প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত হচ্ছে পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম। এর ফলে লোডশেডিংয়ের সমস্যার পরিমাণ কমেছে এবং বিদ্যুৎ বিলও পাঁচ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৮টা বাজতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে কিছু কক্ষে ফ্যান চলছে, কোথাও কম্পিউটার চলছে, আবার একটি কক্ষে এসি চলছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে (জেবি স্কুল) গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটির ছাদে সৌর প্যানেলের সারি বসানো হয়েছে। এই ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দিয়ে ১০০টিরও বেশি ফ্যান, প্রায় ১২০টি বাতি, বেশ কয়েকটি কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরিচালিত হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পাঠদান চলছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ে ৫৮ জন শিক্ষক এবং ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন। শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও প্রশাসনিক কক্ষসহ প্রায় ৪৫টি কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এসব কক্ষে ফ্যান ও বাতি রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একটি এসি এবং হিসাব শাখায় দুটি কম্পিউটারও সৌরবিদ্যুতে চলে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া জানিয়েছেন, মিরসরাইয়ে একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে পারিবারিক এক একর জমিতে ‘শিশু কানন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভিভাবকদের অনুরোধ ও এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, "এখন বৈরী আবহাওয়া ছাড়া সব সময় প্রয়োজনমতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আগে আমাদের মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন তা ৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ না থাকলে বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী আমাদের প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিল দিতে হতো।"
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক টুইঙ্কেল বড়ুয়া জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় গরমের মধ্যে ক্লাস নেওয়া সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারছে। চলতি বছর বিদ্যালয়টি মিরসরাই উপজেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় সেরা ফলাফল অর্জন করেছে।
স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি জানান, "বিদ্যুৎ আছে নাকি নেই আমরা সেটা উপলব্ধি করতেই পারি না, স্কুলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা পাই সৌরপ্যানেল থেকে। এতে আমাদের স্বাভাবিক শ্রেণিকার্যক্রমের জন্য বেশ ভালো ব্যাপার।"
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বিদ্যালয়টির এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সাশ্রয়ী এবং স্বস্তিদায়ক। সরকারও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, "পুরো বিদ্যালয়কে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং তাদের শিক্ষার্থীরাও বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন