মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৫ পি.এম
নিউইয়র্কে বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য। এই উপলক্ষে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে তাকে ব্যাপক অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন দলীয় নেতারা।
সভাটি মাওলানা আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় বলা হয়, "কারও উসকানিতে উত্তেজিত না হয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে হবে।"
এছাড়া সভায় জানানো হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। ওই দিনও তার ভাষণকে স্বাগত জানাতে জাতিসংঘের সামনে উপস্থিত থাকবেন নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন।
বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান সাঈদ, সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রইচ উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক মহিলা সম্পাদক সৈয়দা মাহমুদা আক্তার শিরিন, বিএনপি নেতা কাজী আসাদউজ্জামান, অঙ্গরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, বদরুল হক আজাদ, হুমায়ুন কবীর, দেওয়ান কাউসার, আশরাফ হোসেন, আনিসুর রহমান, এবাদ চৌধুরী, নীরা রাব্বানী, মাহবুবুল হক, এম এ কাইয়ুম, জিয়াউর রহমান মিলন, খন্দকার সাইফুর রহমান সাবু, সাইফুল আলম অপু, রানা চৌধুরী, বাফেলো বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা সিরাজদৌলাহ বাবুল, সহসভাপতি মোহাম্মদ সোহেল হেলাল, উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী মইনুদ্দিন ও আল-আমিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মায়ের দিক থেকে জার্মান-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান যেন উড়ছেন। চলতি মাসে ১৭ বছরে পা দিতে যাওয়া এই মিডফিল্ডার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন।
ফিলাডেলফিয়ার হয়ে সান ডিয়েগো এফসির বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে সুলিভান জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ম্যাচডের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬ বছর ৩৫১ দিন বয়সে এই পুরস্কার জিতে এমএলএস ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের কীর্তি গড়েছেন এই তরুণ।
এমএলএসে এবারই প্রথম এক ম্যাচে দুই গোল করলেন সুলিভান। শুধু তাই নয়, শেষ সাত ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত একটি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে কোনো কিশোর ফুটবলারের টানা গোল-অবদানের এটিই দীর্ঘতম ধারা।
চলতি মৌসুমে সুলিভানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বদলে গেছে ফিলাডেলফিয়ার ভাগ্যও। বিশ্বকাপের বিরতির পর টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত দলটি জয় ৮টি, ড্র ২টি। একসময় ইস্টার্ন কনফারেন্সের তলানিতে থাকা ফিলাডেলফিয়া এখন উঠে এসেছে সপ্তম স্থানে, জায়গা করে নিয়েছে অডি এমএলএস কাপ প্লে-অফের অবস্থানে।
এ মৌসুমে সুলিভানের গোল-অবদান দাঁড়িয়েছে ১৭টি ৬ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট। এমএলএস ইতিহাসে কোনো কিশোরের এক মৌসুমে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এটি যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবদান।
সান ডিয়েগোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে দুর্দান্ত ব্যাকহিল ফ্লিকে দলকে এগিয়ে দেন সুলিভান। এরপর ৬২তম মিনিটে বক্সের ভেতর বল পেয়ে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। মাত্র পাঁচ মিনিট পর ডিফেন্সচেরা চিপ পাসে ফ্রাঙ্কি ওয়েস্টফিল্ডকে খুঁজে নেন সুলিভান। তাঁর সেই পাস থেকেই ব্রুনো দামিয়ানিকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ওয়েস্টফিল্ড।
পরে আনিবাল গোদোয়ের আত্মঘাতী গোল এবং মালিক জাকুপোভিচের লক্ষ্যভেদে ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে ফিলাডেলফিয়া।
ক্লাব ফুটবলে এমন দুর্দান্ত ফর্মের পর এখন সুলিভানের চোখ জাতীয় দলে। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন এই তরুণ। বিশ্বকাপের পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পেরুর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ম্যাচের দল ১৭ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করবেন পচেত্তিনো। সেখানে জায়গা করে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কাভান সুলিভান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণের ঘটনায় শহীদ হওয়া দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে তিনি তাদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন এবং আশ্বাস দেন যে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় তাদের পাশে থাকবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।" শোকসন্তপ্ত পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের দেখভালের দায়িত্বও পালন করবে।
পরে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের স্থায়ী ঠিকানায় পরিবারের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। তাদের স্ত্রীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সন্তানদের মাসিক ভাতা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহীদ হন সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক ও সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত।
সাক্ষাতে আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি, কন্যা ফাতেমা সিদ্দিকা, বাবা আব্দুল ওহাব ও মা পারভীন আক্তার উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মো. তাসনিম রিফায়াতের স্ত্রী মোসা. ফাহমিদা আফরিন, কন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা ও বাবা মো. আসাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক এবং শুল্ক ছাড় বা অব্যাহতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে, যা কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর প্রযোজ্য। নতুন তালিকায় মোটরবোট এবং বিভিন্ন ধরনের পনির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া, টয়লেট পেপার, মাছ ধরার ছিপের কিছু যন্ত্রাংশ এবং সিমেন্টকে ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে, তখন কানাডীয় পণ্যে নতুন শুল্ক কিছু মানুষের জন্য ব্যয় বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন সংশোধনের ফলে কানাডা থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের তালিকায় পরিবর্তন এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশের মোট বাণিজ্যের তুলনায় এই শুল্কের আওতায় পড়া পণ্যের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।
নতুন শুল্কের আওতায় আসা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পনির, মোটরবোট, কাগজ, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতজাত পণ্য। এছাড়া, গদি এবং নির্দিষ্ট কিছু আসবাবও তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, টয়লেট পেপার, ফেসিয়াল টিস্যু, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং চার লিটারের বেশি ধারণক্ষমতার পাত্রে থাকা হুইস্কি ৫০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।
রাস্তার বরফ গলাতে ব্যবহৃত রোড সল্ট বা লবণ এবং নির্মাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ সিমেন্টকেও শুল্কের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর সুসান কলিন্স জানিয়েছেন, রাস্তার লবণ ও সিমেন্টের ওপর শুল্কের প্রভাব তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছিলেন। আগামী নির্বাচনে তার পুনর্নির্বাচন রিপাবলিকানদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন শুল্ক উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আগস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এর পাল্টা জবাবে কানাডাও প্রায় একই মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।
কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের জবাবে গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস আরও কঠোর অবস্থান নেয়। তারা কানাডার কিছু অ্যালকোহলজাত পানীয় ও দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়, যা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। একই সঙ্গে কানাডীয় পণ্যের শুল্ক তালিকাতেও পরিবর্তন আনা হয়।
সর্বশেষ শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করেছেন, যা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত একটি আইন।
নতুন শুল্ক এমন কিছু পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত। এসব পণ্যের ওপর ট্রাম্পের আগে থেকে আরোপ করা বিভিন্ন খাতভিত্তিক শুল্কও বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এখানেই শেষ নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর বর্তমানে থাকা ২৫ শতাংশ শুল্ক আগামী জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়ে ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছিলেন, তা এখনো বহাল রয়েছে।
ফলে, কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের পাশাপাশি দুই দেশের গাড়ি বাণিজ্য নিয়েও আগামীতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত হচ্ছে পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম। এর ফলে লোডশেডিংয়ের সমস্যার পরিমাণ কমেছে এবং বিদ্যুৎ বিলও পাঁচ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৮টা বাজতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে কিছু কক্ষে ফ্যান চলছে, কোথাও কম্পিউটার চলছে, আবার একটি কক্ষে এসি চলছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে (জেবি স্কুল) গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটির ছাদে সৌর প্যানেলের সারি বসানো হয়েছে। এই ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দিয়ে ১০০টিরও বেশি ফ্যান, প্রায় ১২০টি বাতি, বেশ কয়েকটি কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরিচালিত হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পাঠদান চলছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ে ৫৮ জন শিক্ষক এবং ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন। শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও প্রশাসনিক কক্ষসহ প্রায় ৪৫টি কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এসব কক্ষে ফ্যান ও বাতি রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একটি এসি এবং হিসাব শাখায় দুটি কম্পিউটারও সৌরবিদ্যুতে চলে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া জানিয়েছেন, মিরসরাইয়ে একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে পারিবারিক এক একর জমিতে ‘শিশু কানন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভিভাবকদের অনুরোধ ও এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, "এখন বৈরী আবহাওয়া ছাড়া সব সময় প্রয়োজনমতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আগে আমাদের মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন তা ৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ না থাকলে বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী আমাদের প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিল দিতে হতো।"
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক টুইঙ্কেল বড়ুয়া জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় গরমের মধ্যে ক্লাস নেওয়া সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারছে। চলতি বছর বিদ্যালয়টি মিরসরাই উপজেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় সেরা ফলাফল অর্জন করেছে।
স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি জানান, "বিদ্যুৎ আছে নাকি নেই আমরা সেটা উপলব্ধি করতেই পারি না, স্কুলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা পাই সৌরপ্যানেল থেকে। এতে আমাদের স্বাভাবিক শ্রেণিকার্যক্রমের জন্য বেশ ভালো ব্যাপার।"
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বিদ্যালয়টির এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সাশ্রয়ী এবং স্বস্তিদায়ক। সরকারও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, "পুরো বিদ্যালয়কে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং তাদের শিক্ষার্থীরাও বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ