প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ অক্টোবর, যা সাত দফা দাবিতে পরিচালিত হবে। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। কর্মসূচিটি বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরে পাঁচটি পথসভা এবং কুষ্টিয়ায় একটি জনসভার মাধ্যমে শেষ হবে।
খুলনা প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজকরা সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের রুট, পথসভা ও সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মাওলানা মাহফুজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, লংমার্চের গাড়িবহর ঢাকা থেকে যাত্রা করে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ পার হয়ে বাগেরহাটের কাটাখালীতে প্রথম পথসভায় অংশ নেবে। এরপর খুলনার শিববাড়ী মোড়, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড এবং যশোরের মুরলী মোড়ে পর্যায়ক্রমে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। গাড়িবহর সেখান থেকে ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে, যেখানে কর্মসূচি শেষ হবে জনসভার মাধ্যমে।
জামায়াত ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কারের আইনি পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হবে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা এবং একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কার, বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংকট নিরসন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, ঢাকা থেকে আসা লংমার্চের গাড়িবহরে এক হাজারের বেশি যানবাহন যুক্ত হবে বলে আশা করছেন তারা। খুলনার শিববাড়ী মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভা সফল করতে ১৭টি উপকমিটি কাজ করছে। মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচার, মাইকিং ও গণসংযোগ চলছে। প্রচারের অংশ হিসেবে ২০টি তোরণও নির্মাণ করা হয়েছে।
যানবাহন রাখার জন্য জোড়াগেট, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও ময়ূরী আবাসিক এলাকায় পার্কিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পথসভাস্থলে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনের কাছ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান আয়োজকরা।
কর্মসূচির কারণে নগরবাসী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ হতে পারে বলে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন জোটের নেতারা। লংমার্চ ও পথসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন, জাগপার সভাপতি খান মো. রাশেদ, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, এনসিপির ফয়জুল্লাহ ইকবাল শাকিল, ডা. মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী, আব্দুল খালেক শিকদার, খালিদ সাইফুল্লাহ, মো. মনির হোসেন, গাজী শরিফুল ইসলাম (ওহিদ), নূরুল আলম নূর, মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজী (আরিয়ান), মোছাম্মদ জাকিয়া আক্তার প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন