০৩:৫৮ পি.এম
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জানিয়েছেন, গত দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আগে নিজেদের ঘর পরিস্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, পুলিশের যানবাহনের সংকট দূর করতে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ এবং এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
আইজিপি বলেন, "গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ অফিসারকে, পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি এই মাদকের কারণে। আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।"
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিন দ্বীপ ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে, আরও যেসব সিদ্ধান্ত
তিনি আরও জানান, পুলিশ বাহিনীকে অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল এবং যারা বাহিনীকে দুর্বল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মানবিক ও বন্ধুসুলভ পুলিশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং জনগণের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনের চাহিদার তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার গাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া আট থেকে ২০ বছর বয়সী পুরোনো গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার জন্য নতুন একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যা গত সপ্তাহে অনুমোদন পেয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে অনেক বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে: স্পিকার
আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে। তিনি বলেন, জনবলের ঘাটতি একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়, তাই প্রতি বছর ন্যূনতম ১৫ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনবলের সংকট কাটিয়ে পুলিশের লজিস্টিক সহায়তা আরও শক্তিশালী করা হবে।
আইজিপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মাদক, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা, প্রতি বছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বেকারত্ব মোকাবিলা, তরুণদের পুনর্বাসন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সকলকে কাজ করতে হবে।
আইজিপি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ দমন, সামাজিক সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ডাকাতির চেষ্টা, ৩৪ মামলার আসামি গ্রেফতার
কিশোর গ্যাং নির্মূলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।
আইজিপি স্থানীয় মানুষের কাছে অপরাধের তথ্য অনেক সময় পুলিশের চেয়েও বেশি থাকে উল্লেখ করে বলেন, ইউনিয়নের কোন পাড়ায় কে মাদক সেবন করে, কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিংবা কোথায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে—এসব তথ্য স্থানীয় মানুষ অনেক সময় পুলিশের চেয়েও ভালো জানেন। তাই পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আইজিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "প্রতিটা জায়গায় ষড়যন্ত্র। আমি বুঝি, আমার বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এসেই বলেছে, প্ল্যান। এটার ভেতরে আপনারা ষড়যন্ত্র খুঁজেন কেন?"
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, মোট মৃত ১,২২৭
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে চায়, তাদের সঙ্গে আঁতাতকারীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না।
সবশেষে, জনগণের সহযোগিতা কামনা করে আইজিপি বলেন, পুলিশকে শক্তিশালী করতে না পারলে কেউই দিন-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন না। জনগণের সার্বিক সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন