মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৭ পি.এম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত হচ্ছে পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম। এর ফলে লোডশেডিংয়ের সমস্যার পরিমাণ কমেছে এবং বিদ্যুৎ বিলও পাঁচ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৮টা বাজতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে কিছু কক্ষে ফ্যান চলছে, কোথাও কম্পিউটার চলছে, আবার একটি কক্ষে এসি চলছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে (জেবি স্কুল) গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটির ছাদে সৌর প্যানেলের সারি বসানো হয়েছে। এই ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দিয়ে ১০০টিরও বেশি ফ্যান, প্রায় ১২০টি বাতি, বেশ কয়েকটি কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরিচালিত হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পাঠদান চলছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ে ৫৮ জন শিক্ষক এবং ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন। শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও প্রশাসনিক কক্ষসহ প্রায় ৪৫টি কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এসব কক্ষে ফ্যান ও বাতি রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একটি এসি এবং হিসাব শাখায় দুটি কম্পিউটারও সৌরবিদ্যুতে চলে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া জানিয়েছেন, মিরসরাইয়ে একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে পারিবারিক এক একর জমিতে ‘শিশু কানন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভিভাবকদের অনুরোধ ও এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, "এখন বৈরী আবহাওয়া ছাড়া সব সময় প্রয়োজনমতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আগে আমাদের মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন তা ৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ না থাকলে বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী আমাদের প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিল দিতে হতো।"
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক টুইঙ্কেল বড়ুয়া জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় গরমের মধ্যে ক্লাস নেওয়া সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারছে। চলতি বছর বিদ্যালয়টি মিরসরাই উপজেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় সেরা ফলাফল অর্জন করেছে।
স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি জানান, "বিদ্যুৎ আছে নাকি নেই আমরা সেটা উপলব্ধি করতেই পারি না, স্কুলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা পাই সৌরপ্যানেল থেকে। এতে আমাদের স্বাভাবিক শ্রেণিকার্যক্রমের জন্য বেশ ভালো ব্যাপার।"
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বিদ্যালয়টির এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সাশ্রয়ী এবং স্বস্তিদায়ক। সরকারও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, "পুরো বিদ্যালয়কে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং তাদের শিক্ষার্থীরাও বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার বিআরটিসি বাসের চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর এলাকার লস্কর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শুভঙ্কর মন্ডল (৩০) খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশপুর গ্রামের দুর্গাপদ মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসির একটি বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে যাওয়া শুভঙ্করকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, শুভঙ্কর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে বংশীপুর এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বয়স ৩৭ বছর অতিক্রম করেছে। তবে স্টিভেন স্মিথ ব্যাট হাতে এখনও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হচ্ছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষের দিকে এসে বিদায়ের চিন্তা যে তার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটি এবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ব্যাটার।
আগামী অ্যাশেজ সিরিজে তিনি খেলবেন কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের দিকে তাকিয়ে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।
‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্মিথ বলেন, "সেখানে (আগামী অ্যাশেজে) থাকব কি না, তা নিয়ে নিজেই নিশ্চিত নই। এখন সিরিজ ধরে ধরে ভাবছি, বেশ কিছুদিন ধরে এভাবেই চলছে। আমার জন্য ওই সময়টা এখনো অনেক দূরে। ইংল্যান্ডে সিরিজ জেতার স্বাদ পেলে তা ভালোই লাগবে। তবে এটা সত্যি বাস্তবে হয় কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।"
টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সাদা বলের ক্রিকেটে আরও কিছুদিন খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন স্মিথ। বিশেষ করে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের পুনঃপ্রবর্তন তাকে অনুপ্রাণিত করছে।
১২৮ বছর পর অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে। সেই আসরে খেলার স্বপ্ন দেখছেন স্মিথ। এ জন্য তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান। ইউরোপিয়ান বিভিন্ন লিগে খেলার অন্যতম কারণও হলো যতটা সম্ভব টি-টোয়েন্টির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা।
স্মিথ বলেন, "এই মুহূর্তে অলিম্পিকই হয়তো একমাত্র জায়গা, যার অংশ হতে চেষ্টা করতে চাই। ইউরোপিয়ান লিগে খেলার অন্যতম প্রধান কারণও যতটা সম্ভব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া।"
তবে ক্রিকেট ছাড়ার পর কী করবেন, সেটি এখনও ঠিক করেননি অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটার। খেলা ছাড়ার পরের জীবন নিয়ে তার ভাবনা এখনও পরিষ্কার নয়।
স্মিথ বলেন, "এখনো ভাবি যে আরও কিছুদিন টি-টোয়েন্টি খেলে যেতে পারব। খেলা ছাড়ার পর আমার ভবিষ্যৎ কী? নিশ্চিত নই। তবে আশা করছি, খেলোয়াড় হিসেবে আরও কিছুটা সময় বাকি আছে। খেলায় অনেক কিছু অর্জন করেছি। গত ১৫ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ের এই পথচলাটা দুর্দান্ত ছিল।"
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্মিথ এখন পর্যন্ত ১২৫টি টেস্ট খেলেছেন। ৩৭ সেঞ্চুরি ও ৪৫ ফিফটিতে তার সংগ্রহ ১০ হাজার ৯২০ রান। টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ৫৬.০০। বয়স বাড়লেও পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পতন না ঘটায় তিনি এখনও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম ২০২৭-এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। আবেদন করার জন্য কোনো ফি প্রদান করতে হবে না।
স্নাতক এবং এমফিল ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ১৬ বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরাও সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন।
হংকংয়ের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ফেলোশিপের আওতায় পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা সহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন করা যাবে।
ফেলোশিপে যেসব সুবিধা
ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে প্রায় ৪৩ হাজার ৬৯০ মার্কিন ডলার বৃত্তি পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৫৪ লাখ টাকা।
এছাড়া, সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত প্রতিবছর সম্মেলন এবং গবেষণাসংক্রান্ত ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার প্রদান করা হবে।
পিএইচডি সম্পন্ন করতে যদি তিন বছরের বেশি সময় লাগে, তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
যে আট বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে
হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিমের আওতায় যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে, সেগুলো হলো-
সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং
হংকং ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটি
লিংনান ইউনিভার্সিটি
দ্য চায়নিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং
দ্য এডুকেশন ইউনিভার্সিটি অব হংকং
দ্য হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি
দ্য হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকং
যেসব বিষয়ে পিএইচডি করা যাবে
এই ফেলোশিপের আওতায় বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডির জন্য আবেদন করা যাবে।
যেভাবে প্রার্থী বাছাই
ফেলোশিপের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের সময় কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে-
একাডেমিক ফলাফল
গবেষণার দক্ষতা ও সম্ভাবনা
যোগাযোগ ও আন্তব্যক্তিক দক্ষতা
নেতৃত্বের গুণাবলি
আবেদন করবেন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের প্রথমে হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিমের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করতে হবে। প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীকে একটি HKPFS Reference Number প্রদান করা হবে।
এরপর ওই নম্বর ব্যবহার করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে।
একজন আবেদনকারী সর্বাধিক দুটি প্রোগ্রাম বা বিভাগ বেছে নিতে পারবেন। চাইলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রোগ্রাম অথবা দুটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে।
প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১ ডিসেম্বর ২০২৬, হংকং সময় দুপুর ১২টা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দিতে হবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনপ্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে মোবাইল ফোনের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দোকানমালিকের বিরুদ্ধে। যুবকের পরিবারের অভিযোগ, তাকে একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে এক ইউনিট রক্ত নেওয়ার পর পাঁচ দিন ধরে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও জোর করে কাজ করানো হয়।
ঘটনাটি লখনউয়ের নিগোহা এলাকায় ঘটেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে নিগোহার একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ রুপিতে একটি মোবাইল ফোন কেনেন ওই যুবক। ২ হাজার ৭৯৯ রুপি করে ১২টি কিস্তিতে ফোনটির দাম পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে প্রথম মাসের কিস্তি বাকি পড়ার পর দোকানমালিক কয়েকজন লোককে তার বাড়িতে পাঠান। অভিযোগ করা হচ্ছে, তারা যুবকের মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়।
এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর, দুজন ব্যক্তি যুবকের বাড়িতে গিয়ে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যান বলে পরিবারের অভিযোগ। যুবকের দাবি, তাকে লখনউয়ের একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোর করে তার শরীর থেকে এক ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পরে তাকে সদর এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
যুবকের অভিযোগ, ওই বাড়িতে তাকে মারধর করা হতো এবং জোর করে বিভিন্ন কাজ করানো হতো। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে লখনউয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ দিন পর ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ