-আসায় তার ব্যয় হয় ২৪০ টাকা। ফলে কোন মাধ্যমে যাতায়াত করবেন, তা ঠিক করার আগেও তাকে খরচের হিসাব করতে হয়।

মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, "বন্ধুদের অনেকেই মাসের শেষ দিকে টাকা ধার করেন। বেতন পাওয়ার পর সেই টাকা শোধ করেন। এতে পরের মাসের শুরুতেই আবার টাকার সংকট তৈরি হয়। তখন নতুন করে ঋণ নিতে হয়। এভাবে বারবার ঋণ নিয়ে চলতে গিয়ে তারা একটি চক্রে আটকে পড়ছেন।"

মাহতাব উদ্দিনের মতে, শ্রমিকদের সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় বেতন বাড়ানোর দাবি জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "যুক্তরাজ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেলকর্মীরা সংগঠিতভাবে আন্দোলন করে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে অনেক কর্মী, এমনকি দাপ্তরিক কাজ করা কর্মীদেরও একই ধরনের দর-কষাকষির ক্ষমতা নেই। শ্রমিকের চাহিদার তুলনায় শ্রমের জোগান বেশি হলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বাড়ানোর দাবি আদায় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।"

শুধু খরচ কমিয়ে কি সংকট কাটবে?

সংসারের বাজেটে চাপ তৈরি হওয়ার পেছনে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি ছোট ছোট ব্যয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। রেস্তোরাঁয় খাওয়া, ঘোরাঘুরি, অনলাইনে কেনাকাটা কিংবা শখের পেছনে নিয়মিত খরচ করলে মাস শেষে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা খরচ হলেও মাস শেষে তা দাঁড়ায় ৩ হাজার টাকা।

তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোই এই সংকটের একমাত্র সমাধান নয়। অনেকের জন্য বাড়তি আয় করার সুযোগ খুঁজে পাওয়াও কঠিন। কারণ, উপযুক্ত চাকরির সুযোগ সীমিত।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বাংলাদেশে মোট শ্রমের চাহিদা ২ শতাংশের সমপরিমাণ চাপের মুখে পড়তে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং শ্রমের চাহিদায় সম্ভাব্য পরিবর্তন—সব মিলিয়ে অনেক মানুষের জন্য আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বাজেট ও সঞ্চয়ে মিলতে পারে কিছুটা স্বস্তি।

ঢাকার সাংবাদিক মুমিতুল মিম্মা গণমাধ্যমকে জানান, নিজের খরচের হিসাব লিখে রাখার অভ্যাস তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, তার টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, "আগে আমি হিসাব না করেই খরচ করতাম। মাসের মাঝামাঝি সময়েই টাকার সংকটে পড়তাম। তাই খরচের একটি ডায়েরি রাখা শুরু করি। যাতায়াতের ভাড়া থেকে শুরু করে এক কাপ চায়ের খরচও সেখানে লিখে রাখতাম। এতে বুঝতে পেরেছি, আমার টাকা কোথায় যাচ্ছে। একই সঙ্গে খরচের পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে।"

খরচের হিসাব রাখলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চিহ্নিত করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট তৈরি করা সহজ হয়। বেতন পাওয়ার পরপরই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখাও কাজে আসতে পারে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা তহবিল গড়ে তুললে হঠাৎ খরচের সময় ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুরা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, "জীবনযাত্রার ব্যয় যেমনই হোক, নিজের আয়ের মধ্যে খরচ সামলানোও একটি দক্ষতা। বর্তমানের উচ্চমূল্যের মধ্যেও অনেক মানুষ আপনার আয়ের চেয়ে অনেক কম আয় করে সংসার চালাচ্ছেন।"

তিনি মাসের শুরু থেকেই সঞ্চয় করা এবং প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে খরচের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। তার মতে, মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প বা পেনশনভিত্তিক আমানত প্রকল্পের মতো ব্যবস্থায় টাকা জমা রাখলে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে আলাদা তহবিল থাকলেও হঠাৎ খরচের চাপ সামলানো সহজ হয়।

তবে যাদের আয়ের প্রায় পুরোটাই খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে যায়, তাদের পক্ষে সঞ্চয় করা কঠিন। আয় দিয়ে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোই সম্ভব না হলে শুধু বাজেট তৈরি করে সংকট কাটানো যায় না। তাই ব্যক্তিগত খরচের হিসাব রাখার পাশাপাশি আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করাও জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ: বহিরাগতদেরকে অবিলম্বে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ: বহিরাগতদেরকে অবিলম্বে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার নির্দেশ

আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভোটের পরিবেশকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করে অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে সংস্থাটি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) কে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের এই উপ-নির্বাচন। নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আরও ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু করে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।

ইসি জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশন থেকে বৈধ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ওই নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বা নিবন্ধিত ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না।

চিঠিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত এই সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপ-নির্বাচনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। এলাকা জুড়ে বহিরাগতদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, মোট মৃত ১,২২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, মোট মৃত ১,২২৭

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে, এক হাজার ৩৫৬ জন হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হাম সংক্রান্ত বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন, সিলেটে একজন, চট্টগ্রামে দুইজন এবং ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২৭ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া যাওয়ার ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬ জন। ফলে মোট নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ জনে।

গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে, হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%