ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরিচ্ছন্ন নগরীর পথে রংপুর সিটি করপোরেশন: চ্যালেঞ্জ কতটা?


পরিচ্ছন্ন নগরীর পথে রংপুর সিটি করপোরেশন: চ্যালেঞ্জ কতটা?

পরিচ্ছন্ন নগরীর প্রত্যাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগের মাধ্যমে। তবে, হকারদের জীবিকা, ক্রেতাদের প্রয়োজন এবং নগরীর শৃঙ্খলা - এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরের প্রেক্ষাপটে নগরী নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছিল। সড়ক ও ফুটপাত পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগের ফলে নগরীর পরিচিত দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে হকারদের দখলে থাকা ফুটপাতগুলোকে দখলমুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সফর শেষ হওয়ার পরও এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে- রংপুর কি সত্যিই হকারমুক্ত, পরিচ্ছন্ন নগরীর পথে এগোচ্ছে, নাকি এই পরিবর্তন কেবল বিশেষ উপলক্ষকেন্দ্রিক?

প্রধানমন্ত্রীর সফরের চার দিন পরেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার প্রচেষ্টা দৃশ্যমান। রংপুর সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন একত্রে কাজ করছে। অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান না বসানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ফুটপাত পথচারীদের জন্য, সেখানে দোকান বসালে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং প্রতিবন্ধীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় পথচারীদের মূল সড়কে নামতে বাধ্য হতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং যানজট সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী আটক

তবে, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার এই উদ্যোগের আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে। ফুটপাতের ছোট দোকানগুলো অনেক মানুষের জীবিকার উৎস। পুঁজি কম, স্থায়ী দোকান ভাড়া নেওয়ার সামর্থ্য নেই এমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকে ফুটপাতে পণ্য বিক্রি করে পরিবার চালান। অন্যদিকে, নগরীর নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের একটি অংশও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য এসব দোকানের ওপর নির্ভরশীল। তুলনামূলক কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন জানিয়েছেন যে, নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তিনি বলেছেন। তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে তিনি বদ্ধপরিকর।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিচ্ছন্নতা এবং জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে, এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নির্ধারিত সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ।

প্রথমত, নগরীতে প্রকৃত হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। কারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন, কারা সম্পূর্ণভাবে এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং কারা অন্য কোথাও ব্যবসা পরিচালনার সামর্থ্য রাখেন, তা যাচাই করা জরুরি। এই তালিকার ভিত্তিতে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবসাস্থল নির্ধারণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: সাজেকবাসীর দাবিতে বাঘাইছড়িতে মশাল মিছিল, হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সমর্থন

দ্বিতীয়ত, নগরীর উপযুক্ত স্থানে নির্দিষ্ট হকার জোন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার বাজার গড়ে তোলা যেতে পারে। সেখানে স্বল্প ভাড়ায় দোকান বসানোর সুযোগ, নির্ধারিত ব্যবসার সময় এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নিয়ম থাকবে। জায়গার সংকট থাকলে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে। তবে বিকল্প স্থান এমন হতে হবে, যেখানে ক্রেতাদের যাতায়াত রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা বাস্তবে বিক্রির সুযোগ পান।

তৃতীয়ত, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, স্থায়ী দোকানমালিক কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ফুটপাত দখল করে রাখলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু ক্ষুদ্র হকারদের উচ্ছেদ করে অন্যদের দখল বজায় থাকলে নগরবাসীর কাছে উদ্যোগটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

চতুর্থত, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কোনো সফর, উৎসব কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ফুটপাত পরিষ্কার করা এবং পরে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া, এমন চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য সিটি করপোরেশন, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে স্থায়ী তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকলে ফুটপাত পুনর্দখলের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হকারদের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পথচারীদের অধিকার এবং নগরীর শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। কারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কোনো সাময়িক সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়; এটি নাগরিক অধিকার ও নিরাপদ চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আরও পড়ুন: বদরগঞ্জে আন্তঃনগর ট্রেনের চারটি চাকা লাইনচ্যুত, চলাচল বন্ধ

রংপুরের সামনে এখন সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তৈরি হওয়া পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগকে স্থায়ী নগর ব্যবস্থাপনায় রূপ দেওয়ার। এর জন্য শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, প্রয়োজন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি। যদিও সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডনের নগর পরিচ্ছন্নতার এ কার্যক্রম টেকসই করতে নেয়া নানা পরিকল্পনা দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনা ভেঙে নতুন রংপুরে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী আটক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ফারজানা ইসলাম নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লার সাইনবোর্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়, যা তার স্বামীর।

ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় নিহতের স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর আগে ফারজানার বিয়ে হয় নাজমুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে ফারজানাকে নির্যাতন করা হতে থাকে। নাজমুল প্রথমে বেকার ছিলেন, পরে চাকরি পাওয়ার পর অর্থের চাহিদা বাড়াতে থাকেন। এক পর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেয়ার পাশাপাশি ফারজানার উপর নির্যাতনও চলতে থাকে।

তিনি আরও জানান, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ফারজানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। সম্প্রতি দুই পরিবারের সমঝোতায় মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হলে ফারজানা আবার স্বামীর ভাড়া বাসায় ফিরে যান।

আরিফুল অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় ফারজানার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল এবং তখন তার কথাবার্তায় কিছু অস্বাভাবিক মনে হয়নি। এরপর রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে।

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং স্বামীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। পরবর্তীতে সে অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, পারিবারিক কলহ থেকে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্বামীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%